১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এরদোগানের লক্ষ এবার জার্মানী

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সাথে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেল। ছবি - সংগৃহীত

জার্মানি সফরে যাচ্ছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগান। আগামী সেপ্টেম্বরের দিকে তার এই সফরের কথা রয়েছে। ২০১৪ সালের পর এটাই হবে এরদোগানের জার্মানিতে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।

২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর তুরস্কের ধরপাকড় অভিযান ও জার্মান নাগরিক ও সাংবাদিকদের আটকের ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে বর্তমানে তিক্ততা চলছে। এ তিক্ততা কাটিয়ে ওঠাই এরদোগানের এ সফরের উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

এ রাষ্ট্রীয় সফরে এরদোগানকে সামরিক গার্ড অফ অনারসহ তাকে অর্ভ্যত্থনা জানাবেন জার্মান প্রেসিডেন্ট। এছাড়াও তিনি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন। জার্মান ও তুরস্ক- দুই দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত জানুয়ারিতে জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাবরিয়েল বলেন, তিনিও এ ব্যাপারে একমত যে ন্যাটো জোটভুক্ত দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কোন্নয়ন ও ব্যবসায়িক অংশিদারিত্ব বাড়ানো উচিত। বিল্ডের প্রকাশনার হয়ে কাজ করেন জার্মান-তুর্কি সাংবাদিক ডেনিজ ইউসেল। নিরাপত্তাজনিত কারণে বছরখানেক আটক থাকার পর গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে ছেড়ে দিয়েছে তুরস্ক। তার মুক্তিতে দুই দেশের সম্পর্কের একটা অস্বস্তিকর অবস্থা চলে গেছে।

 

আরো দেখুন: এরদোগানের ‘মিশন আফ্রিকা’

ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তির জোট ব্রিকসের সদস্য নয় তুরস্ক। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত হয়েছে জোটটি। তবু দক্ষিণ আফ্রিকায় জোটের চলতি সম্মেলনে যোগ দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। ব্রিকস সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্র নয় এমন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের দাওয়াত করা হয়েছে। এবারের সম্মেলনেও তেমনিভাবে দাওয়াত পেয়েছেন এরদোগানসহ বেশ কয়েকজন নেতা।

কিন্তু জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর চেয়েও যেন এই সম্মেলনের ফোকাসটা বেশি পড়ছে তুরস্কের ওপর। ফার্স্ট লেডি আমিনা এরদোগানকে নিয়ে সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন এরদোগান। সাথে আছে দেশটির ব্যবসায়ী সমাজকর্মসহ বড় একটি প্রতিনিধি দল। সম্মেলনের ফাঁকে এরদোগানসহ তুরস্কের প্রতিনিধি দলটি আফ্রিকা অঞ্চলে তাদের দেশের প্রভাব বিস্তারে সহায়ক হবে এমন ব্যাপক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। দক্ষিণ ও পশ্চিম আফ্রিকায় তুরস্কের ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাণিজ্য অঞ্চল ও আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।


কয়েক মাস আগে সুদান সফর করেন আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন এরদোগান। সে সময় লোহিত সাগরে অবস্থিত একটি সুদানি দ্বীপ লিজ নিয়েছে তুরস্ক। দ্বীপটিতে নির্মাণ করা হয়ে সামরিক ও পর্যটন অবকাঠামো। আফ্রিকার হাজিদের জন্য নির্বিঘ্নে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে মক্কা পৌছানোর জন্য দ্বীপটিতে বন্দর নির্মাণ করা হয়ে তুর্কি অর্থায়নে। ওই ঘটনার পর অনেকেই বলেছেন, তুরস্ক আফ্রিকা অঞ্চলে তার রাজনৈতিক প্রভাব জোরদার করে চলছে।

তাই এরদোগানের এবারের পদক্ষেপের ওপর নজর রাখাছে বিশ্ব মিডিয়া। জোহানেসবার্গে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট বৈঠক করেছেন পুতিন। দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়, সিরিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু নিয়ে ঘনিষ্ঠ আলোচনা হয়েছে দুই নেতার মধ্যে।
পরদিন দক্ষিণ আফ্রিকা, টোগো ও অ্যাঙ্গোলার রাষ্ট্রনেতার সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সাইরিল রামাফোসার সাথে ৪৫ মিনিট একান্তে বৈঠক করেন এরদোগান। এরপর টোগোর প্রেসিডেন্ট ফাউরি গ্নাসিংবের সাথে ও অ্যাঙ্গোলার প্রেসিডেন্ট জোয়াও লরেঙ্কোর সাথে পৃথক বৈঠক করেন।

এদিকে এই সফরেই দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি স্কুল চালুর ঘোষণা দিয়েছে তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠান। মারিফ ফাউন্ডেশন নামক ওই সমাজকল্যাণ মূলক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী সেশনেই স্কুলটি চালু হবে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ও সমঝোতা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সংখ্যালঘু মুসলিমরা দেশটিতে তুরস্কের এই পদক্ষেপে দারুণ উচ্ছ্বসিত। আফ্রিকার অন্যান্য দেশেও তুর্কি আর্থ-সামাজিক সহযোগিতা জোরদারের পদক্ষেপ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিরোল আগকুন। এছাড়া মারিফ ফাউন্ডেশনের নতুন অফিসও উদ্বোধন করেছেন রজব তাইয়েব এরদোগান।

শুক্রবার ফার্স্টলেডি আমিনা এরদোগান তুরস্কের আর্থিক সহায়তায় হাঘটোন মুসলিম অ্যাকাডেমির একটি গ্রন্থাগার উদ্বোধন করেন। তুরস্কের একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় চলে জোহানেসবার্গের হাঘটোন মুসলিম অ্যাকাডেমি। সেখানে প্রায় সাড়ে তিন শ’ শিক্ষার্থ পড়াশোনা করে। 

এদিকে ব্রিকস সম্মেলন শেষ করে আজ শনিবার পূর্ব আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়া যাওয়ার কথা রয়েছে রজব তাইয়েব এরদোগানের। ইতিহাসে এই প্রথম কোন তুর্কি রাষ্ট্রপ্রধানের পা পড়বে জাম্বিয়ায়। দেশটির সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপন ও আফ্রিকা অঞ্চলে কৌশলগত মিত্র গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সফর।

অনেক দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সাথে খারাপ সম্পর্ক যাচ্ছে তুরস্কের। সেই ঘাটিতি পুষিয়ে নিতেই হয়তো রাশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দিচ্ছে আঙ্কারা। আফ্রিকায় চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে এরদোগান ওই অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য প্রসারের বেশ কিছু সমঝোতা করেছেন, যেগুলো তুর্কি ব্যবসায়ীদের জন্য খুলে দিয়েছেন বাণিজ্যের নতুন দ্বার।

 


আরো সংবাদ