১৯ নভেম্বর ২০১৮

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান- দুটোই চায় তুরস্ক

এফ-৩৫ ফাইটার জেট ও এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র - ছবি : সংগ্রহ

রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ‍যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-৩৫ ফাইটার জেট- দুটোই দরকার তুরস্কের। এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির
প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। শুক্রবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া কোন সিদ্ধান্ত মানবে না তুরস্ক। প্রসঙ্গত, রাশিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়টির শুরু থেকেই বিরোধীতা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন তুরস্কের, যে কারণে আমরা চুক্তি করেছি। দ্রুতই এটি আমরা আনব। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যৌথ উদ্যোগে তৈরি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রকল্পের অংশীদার তুরস্ক, এটিও প্রয়োজন আমাদের। ইতোমধ্যেই এজন্য আমরা ৯ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছি এবং নিয়মিত কিস্তির অর্থ পরিশোধ করে চলছি।’ তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ডেলিভারি না দেয় অন্য কোথাও থেকে তা কিনবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের সদস্য তুরস্ক কেন রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে সেটি নিয়ে অনেক দিন ধরেই বিরোধীতা করছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে রাশিয়ার এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সমরাস্ত্রের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

এরদোগান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া কোন সিদ্ধান্ত মানবে না তুরস্ক

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক পিকেকে গোষ্ঠিকে সমর্থন, তুরস্কের রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বিরোধসহ অনেক বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও এরদোগান প্রশাসন পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে। অথচ দীর্ঘ ছয় দশক ধরে দেশ দুটির মিত্রতা।

এরদোগান বলেন, তুরস্কের যখন প্রয়োজন তখন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো খোঁড়া অজুহাতে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে; কিন্তু আমরা যখন অন্য কোন জায়গা থেকে অস্ত্র কিনতে চাই তখন তারাও বিক্রি করতে চায়। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যখন তুরস্কের কিলিস, গাজিয়ানতেপ, রেহানলি, কিরিখান প্রদেশগুলোতে সিরিয়া থেকে ১২৭টি রকেট, কামান ও মর্টারের গোলা ছোড়া হয়েছে তখন তারা কী করেছে। আমাদের ৭ জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে, আহত হয়েছে শতাধিক। তারা তখন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশ থেকে ফিরিয়ে নিয়েছে।’

আরো পড়ুন :

চীনে আটক উইঘুর মুসলিমদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জাতিসঙ্ঘের
রয়টার্স

চীনে আটক হাজার হাজার উইঘুর মুসলিমদের মুক্তি এবং কাউন্টার-এক্সট্রিমিজম সেন্টার নামে আটক ক্যাম্প বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। সংস্থাটির জাতিগত বৈষম্য বিষয়ক কমিটি জানায়, এই ক্যাম্পে মানাবধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
চীন দাবি করে আসছে ইসলামিক সশস্ত্র যোদ্ধা ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হুমকির মুখে আছে জিনজিয়াং প্রদেশ। এসব যোদ্ধা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলার পরিকল্পনা করছে বলেও দাবি করে তারা। এ ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ স্থানীয় চীনা আদিবাসী হানদের সাথে উইঘুরদের সংঘর্ষের আশঙ্কাও প্রকাশ করে চীন। সাম্প্রতিক অস্থিরতায় সেখানে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। তবে জাতিসঙ্ঘের একটি মানবাধিকার গ্রুপ জানায়, চীনে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে কাউন্টার-এক্সট্রিমিজম সেন্টারগুলোতে আটকে রাখার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পেয়েছে তারা। জেনেভায় চীনের ওপর জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির দুই দিনের বিশেষ সভায় এই অভিযোগ তোলে সংস্থাটির জাতিগত বৈষম্য বিষয়ক কমিটি। কমিটির সদস্য গে ম্যাকডুগাল বলেন, এতো বিপুলসংখ্যক উইঘুর আটকের ঘটনা উদ্বেগজনক।

জাতিসঙ্ঘের প্যানেল জানায়, তারা এত সংখ্যক উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম আটকের খবরে উদ্বিগ্ন। অনেককে কোনো অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদে আটকে রাখা হচ্ছে। কিংবা কাউকে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে আটক করা হচ্ছে।
সংস্থাটি জানায়, বেইজিংয়ের কাছে এর কোনো সরকারি হিসাব না থাকাটা দুঃখজনক। জাতিসঙ্ঘ বলে, অবৈধভাবে আটকের চর্চা বন্ধ করে এভাবে আটক সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। একইসাথে এভাবে আটকদের প্রকৃত সংখ্যা বের করা ও এই ঘটনার তদন্ত করারও আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ উইঘুর মুসলিম। এই প্রদেশটি তিব্বতের মতো স্বশাসিত একটি অঞ্চল। বিদেশী মিডিয়ার ওপর এখানে প্রবেশের ব্যাপারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু গত বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সূত্রে খবর আসছে যে, সেখানে বসবাসরত উইঘুরসহ ইসলাম ধর্মাবলম্বীর ব্যাপক হারে আটকের শিকার হচ্ছে।


আরো সংবাদ