২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

তুরস্কে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার

তুরস্ক
জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এরদোগানের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল - ছবি: এএফপি

তুরস্কে দুই বছরের জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সেদেশের সরকার। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ খবর জানায়।

সম্প্রতি তুরস্কের নির্বাচনে জয়লাভ করেন প্রেসিডেন্ট রজব তায়েব এরদোগান। এরপর জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার তার অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল।

জরুরি অবস্থা জারির পর সাতবার এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। যদিও বিরোধীরা ও পশ্চিমা বিশ্ব জরুরি অবস্থা বৃদ্ধির সমালোচনা করে আসছিল।

তুরস্কের সরকারের অভিযোগ করে আসছে যে , যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ধর্মীয়নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের মদদে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে গুলেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় বিরোধী পক্ষের প্রার্থীরা ও অঙ্গীকার করেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে প্রথমেই তারা জরুরি অবস্থার সমাপ্তি টানবেন।

জরুরি অবস্থা জারির পর থেকে এক লাখ সাত হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরকারি চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি হিসাবে ৫০ হাজার মানুষকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে।

চাকরিচ্যুত ও কারাবন্দি অনেকেই দেশটির নির্বাসিত ইসলামিক নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের সমর্থক। গুলেন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত রয়েছেন। গুলেনকে তুরস্কের কাছে হস্তান্তরের জন্য দাবি করে আসছে সে দেশের সরকার। তিনি একসময় এরদোগানের মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে তুরেস্কে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টার সময় সামরিক উড়োজাহাজ থেকে পার্লামেন্ট ভবনে বোমা হামলা চালানো হয়। সে সময় ২৫০ জনের বেশি নিহত হন। সূত্র: বিবিসি ও আল-জাজিরা।

 

আরো পড়ুন: নির্বাচনের পর জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার : এরদোগান

এএফপি, ০৯ জুন ২০১৮

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বৃস্পতিবার বলেছেন, এ মাসের নির্বাচনের পর দেশটিতে জারি করা জরুরি অবস্থা তুলে নেয়া হতে পারে। দুই বছর আগে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটি জারি করা হয়।

এ তুর্কি নেতা এর আগে জোর দিয়ে বলেছিলেন যে দেশ থেকে সন্ত্রাসী হুমকি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল না করা পর্যন্ত তিনি জরুরি অবস্থা তুলে নেবেন না। আগামী ২৪ জুনের প্রেসিডেন্ট ও আইন সভা নির্বাচনে এরদোগানকে বিরোধী দলের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাতে টেলিভিশনে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এরদোগান বলেন, ‘এ নির্বাচনের পর আমরা জরুরি অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব এবং এটি তুলে নেয়া হতে পারে।’ এ মাসের গোড়ার দিকে সরকারের এক মন্ত্রী বলেন, এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে ঘটানো ২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি লোককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে তুর্কি আদালত।

আনাদোলু জানায়, ২০১৬ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিপ্রায়ে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির বিচার বিভাগ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিচারমন্ত্রী আব্দুল হামিদ গুল এ কথা জানান।

বিচারমন্ত্রী জানান, অভ্যুত্থানের ঘটনায় ২৮৭টি মামলার মধ্যে ১৭১টি মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এসেছে। এতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২ হাজার ১৪০ জনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বেকসুর খালাস পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭৮ জন। চলতি বছরের শেষের দিকে বাকি মামলাগুলো বিচার সমাপ্ত হবে বলে জানান তিনি।

 

 


আরো সংবাদ