২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নির্বাচনোত্তর তুরস্ক নতুন যুগে, নতুন অগ্রযাত্রায়

নির্বাচনোত্তর তুরস্ক নতুন যুগে, নতুন অগ্রযাত্রায় - সংগৃহীত

ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর তুরস্কে দুই বছর বলবৎ থাকা জরুরি অবস্থা আগামী ১৮ জুলাই তুলে নেয়া হবে। নতুন নির্বাহী প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতিতে সদ্য গঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে বহু প্রতীক্ষিত এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্ক সেনাবাহিনীর একটি অংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটি ব্যর্থ করে দেয় তুরস্কের জনগণ। এরপর জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

ওই জরুরি অবস্থা জারি করার পর সেটির মেয়াদ সাতবার বৃদ্ধি করা হয়। জরুরি অবস্থার কারণে নতুন আইন পাস ও অধিকার এবং স্বাধীনতা স্থগিত করার ক্ষেত্রে পার্লামেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

এসময় ফেতুল্লাহ গুলেনের নেটওয়ার্ক ও সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে যোগসাজশের অভিযোগে ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া একই অভিযোগে এক হাজার তিনশ’ অ্যাসোসিয়েশন বন্ধ করে দেয়া হয়।

তুরস্কের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো অনেক দিন ধরেই জরুরি অবস্থা তুলে নিতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নও তুরস্কে জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকায় সেটির সমালোচনা করে বলেছে, এর মাধ্যমে বিভিন্ন নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুই বছর ধরে চলা জরুরি অবস্থা তুলে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এরদোগান। ২৪ জুন তুরস্কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

পরাক্রমশালী হবে তুরস্ক
আনাদোলু ও হুররিয়াত ডেইলি নিউজ

শপথ গ্রহণের পর উদ্বোধনী ভাষণে এরদোগান বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থা কার্যকরের মাধ্যমে তুরস্ক তার অগ্রযাত্রা নতুন করে শুরু করেছে। আমরা একটি নতুন শাসনব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছি; যেটি আমাদের ১৫০ বছর ধরে গণতন্ত্র অনুসন্ধান থেকে অনেক দূরে এবং আমাদের ৯৫ বছর বয়সী গণপ্রজাতন্ত্রের মাধ্যমে আমরা এই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে চেষ্টা করব। আমাদের যারা ভোট দিয়েছেন, আমি কেবল তাদের প্রেসিডেন্ট হবো না, তুরস্কের ৮ কোটি ১০ লাখ নাগরিকের প্রেসিডেন্ট হতে চাই।’

তিনি বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা অতীতের প্রান্তিকীকরণ, নিপীড়ন এবং মানুষের বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটাবে। নতুন ব্যবস্থায় গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার, স্বাধীনতা, অর্থনীতি এবং বৃহৎ বিনিয়োগসহ সব ক্ষেত্রে এই অঞ্চলে তুরস্ক আরো এগিয়ে যাবে। জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তুরস্ককে শক্তিশালী করতে কাজ চালিয়ে যাবার অঙ্গীকার করেন এরদোগান। 

এরদোগান বলেন, অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য, ২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে সিরিয়া ও ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধ থেকে তুরস্ককে রক্ষার জন্য নির্বাহী ক্ষমতার দিক দিয়ে প্রেসিডেন্টের অনেক বেশি ক্ষমতাশালী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ভাষণে তিনি ‘শক্তিশালী সরকার ও শক্তিশালী তুরস্ক’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

এরদোগানের সমর্থকেরা তুরস্কের শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তনকে এমন এক নেতার জন্য উপহার হিসেবে বিবেচনা করছেন, যিনি জনজীবনে ইসলামি মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়েছেন, ধর্মভীরু শ্রমজীবী শ্রেণীর পাশে থেকেছেন এবং ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে তুরস্ক 
এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

তুরস্কের সেনাবাহিনীকে প্রতিরা মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্বাধীনে আনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। বুধবার বেসরকারি প্রচারমাধ্যম ‘সিএনএন টার্ক’ এরদোগানকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে।
এরদোগান সোমবার সাবেক চিফ অব স্টাফ হুলসি আকারকে তার প্রতিরামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। সিএনএন টার্কের খবরে বলা হয়, ব্রাসেলসে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এরদোগান এই তথ্য জানিয়েছেন।

গত মাসের ২৪ জুনের নির্বাচনে এরদোগান তার সবচেয়ে বড় নির্বাচনী চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হন। এই নির্বাচন তাকে কার্যনির্বাহী মতা প্রদান করেছে। নতুন ব্যবস্থায় ৬৪ বছর বযসী এরদোগান রাষ্ট্রীয় নির্বাহী শাখাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়াই ভাইস প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন বিচারপতিদের নিয়োগ কিংবা বরখাস্ত করার অধিকারী হবেন। এ ছাড়া পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার মতাসহ কার্যনির্বাহী আদেশ জারি করা এবং জরুরি অবস্থা আরোপ করার মতা পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট। নতুন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী পদের বিলুপ্তি ঘটেছে। আধুনিক তুর্কি ইতিহাসে সর্বাধিক জনপ্রিয় নেতা এরদোগান প্রতিজ্ঞা করে বলেছেন যে, তুরস্ককে শক্তিশালী করতে তার প্রচেষ্টা থেকে তিনি বিরত থাকবেন না।


আরো সংবাদ