২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উত্তেজনা

তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উত্তেজনা - সংগৃহীত

তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উত্তেজনা চলছেই। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র সাথে ফোনে কথা বলেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু। ফোনালাপে উভয় দেশের সম্পর্ক, অমীমাংসিত নানা বিষয়ের সমাধানে উভয় পক্ষের অবস্থান বা মতামত নিয়ে কথা বলেন দুই নেতা।

সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দুই বছর ধরে তুরস্কে আটক মার্কিন নাগরিক খ্রিস্টান ধর্মযাজক অ্যান্ড্রু ব্রানসনের আটক অবস্থাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়। একে কেন্দ্র করে গত ১ আগস্ট তুরস্কের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সোইলু এবং আইনমন্ত্রী আবদুলহামিত গুল-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকান ধর্মযাজক অ্যান্ড্রু ব্রানসনকে মুক্তি না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশে যুক্তরাষ্ট্রের এমন নিষেধাজ্ঞা এটাই প্রথম। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তুরস্কের উল্লিখিত দুই মন্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে। আমেরিকায় তাদের কোনো সম্পদ গচ্ছিত থাকলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে।

তুরস্কের দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। তিনি বলেছেন, তুরস্কে আমেরিকার আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদ জব্দ করা হবে।

এমন পরিস্থিতিতেই মেভলুত কাভুসোগলু এবং মাইক পম্পেও’র ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে বিদ্যমান উত্তেজনা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন তুরস্কের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেদাত ওনাল। সফরে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই দেশের অমীমাংসিত নানা বিষয়ে কথা বলবেন তিনি।

 

তুরস্ক কারো হুমকির তোয়াক্কা করে না : এরদোগান
হুররিয়াত ডেইলি নিউজ, ৩ আগস্ট ২০১৮

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, ‘তুরস্ক কারো হুমকির ভাষাকে তোয়াক্কা করে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিষ্টান ধর্মযাজক অ্যান্ড্রু ব্রুনসনকে গ্রেফতার করার কারণে যুক্তরাষ্ট্র হুমকিমূলক বিবৃতি দেয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। 

এরদোগান বলেন, ‘আমাদের হুমকি দিয়ে কেউ কোনো দিন কিছু অর্জন করতে পারেনি। আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর প্রতি সবচেয়ে বেশি সংহতি দেখিয়েছি। কোরিয়া যুদ্ধের সময়ও আমরা তাদের সাথে ছিলাম। তুরস্কের জন্য এ রকম অপমানজনক ভাষার হুমকিকে বিবেচনায় নেয়া ঠিক হবে না যেখানে আমরা ন্যাটোর প্রতি সর্বোচ্চটা দিয়েছি। আমাকে ক্ষমা করুন, কিন্তু এরপরও আমরা এমন হুমকিকে তোয়াক্কা করব না।’ ধর্মযাজক অ্যান্ড্রু ব্রুনসনকে ঘিরে তুরস্ককে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতির পর গত বুধবার আঙ্কারায় এরদোগান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিষ্টান ধর্মযাজক অ্যান্ড্রু ব্রুনসন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা রাজ্য থেকে তুরস্কে এসেছিলেন এবং সেখানে দুই দশকেরও অধিক সময় ধরে বসবাস করে আসছেন। তাকে কুর্দিস্থান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সাথে যোগাযোগ রার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সেই সাথে ফেতুল্লাপন্থী সন্ত্রাসী সংগঠন (ফেতুর) সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই সংগঠনকে আঙ্কারা ২০১৬ সালে তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে। ব্রুনসনকে তুরস্ক দীর্ঘ ২১ মাস আটক রাখার পর গত জুলাই মাস থেকে তাকে গৃহবন্দী করে রেখেছে। তার মুক্তির ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের সাথে বারবার যোগাযোগ করে আসছে।

এরই অংশ হিসেবে গত ২৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যাজক অ্যান্ড্রু ব্রুনসনকে দীর্ঘ সময় ধরে আটক রাখার কারণে তুরস্ক বড়সড় নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।’ তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গত ৩০ জুলাই এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যে ভাষায় হুমকি দিয়েছে তা অসম্মানের এবং অগ্রহণযোগ্য।

দুই মন্ত্রীর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
এ দিকে বিবিসি জানিয়েছে, তুরস্কের দু’জন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি দুই বছর ধরে একজন মার্কিন ধর্মযাজককে আটক করে রেখেছে এমন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপে নিয়েছে। ওই যাজকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ভিত্তিহীন বলে বর্ণনা করছে। বিতর্কিত এই ধর্মযাজক বর্তমানে তুরস্কে গৃহবন্দী রয়েছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই শত্রুতামূলক পদক্ষেপের জবাব দেয়া হবে। অবশ্য তুর্কি জনগণ এরই মধ্যে তুরস্কে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেয়ার ডাক দিয়েছে।

যদি সত্যিই ঘাঁটি বন্ধ করে দেয়া হয়, তাহলে এই দুই ন্যাটো মিত্র দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা চরম হুমকির মুখে পড়বে। ১৯৭৪ সালে তুরস্ক উত্তর সাইপ্রাসে অভিযান চালানোর পর থেকে এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে এতটা অবনতি আর হয়নি।

এফ-৩৫ সরবরাহ বিলম্বের অনুমোদন
তা ছাড়া ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, তুরস্ককে প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহ না করে বরং আরো বিলম্বিত করার বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। সিনেটে ৮৭-১০ ভোটে এই অনুমোদন দেয়া হয়। যুদ্ধবিমানের সরবরাহ বিলম্বিত করার বিষয়ে অনুমোদন পাওয়ার কথা গত বুধবার মার্কিন সিনেট ঘোষণা করে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং নির্মিত প্রথম দু’টি যুদ্ধবিমান গত জুন মাসে তুরস্কের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ক্রয় করা ও মার্কিন নাগরিকদের আটকের কারণ দেখিয়ে এর আগে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme