২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

তুরস্কে কম খরচে বেড়ানোর সময় এখনই

ইস্তাম্বুল শহর - সংগৃহীত

ডলারের বিপরীতে তুরস্কের মুদ্রা লিরার দরপতনে এবার রেকর্ড হয়েছে। এই দরপতন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের মাথাব্যথার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এতে দেশটির নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের দাম প্রতিনিয়ত বাড়লেও, লিরার দরপতনের সবচেয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেখানকার পর্যটন শিল্পে।

সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের হোটেলগুলোতে পর্যটকের সংখ্যাও বেড়েছে।

শুক্রবার এক ডলার দিয়ে ছয় লিরা কেনা গেছে। অথচ জানুয়ারি মাসেও এক ডলার দিয়ে চার লিরা কেনা যেতো।

জানুয়ারি মাসের পর থেকেই তুরস্কের মুদ্রার ক্রমাগত দরপতন হতে থাকে। তখন থেকে এ পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে লিরা ৩৪ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে।

তুরস্কের মুদ্রার দরপতনের বেশ কিছু কারণ আছে। এ কারণে দেশটির অর্থনীতি নিচের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান মনে করেন এ 'অর্থনৈতিক যুদ্ধে' তারা জয়ী হবেন।

তিনি সুদের হার কম রেখে অর্থনীতি সম্প্রসারণের পক্ষে। অন্যদিকে অনেকে মনে করেন সুদের হার বাড়ানো উচিত।

কিন্তু এরদোগান সুদের হার বাড়ানোর ঘোরতর বিরোধী। ফলে আশঙ্কা রয়েছে যে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তুরস্কের বর্তমানে যে টানাপড়েন চলছে সেটির সমাধান হলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ভ্রমণ আয়োজনকারী সংস্থা টমাস কুক বলছে তুরস্কে ঘুরতে যা্ওয়া এটিই আসল সময়। কোম্পানিটি বলছে, চলতি বছর ব্রিটেন থেকে তুরস্কের ভ্রমণের হার ৬৪ শতাংশ বেড়েছে।

এক ডলার খরচ করে আগে যতটা তুরস্কের মুদ্রা পাওয়া যেতো এখন তার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া যাবে। ফলে পর্যটকদের খরচ কমে আসবে।

২০১৬ সালে তুরস্কে বেশ কিছু সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটির পর্যটন শিল্পে যে মন্দা দেখা দিয়েছিল সেটি এবার কেটে গেছে।

ব্রিটেনের আরেকটি ভ্রমণ আয়োজনকারী কোম্পানি টিইউআই বলেছে বর্তমানে তুরস্ক, পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

গ্রীষ্মকালে ব্রিটেনের মানুষ যেসব জায়গায় ঘুরতে যেতে পছন্দ করে, তার মধ্যে তুরস্কের অবস্থান উপরের দিকে আছে।

কিন্তু ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তুরস্কে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কয়েকটি জায়গায় না যাওয়ায় পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ তালিকায় তুরস্ক তিন নম্বর ক্যাটাগরিতে রয়েছে। সে অঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের পুনরায় বিবেচনা করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

 

আরো পড়ুন : 'ওদের আছে ডলার, আমাদের আছেন আল্লাহ' : ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি এরদোগানের

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন যদি 'একলা চলার এবং সম্মান না দেখানোর' পথ ত্যাগ না করে তাহলে তার দেশ নতুন বন্ধু ও মিত্র খুঁজে নেবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার তুরস্কের ইস্পাত ও এ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর দ্বিগুণ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়ার পর এ মন্তব্য করেন এরদোগান - যা নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়।

শুল্ক বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের পর থেকে ডলারের বিপরীতে তুর্কি মুদ্রা লিরার ১৮ শতাংশ দরপতন হয়েছে। তুরস্ক একটি অর্থনৈতিক সঙ্কটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

এরদোগান নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তুরস্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

"ওদের যদি ডলার থাকে - তাহলে আমাদের আছে আমাদের জনগণ, আমাদের অধিকার এবং আমাদের আছেন আল্লাহ" - আংকারায় এক ভাষণে বলেন এরদোগান।

ট্রাম্প শুল্ক বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করে টুইট করার কিছু পরই এরদোগান ফোনে কথা বলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে।

লিরার দর পতনের প্রেক্ষাপটে তুরস্কের ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রকরা এ নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করতে যাচ্ছেন - এমন এক খবর বের হলেও পরে নিয়ন্ত্রকরা তা অস্বীকার করেন।

তুরস্ক ওআমেরিকার সম্পর্ক এত খারাপ হয়েছে কেন?
এরদোগান ওয়াশিংটনের ওপর ক্ষুব্ধ - কারণ সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কুর্দি যোদ্ধাদের অস্ত্র দিচ্ছে আমেরিকানরা, তা ছাড়া নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকেও তারা বিচারের জন্য তুরস্কের হাতে তুলে দিচ্ছে না।

এ ছাড়া আংকারা যে রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা করছে - সেটাও একটা বড় কারণ।

অন্য দিকে আঙ্কারার অভিযোগ, ফেতুল্লাহ গুলেন পেনসিলভানিয়ায় তার বাড়িতে বসে এরদোগানের বিরুদ্ধে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানের কলকাঠি নেড়েছিলেন।

এরদোগান আরো বলেন, সন্ত্রাসের অভিযোগে তুরস্কে বিচারাধীন মার্কিন ধর্মযাজক এ্যান্ডু ব্রানসনের ব্যাপারে বিচারের প্রক্রিয়া শেষ হবার অপেক্ষা না করেই ওয়াশিংটন পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে।

ব্রানসনের বিরুদ্ধে তুরস্কের অভিযোগ - তার সাথে কুর্দি ওয়ার্কার্স পার্টি এবং ফেতুল্লা গুলেনের সম্পর্ক আছে। আমেরিকার শক্তিশালী ইভানজেলিকাল খ্রিষ্টান লবি এ নিয়ে হৈচৈ শুরু করার পর এর জবাবে তুর্কী স্বরাষ্ট্র এবং বিচারমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।

তুরস্কের মন্ত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কিছুদিন পরেই ট্রাম্প এই শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেন।

এ ছাড়া আরো কারণ আছে।

তুরস্ক তাদের প্রায় অর্ধেক তেল আমদানি করে ইরান থেকে । সে কারণে ইরানের ওপর পুনঃআরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুরস্কের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে মনে করা হয়।

তুরস্কের মাটিতে আছে নেটো জোটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইনজারলিক সামরিক বিমান ঘাঁটি। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে আক্রমণের জন্য ন্যাটো এ ঘাঁটিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে।

এ ঘাঁটিটি বন্ধ করে দেবার জন্য তুরস্কে অভ্যন্তরীণ চাপ আছে।

তুরস্কের কিছু সরকার সমর্থক আইনজীবীর অভিযোগ - ইনজারলিকে মোতায়েন কিছু আমেরিকান সেনা কর্মকর্তা এরদোয়ান-বিরোধী অভ্যুত্থানের পেছনে ভুমিকা রেখেছিলেন, এবং তাদের বিরুদ্ধে আদালতের কাছে গ্রেফতারি পরোয়ানাও চেয়েছিলেন তারা।

গত সপ্তাহে এক অভিযোগে এই আইনজীবীরা বিচারকের প্রতি আবেদন জানান - যেন ইনজারলিক থেকে সব বিমান উড্ডয়ন বন্ধ করে দেয়া হয়।

দেখুন:

আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme