১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বৈষম্যহীন বিশ্ব গড়তে এরদোগানের নয়া প্রস্তাব

বৈষম্যহীন বিশ্ব গড়তে এরদোগানের নয়া প্রস্তাব - সংগৃহীত

বৈশ্বিক রাজনৈতিক অর্থনীতিতে সহযোগিতাকে শক্তিশালী করতে একটি নতুন ‘ক্রেডিট-রেটিং এজেন্সি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। তিনি বলেছেন, একটি বৈষম্যহীন বিশ্বের জন্য দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা থেকে উপকৃত হতে ওআইসি এবং ব্রিকসের মধ্যে সম্পর্ককে শক্তিশালী করা উচিত। 

শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনৈতিক রাজধানী জোহানেসবার্গ ব্রিকসের ১০তম শীর্ষ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সম্মেলনে এরদোগান বলেন, ‘আমরা বিশেষ করে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্রিকস দেশগুলির সাথে কাজ করতে চাই। আমি মনে করি আমরা তুর্কি প্রতিষ্ঠান এবং ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) এবং বিজনেস কাউন্সিলের মধ্যে নতুন সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারি।’

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে ব্রিকস গঠিত হয়েছে। ইসলামিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ওআইসি) এর চেয়ারম্যান হিসাবে ১০তম বার্ষিক সভায় তুরস্ককে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রী, অর্থ ও ট্রেজারি মন্ত্রী, জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন জাস্টিজ এন্ড ডেবেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) নেতাদের নিয়ে ২৬ জুলাই এরদোগান জোহানেসবার্গ যান। এটি তুরস্ক এবং ব্রিকস ব্লকের মধ্যে প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।

বৈঠকে এরদোগান বলেন, আমি ব্রিকসের সাথে আরো সম্পর্ক গড়ে তুলতে এটিকে একটি সুযোগ মনে করি। আমরা আমাদের ট্রেজারি ও অর্থ মন্ত্রণালয় এবং ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মধ্যে শিগগিরই আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।

ওআইসি'র প্রতিনিধি হিসেবে শীর্ষ সম্মেলনে এরদোগান বলেন, একটি বৈষম্যহীন বিশ্বের জন্য দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা থেকে উপকৃত হতে ওআইসি এবং ব্রিকসের মধ্যে সম্পর্ককে শক্তিশালী করা উচিত। তুন এবং নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি গঠনের মাধ্যমে ব্রিকস দেশগুলি ও তুরস্কের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব অবশ্যই বদলাতে হবে: তুরস্ক
রয়টার্স ও আনাদুলো এজেন্সি, ২৭ জুলাই ২০১৮

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছেন, তুরস্ককে হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে তার স্বার্থ এবং তুরস্কের সাথে তার জোটের আরো ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আগে দেশটিতে অবশ্যই তার মনোভাব বদলাতে হবে এবং একটি গঠনমূলক অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার এক লিখিত বিবৃতিতে ইব্রাহিম কালিন আরো বলেন, ‘ন্যাটোর মিত্র হিসেবে আমাদের দেশকে উদ্দেশ্য করে কারো হুমকি সম্বলিত ভাষা আমরা গ্রহণ করব না। মার্কিন প্রশাসন কখনোই ফেতুল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। দেশটির জানা উচিত যে মার্কিন যাজক ইস্যুকে একটি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে তুরস্ককে হুমকি প্রদানের মাধ্যমে কোনো ফলাফল পাবে না। কেননা বিষয়টি তুর্কি স্বাধীন বিচার বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে।

আঙ্কারার হাতে আটক আমেরিকান যাজককে মুক্তি না দিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকির জবাবে তুরস্কের পক্ষ থেকে এই জবাব এলো। ন্যাটো-সদস্যের তুরস্কের বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপের চেষ্টায় ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘যাজক অ্যান্ড্রু ব্রুনসনকে দীর্ঘকালীন আটক রাখার জন্য তুরস্কের ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।’

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ইজমিরের ইজিয়ান প্রদেশ থেকে আটক হওয়ার পর ব্রুনসনকে গত বুধবার গৃহবন্দী করা হয়েছে।

হিটলারের চিন্তা-চেতনা ও ইসরাইলের মানসিকতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই : এরদোগান
আনাদোলু এজন্সি ও জেরুজালেম পোস্ট, ২৫ জুলাই ২০১৮

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর ট্যাঙ্ক ও আর্টিলারি দিয়ে আক্রমণ করে ইসরাইল নিজেই নিজেকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে। সন্ত্রাসী দেশটির এই পদক্ষেপ এই অঞ্চল ও বিশ্বকে রক্ত ও যন্ত্রণায় ডুবিয়ে দিয়েছে।

সম্প্রতি পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন একে পার্টির সদস্যদের উদ্দেশ্য দেয়া ভাষণে এরদোগান এসব কথা বলেন।

এরদোগান বলেন, ইসরাইলের জাতিরাষ্ট্র বিলের উদ্দেশ্য নিপীড়নকে বৈধতা দেয়া। এটি প্রমাণ করে যে ইসরাইল একটি ফ্যাসিবাদী ও বর্ণবাদী রাষ্ট্র যেখানে অ্যাডলফ হিটলারের আত্মা পুনর্জন্ম নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলের বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এরদোগান বলেন, ইহুদি জাতিরাষ্ট্র আইন পাসের মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হলো যে ইসরাইল বিশ্বের সবচেয়ে জায়নিস্ট, ফ্যাসিবাদী ও বর্ণবাদী একটি দেশ। ইসরাইলি সংসদ এই আইন পাস করে দেশটি তার প্রকৃত উদ্দেশ্য বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করে দিয়েছে।

এরদোগান বলেন, ইহুদি জাতিরাষ্ট্র আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে- তাদের সব বেআইনি কাজ এবং নিপীড়নকে বৈধতা দেয়া। হিটলারের চিন্তা-চেতনা এবং ইসরাইলের মানসিকতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। হিটলারের আত্মা ইসরাইলের প্রশাসকদের মধ্যে পুনরায় আবির্ভূত হয়েছে।


আরো সংবাদ