২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অভ্যুত্থানকালীন শহীদ ও আহতরা আমার প্রকৃত ভাই: এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। ছবি - সংগৃহীত

দুই বছর আগে ১৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানকে উৎখাতের জন্য সেনাবাহিনীর একটি গ্রুপ অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়। ঐ ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের নিজের সত্যিকারের ভাই ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

২০১৬ সালে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ভয়াবহ সেই ঘটনার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে নিহতদের পরিবার ও আহতদের সঙ্গে রোববার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে মিলিত হন রিজব তাইয়েব এরদোগান।

এসময় এরদোগান বলেন, অবৈধ অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে যারা জীবন দিয়েছেন তারা, তাদের পরিবার এবং যারা আহত হয়েছেন তারা সবাই আমার প্রকৃত ভাই।

প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে উৎখাতের জন্য ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কে অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ফেতুল্লাহ গুলেনের সংগঠন ফেতো এর সঙ্গে জড়িতরা এ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। কিন্তু সাধারণ মানুষ অভ্যুত্থানচেষ্টার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে বিদ্রোহীদের দমন করে। তখন ২৫১ জন নিহত হয় এবং ২ হাজার ২০০ জন আহত হয়।

আরো পড়ুন : অভ্যুত্থানের খবর শুনে ওজু করে নামাজ পড়ে নেন এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগানের মেয়ের জামাই বলেছেন, ১৫ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের খবর শুনে তার শ্বশুর শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছিলেন। কোনো ধরনের অস্থিরতা প্রকাশ পায়নি তার আচরণে। তিনি প্রথমেই ওজু করে নামাজ পড়ে নেন। তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছিলেন, তার এখনই ইস্তাম্বুলে ফেরা দরকার।
অভ্যুত্থানের সময় এরদোগান ছিলেন কৃষ্ণসাগরীয় মারমারিস নগরীতে। তার সাথে তার স্ত্রী, মেয়ে, মেয়ের জামাই, নাতি-নাতনিরা ছিলেন।
মেয়ের জামাই বেরাত আলবেরাক শীর্ষস্থানীয় নিউজ নেটওয়ার্ক তুর্কোভাজ মিডিয়াকে অভ্যুত্থানচেষ্টার সময়কার অবস্থা জানান।

আলবেরাক বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগান পুরো রাত ছিলেন শান্ত ও সংযত। তিনি দ্রুত বিমানযোগে ইস্তাম্বুল ফিরতে চাইছিলেন।
তিনি বলেন, তিনি দৃঢ়তার সাথে নেতৃত্ব দেন।
তিনি বলেন, ইস্তাম্বুল যদি অভ্যুত্থানকারীদের হাতেই থেকে যেত, সেক্ষেত্রে এরদোগানের কাছে বিকল্প ছিল চারটি নগরী : বদরাম, দালামান, ইজমির ও আইদিন। এরদোগান একেবারে শেষ মুহূর্তে তার গন্তব্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

আলবেরাক বলেন, বলেন, বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে হুঁশিয়ারি পেয়ে আমরা সরকারি নির্বাহীদের সাথে সাথে যোগাযোগ করি। আমরা প্রথমে কথা বলি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের সাথে। সময় অতিক্রমের প্রেক্ষাপটে আমরা বুঝতে পারি, এটা একটা অভ্যুত্থানচেষ্টা। আমরা এটা রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার (স্থানীয় সময়) মধ্যে বুঝতে পারি।
তিনি গোয়েন্দা বিভাগের দুর্বলতার কথাও জানান।

তিনি বলেন, আমাদের ওপর দিয়ে তিনটি হেলিকপ্টার পর্যবেক্ষণমূলক টহলে ছিল। আমরা একইসাথে জাতীয় মিডিয়াগুলোতে ফোন করতে থাকে, কী ঘটেছে তা জানতে। আমরা ফোনের মাধ্যমেই কেবল সরাসরি সম্প্রচার করতে সক্ষম হয়েছিলাম।
তিনি বলেন, এরদোগান ওজু করে নামাজ পড়ে নেন। তারপর তিনি হেলিকপ্টারের দিকে হাঁটতে শুরু করেন।
তিনি বলেন, জঙ্গিবিমানগুলো আক্ষরিকভাবেই আমাদের ৫০ মিটার দূর দিয়ে উড়ছিল। আমরা কাউকে কিছু জানান না দিয়ে অনেকটা ভূতের মতো ইস্তাম্বুলে অবতরণ করি।


আরো সংবাদ