২০ আগস্ট ২০১৯

তুরস্কের অর্থনীতি ধ্বংস করার হুমকি ট্রাম্পের

ট্রাম্প ও এরদোগান - সংগৃহীত

মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর সিরিয়ার কুর্দি বাহিনীর ও আক্রমণ করলে ‘তুরস্ককে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস’ করে দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সোমবার টুইটারে দেয়া পোস্টে তিনি এ হুমকি দেন। এ হুমকি দেয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প এ কথাও বলেছেন, তিনি চান না কুর্দিরা তুরস্ককে উসকানি দান করুক।
তিনি বলেন, সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেবে। টুইটারে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সিরিয়ায় আইএসের খিলাফত সামান্যই অবশিষ্ট রয়েছে। ফলে দেশটি থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তুরস্ক যদি কুর্দিদের ওপর আঘাত হানে তাহলে তাদের অর্থনীতি ধ্বংস করে দেয়া হবে। তবে আমি চাই, কুর্দিরাও যেন তুরস্ককে উসকানি না দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশটির কোনো ন্যাটো মিত্রকে এ ধরনের হুঁশিয়ারি দেয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে (আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনী ও কুর্দি মিলিশিয়ারা একসাথে লড়াই করেছে। কিন্তু তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) জোটের বৃহত্তম শরিক কুর্দিদের পিপলস প্রটেকশন ইউনিটকে (ওয়াইপিজি) সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে। এ গোষ্ঠীটির প্রতি মার্কিন সমর্থন নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

গোষ্ঠীটিকে নির্মূল করার শপথ করেছেন। সিরিয়া থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পর কুর্দিদের ওপর তুরস্কের হামলার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে দেশটিকে হুঁশিয়ার করলেন ট্রাম্প। কিন্তু তুরস্ক ওয়াইপিজিকে আক্রমণ করলে দেশটির অর্থনীতি কিভাবে বিপর্যয়ের শিকার হতে পারে টুইটে তা পরিষ্কার করেননি ট্রাম্প; শুধু ‘২০ মাইলব্যাপী একটি নিরাপদ জোন’ গড়ে তোলা হবে জানিয়েছেন। সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে রাশিয়া, ইরান ও সিরিয়া সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে বলে মন্তব্য করে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের বাড়ি ফেরানোর এটাই সময় বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। গত মাসে সিরিয়া থেকে মার্কিন বাহিনীগুলোকে অবিলম্বে প্রত্যাহার শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। এই মার্কিন সৈন্যরা ওয়াইপিজির নেতৃত্বাধীন এসডিএফ জোটের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকায় মোতায়েন আছে।

ট্রাম্পের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইরত মার্কিন জোট মিত্ররা ক্ষুব্ধ হয়। দেশের ভেতরেও তার এ সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা হয়। রোববার টুইটে করা তার মন্তব্যের পরও ফের সমালোচনা হয়। সৌদি রাজপরিবারের প্রবীণ সদস্য প্রিন্স তুর্কি আল ফয়সাল বিবিসিকে বলেছেন, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে ‘নেতিবাচক ফলাফল’ হতে পারে, যার সুবিধা তুলবে ইরান, রাশিয়া ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। অন্য দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, অবশিষ্ট আইএস যোদ্ধাদের ওপর ‘নিকটবর্তী ঘাঁটি’ থেকে আক্রমণ চালানো যাবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও মন্তব্য করেন, তার দেশ সিরিয়া সীমান্ত নিয়ে তুরস্কের উদ্বেগের বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছে। দেশটি তার সীমান্ত ও জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে চায়। শনিবার আল আরাবিয়া টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিরিয়া থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা না হলে সশস্ত্র কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ওয়াইপিজির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাবে আঙ্কারা। তুর্কি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন তিনি। মওলুদ কাভুসোগলু বলেন, তুর্কিরা কুর্দিদের ওপর হত্যাকাণ্ড চালাবে এমন হাস্যকর অজুহাত দেখিয়ে যদি মার্কিন সেনা প্রত্যাহার বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে আমরা অভিযানের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করব। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আঙ্কারা নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হবে। আঙ্কারা ময়দানে ও আলোচনার টেবিলে দুই জায়গায়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সময়মতো সিদ্ধান্ত নেবো এবং এ জন্য কারো কাছ থেকে অনুমতি নেবো না।

হুমকি দিয়ে কিছুই হবে না : কাভুসোগলু
রয়টার্স জানায়, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু গতকাল সোমবার মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আঙ্কারাকে অর্থনৈতিক হুমকি দিয়ে কিছুই অর্জন করা সম্ভব নয় এবং কৌশলগত অংশীদারদের ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করাও উচিত নয়। আঙ্কারায় দেয়া এক ভাষণে তিনি আরো বলেছেন, সিরিয়া নিয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ টুইটগুলো অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সম্পর্কিত ছিল। টুইটে ট্রাম্প সিরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুর্দি মিলিশিয়াদের ওপর হামলা করলে তুরস্কের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার হুমকি দেন।


আরো সংবাদ

bedava internet