১৩ নভেম্বর ২০১৮

অবরোধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করলেন এরদোগান

তুরস্ক
এরদোগান (ফাইল ছবি) - ছবি : আল জাজিরা

অবরোধের হুমকিতে আঙ্কারা পিছু হটবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

মার্কিন যাজককে মুক্তি না দিলে তুরস্কের ওপর অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর এএফপি’র।

মার্কিন যাজক এন্ড্রু ব্রুনসনকে মুক্তি না দিলে তুরস্কের ওপর অবরোধ আরোপের হুমকি দিলে উভয় দেশের সম্পর্কের তিক্ততা দেখা দেয়। এরপরই ট্রাম্পের উদ্দেশে এরদোগানের প্রথম মন্তব্য, ‘আপনি অবরোধ আরোপ করে তুরস্ককে পিছু হটাতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের মনোভাবের পরিবর্তন না করে, তাহলে তুরস্কের মতো শক্তিশালী ও প্রকৃত বন্ধুকে তাদের হারাতে হতে পারে।

ব্রুনসন ইজমির এজেন শহরে একটি প্রটেস্টান্ট গির্জা পরিচালনা করতেন। সন্ত্রাসের অভিযোগে তুরস্ক তাকে কারারুদ্ধ করলে ন্যাটো জোটের এই দুই সদস্যের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

এন্ড্রু ব্রুনসন প্রায় দুই বছর ধরে তুরস্কে কারারুদ্ধ ছিলেন এবং গত বুধবার তাকে গৃহবন্দী করা হয়।

ফলে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার তুরস্কের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে তাকে দ্রুত মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের ওপর বড় ধরনের অবরোধ আরোপের হুমকি দেয়।

আরো পড়ুন :
যুক্তরাষ্ট্রকে এরদোগান আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন
রয়টার্স, ২৩ এপ্রিল ২০১৮
ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে তুরস্কে আটক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অ্যান্ড্রু ব্রানসনকে ফেরত চাওয়ার বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান এনটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অ্যান্ড্র ব্রানসনকে ফেরত চাওয়ার আগে ফতেহুল্লাহ গুলেনকে নিয়ে আপনাদের পদক্ষেপ স্মরণ করুন।

অ্যান্ড্র ব্রানসন গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তুরস্কে বসবাস করছেন। ২০১৬ সালের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে আটক করে ৩৫ বছরের সাজা দেয় তুরস্ক সরকার। আটক করার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তাকে ফেরত নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। অন্য দিকে ওই অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ফতেহুল্লাহ গুলেনকে বারবার তুরস্কে ফেরত চাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ফেরত দিচ্ছে না।

‘সিরিয়ায় ৫ হাজার ট্রাক মার্কিন অস্ত্র’
একই সাক্ষাৎকারে এরদোগান আরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বিনামূল্যে কুর্দি গেরিলাদের অস্ত্র দিচ্ছে যা তুরস্কের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এরদোগান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা তুরস্কের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে অথচ তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দি গেরিলাদের অস্ত্র জোগান দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে পারি না। অথচ দুঃখজনকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে বিনামূল্যে সেই অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিচ্ছে। অতএব হুমকিটা কোথা থেকে আসছে? এই হুমকি প্রাথমিকভাবে আসছে কৌশলগত মিত্রদের কাছ থেকে।’

তুরস্ককে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই : এরদোগান
আনাদুলো এজেন্সি, ১০ জুলাই ২০১৮
তুরস্কের প্রথম নির্বাহী প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকার পদ্ধতির মাধ্যমে তুরস্ককে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা কার্যকরের মাধ্যমে তুরস্ক তার অগ্রযাত্রা নতুন করে শুরু করেছে।

আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট কমপ্লেক্সে দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে দেয়া বক্তৃতায় এরদোগান বলেন, আমরা একটি নতুন শাসন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছি; যেটি আমাদের ১৫০ বছর ধরে গণতন্ত্র অনুসন্ধান থেকে অনেক দূরে এবং আমাদের ৯৫ বছর বয়সী গণপ্রজাতন্ত্রের মাধ্যমে আমরা এই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।

তিনি বলেন, ‘সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে চেষ্টা করব। আমাদের যারা ভোট দিয়েছেন, আমি কেবল তাদের প্রেসিডেন্ট হবো না, তুরস্কের ৮১ মিলিয়ন নাগরিকের প্রেসিডেন্ট হতে চাই।’

তিনি বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা অতীতের প্রান্তিককরণ, নিপীড়ন, এবং মানুষের বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটাবে।নুতন ব্যবস্থায় গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার, স্বাধীনতা, অর্থনীতি এবং বৃহৎ বিনিয়োগ সহ সকল ক্ষেত্রে এই অঞ্চলে তুরস্ক আরো এগিয়ে যাবে। জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তুরস্ককে শক্তিশালী করতে কাজ চালিয়ে যাব।

আঙ্কারা: তুরস্কের নতুন শাসন ব্যবস্থার প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন এরদোগান। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানী আঙ্কারার গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে পার্লামেন্টের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার দুরমাস ইলমিজের সভাপতিত্বে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরদোগানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশ বিদেশের প্রায় ১০ হাজার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।

বিদেশি নেতাদের মধ্যে কাতারের আমির সহ ২১টি দেশের প্রেসিডেন্টরা উপস্থিত ছিলেন। দেশগুলো হচ্ছে-বুলগেরিয়া, জর্জিয়া, ম্যাসেডোনিয়া, মোলদোভা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, সার্বিয়া, কসোভো, পাকিস্তান, কিরগিজস্তান, সুদান, গিনি, জাম্বিয়া, গিনি বিসাউ, নিরক্ষীয় গিনি, সোমালিয়া, মৌরিতানিয়া, গ্যাবন, শাদ, জিবুতি, ভেনেজুয়েলা, তুর্কি প্রজাতন্ত্রের উত্তর সাইপ্রাস। এছাড়াও, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ