১৮ নভেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রযুক্তিতে মাল্টি-পারপাস হেলিকপ্টার বানালো তুরস্ক

নিজস্ব প্রযুক্তিতে মাল্টি-পারপাস হেলিকপ্টার বানালো তুরস্ক - সংগৃহীত

নিজস্ব প্রযুক্তিতে মাল্টি-পারপাস হেলিকপ্টার বানিয়েছে তুরস্ক। নিজেদের তৈরি মাল্টি-পারপাস হেলিকপ্টার-৬২৫ প্রথমবারের মতো আকাশে উড়েছে। সম্প্রতি দেশটির রাজধানী আঙ্কারায় এই উড্ডয়ন পরীক্ষা চালানো হয়। ।

মাল্টি-পারপোস হেলিকপ্টারটির নকশা প্রণয়ন ও উৎপাদনে রয়েছে টার্কিশ এয়ারক্রাফ্ট ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (টিএআই)। এই হেলিকপ্টারের নকশা প্রণয়ন এবং উৎপাদনে অবদান রাখায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন টার্কিশ ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (এসএসবি) প্রেসিডেন্ট ইসমাইল দেমির।

এসএসবি নিজেদের টুইটারে এক ঘোষণা বলেছে, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সেপ্টেম্বরেই টি-৬২৫ হেলিকপ্টারের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন হবে। সে অনুযায়ী ৬ সেপ্টেম্বর এই উড্ডয়ন সম্পন্ন হলো। গুরুত্বপূর্ণ এই অর্জনের জন্য এয়ারক্রাফ্ট ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনকে ধন্যবাদ জানাই।’

আনুষ্ঠানিক প্রথম উড্ডয়নের আগে গত ২ সেপ্টেম্বর টি-৬২৫ মাল্টিরোল হেলিকপ্টারের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় বলে জানিয়েছিল এসএসবি। আগামী ২০২১ সাল থেকে টি-৬২৫ মাল্টিরোল হেলিকপ্টারের ব্যাপক উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছে টিএআই।

সব ধরনের প্রতিকূল আবহাওয়ায় বহুমুখী অভিযানের চাহিদা মেটাতে পারে টি-৬২৫ মাল্টি-পারপোস হেলিকপ্টার। গত ২০১৩ সালে টিএআই এবং এসএসবি দেশীয় হেলিকপ্টার তৈরির এই প্রকল্প হাতে নেয়।

নিজস্ব প্রযুক্তিতেই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বানাচ্ছে তুরস্ক
ডেইলি সাবাহ, ১৮ জুলাই ২০১৮

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি দেশ নিজস্ব প্রযুক্তিতে যুদ্ধাস্ত্র তৈরিতে এগিয়ে যাচ্ছে। যার মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে তুরস্ক। দেশটি ইতিমধ্যেই নিজস্ব প্রযুক্তিতে বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি করেছে।

বর্তমানে তুরস্ক নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করছে যুদ্ধ বিমান। তুরস্কের প্রতিরক্ষা খাতের জাতীয় তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক কারখানায় এ বিমান তৈরি করা হচ্ছে। এটির এখনো কোনো নাম দেয়া হয়নি। আগামী ২০২৩ সালে এ বিমান আকাশে উড়বে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। 

তুরস্কে অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্টান বেকার মানিকা এর চিফ প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মকর্তা সেলকুক কেরাক্তার বলেন, তুরস্কের যুদ্ধবিমানটি নির্মানের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি ২০২৩ সালে এটি ব্যবহার করা যাবে।

যুদ্ধাস্ত্র মানেই ইউরোপ বা আমেরিকায় তৈরি, অত্যধুনিক ও  দামি প্রযুক্তিতে তৈরি সরঞ্জাম। উন্নত দেশগুলো প্রতিবছর কোটি কোটি ডলারের যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি করে উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশগুলোর কাছে। বিশ্বের খুব কম দেশই অস্ত্র তৈরি করে। আর আধুনিক অস্ত্র তৈরিকারী দেশের সংখ্যা একেবারেই কম।

তুরস্ক শিগগিরই নিজস্ব ইঞ্জিন উৎপাদন করবে : এরদোগান
হুররিয়াত ডেইলি নিউজ , ১৫ জুন ২০১৮

তুরস্ক খুব শিগগিরই তার নিজস্ব ইঞ্জিন উৎপাদন করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। বুধবার রাতে স্থানীয় একটি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

এরদোগান বলেন, ‘তুরস্ক বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্থানীয়পর্যায়ে ইঞ্জিন উৎপাদনের দিকে মনোনিবেশ করছে।’
দেশটির ইতিহাসে প্রথম নিজস্ব অটোমোবাইল উৎপাদনের প্রাক্কালে এরদোগানের পক্ষ থেকে এই মন্তব্য এলো। এটি ২০২১ সালে রাস্তায় দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং এটি দেশটির জিডিপিতে ৫০ বিলিয়ন ইউরো অবদান রাখবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

এরদোগান বলেন, তার ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) ক্ষমতার আসার পর তুরস্কের স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ শতাংশে বৃদ্ধি করেছেন। তিনি জানান, তার দেশ এখন বিদেশী উৎসের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল নয় এবং তারা এখন নিজস্ব ড্রোন এবং রাইফেল তৈরি করছে। এরদোগান বলেন, ‘উপরন্তু, আমরা এখন ট্যাংক তৈরি করছি এবং সময়ের আবর্তে তা ব্যাপকহারে উৎপাদন শুরু হবে’।

সম্প্রতি চালু হওয়া ট্রান্সÑ আনাতোলিয়ান প্রাকৃতিক গ্যাস লাইনের ভূমিকারও প্রশংসা করেন এরদোগান। প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য এই পাইপ লাইনটি তুর্কি-জর্জিয়া সীমান্ত থেকে তুর্কি-গ্রিক সীমান্ত পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে এবং এটি তুরস্ক ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

এ ছাড়াও এরদোগান ‘তুর্কি স্ট্রিম ন্যাচারাল গ্যাস’ পাইপলাইনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন, যা রাশিয়া থেকে কৃষ্ণ সাগরের নিচ দিয়ে তুরস্কের থ্রেসের গ্যাস বহন করবে।

 


আরো সংবাদ