১৯ নভেম্বর ২০১৮

তুরস্কের কাছে কী চায় যুক্তরাষ্ট্র?

তুরস্কের কাছে কী চায় যুক্তরাষ্ট্র? -

মার্কিন জঙ্গি বিমান ‘এফ-৩৫’ সরবরাহ করা এবং কারাবন্দি মার্কিন যাজক অ্যান্ড্রু ব্রানসনের মুক্তির বিষয় সহ একাধিক বিষয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দু’জন মার্কিন সিনেটর।

সম্প্রতি তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপার্টি) সদর দপ্তরে তাদের মধ্যে প্রায় এক ঘন্টা স্থায়ী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই দুই মার্কিন সিনেটর হচ্ছেন, লিন্ডসে গ্রাহাম এবং জেনি শাহীন।

বৈঠকের পর এক টুইটে গ্রাহাম বলেন, তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতভেদ রয়েছে, যা গত বছর দুই মিত্রের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

তিনি তুরস্কের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যর্থতা কোনো অপশন নয়।’

এরদোগানের সঙ্গে বৈঠককে গ্রাহাম ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ, শ্রদ্ধাশীল’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, আঙ্কারার রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় এবং মার্কিন ‘লকহিড মার্টিন এফ-৩৫ জয়েন্ট স্ট্রাইক ফাইটার জেট’ সরবরাহ করা নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন।

এদিকে, শাহীন জানান, তারা যাজক ব্রুনসনের মুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং এ ব্যাপারে সিনেটরদের উদ্বেগের বিষয়ে এরদোগান শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।

রবিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্সিয়াল ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে এরদোগান ৫২.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসাবে পুনরায় নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে তার দল পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

গত ১৯ জুন মার্কিন সিনেটে বার্ষিক জাতীয় প্রতিরক্ষা অথোরাইজেশন আইন অনুমোদন করেন। এতে মার্কিন ‘এফ-৩৫ জয়েন্ট স্ট্রাইক ফাইটার জেট’ তুরস্কের কাছে বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি উপেক্ষা করেই এস-৪০০ ক্রয় করবে তুরস্ক
ডেইলি সাবাহ 

রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি থেকে তুরস্ক সরে আসবে না বলে জানিয়েছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইবরাহিম কালিন। যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এস-৪০০ মিসাইল না কিনতে হুমকি দিয়েছে। খবর ডেইলি সাবাহর।

ইবরাহিম বলেন, তুরস্ক একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে তার নিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তুরস্ক নিজেই তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত ‍নিবে। কার কাছ থেকে কি ধরণের প্রতিরক্ষা গ্রহণ করবে তার সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার শুধুই তুরস্কের নিজস্ব ব্যাপার।

প্রেসিডেন্টেন মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তুর্কি সরকারের সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু তুরস্ক কারোর সাথে এমন কোন চুক্তি করেনি যাতে করে তুরস্কের সার্বভৌমত্বের উপর বাধা আসবে।

মুখপাত্র আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি নিয়ে দুদেশের সম্পর্কের মধ্যে প্রভাব পড়বেনা। এমন কোন ঘটনা ঘটলে তুরস্কও যথাযথ পদক্ষেপ নিবে বলে জানান তিনি।

এখান থেকে ফিরে যাওয়ার কোন উপায় নেই, ইতোমধ্যে চুক্তিস্বাক্ষর সম্পন্ন হয়ে গেছে। এস-৪০০ মিসাইল আগামী বছর আসবে। প্রযুক্তি আমদানিও অন্যতম একটি বিষয়। আমরা শুধু প্রযুক্তি অর্জন বা ব্যবহার নয় আমরা এগুলো উৎপাদনও করতে চাই বলেছেন প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র।

ইবরাহিম আরো বলেন, তুরস্ক প্যাট্রিয়ট মিসাইল বা অন্যান্য পশ্চিমা প্রযুক্তির ব্যবস্থা নিতে পারে যদি তারা প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করে।

এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে আঙ্কারাকে হুমকি দেয়া হয়েছে যে, যদি তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ মিসাইল ক্রয়ের চুক্তি থেকে ফিরে না আসে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে লকহেড মার্টিন এফ-৩৫ ফাইটার জেট চুক্তি থেকে সরে আসবে।

গত ডিসেম্বরে তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্রয়ের জন্য সরকারিভাবে ২.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিস্বাক্ষর করে। এস-৪০০ রাশিয়ার তৈরি বতর্মানে সর্বাধুনিক অন্যতম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ন্যাটো দেশগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম তুরস্কই এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে যাচ্ছে।

এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আঙ্কারা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে যাচ্ছে।তুরস্কের পাশের দুই সীমান্তবর্তী দেশ ইরাক ও সিরিয়ার যুদ্ধাবস্থা এবং পিকেকে ও দায়েশের সাথে বিভিন্ন সংঘর্ষ থেকে দেশকে সুরক্ষার জন্য তুরস্ক সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে।

এছাড়াও তুরস্ক তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণ করতে চায়। এজন্য তারা বিভিন্ন দেশের সাথে নির্মাণ প্রযুক্তির কৌশল বিনিময় করতে চায়। এস-৪০০ ব্যবস্থাটির সম্পর্কে ২০০৭ সালে সর্বপ্রথম জানা যায়। এটা রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রাশিয়া এখন পর্যন্ত শুধু চীন এবং ভারতের কাছে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রি করেছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে তুরস্ক ২০২০ সালে এস-৪০০ পেতে পরে।

ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেটে তুরস্ক

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার, মিডলইস্ট মনিটর ও স্পুটনিক নিউজ

সামরিক সক্ষমতায় মুসলিম বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ তুরস্ক। মুসলিম বিশ্বে তুরস্কের ভূমিকার কারণে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা দিনদিন দেশটির শত্রু হয়ে ওঠেছে। সেই শত্রুতার জের ধরে তুরস্ক ও এরদোগানের বিরোধীতাও প্রবল হচ্ছে। যদিও এরদোগান মুসলিম বিশ্বে অন্যতম জনপ্রিয় নেতা।

তুরস্কের সামরিক বাহিনীর বিশেষজ্ঞ ও সাবেক এ্যাডমিরাল সনার পোলাত বলেছেন, তুরস্ক  ইসরাইলের পরবর্তী টার্গেট হতে যাচ্ছে। সিরিয়ায় ইসরাইলের অগ্রগতি মানে তারা তুরস্কের কাছাকাছি চলে আসা। সিরিয়ায় পিকেকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সিরিয়া ও তুরস্কের বিজয় ফিলিস্তিনি এবং জেরুসালেমকে অবশ্যই প্রভাবিত করছে। এজন্য তুরস্ক ইসরাইলের চূড়ান্ত টার্গেটে পরিণত হয়েছে। ইসরাইল যেভাবে তার সামরিক কৌশল ঠিক করছে, আঞ্চলিক স্থাপনাগুলো যেভাবে সাজাচ্ছে তাকে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে তারা তুরস্ককে টার্গেট করেছে। ইসরাইল, সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং মিসর যে জোট করেছে তা শুধু তাদের জনগণের জন্য হুমকি নয়, বরং মানবতার জন্য হুমকি।

তুরস্কের কাছে লোকহেড মার্টিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য মার্কিন সিনেট কমিটি দেশটির বিদ্যমান একটি আইনে সংশোধনী বিল এনেছে। শুক্রবার ওই সংশোধনী বিল পাস হয়েছে।  এই বিল আনার ক্ষেত্রে গত ডিসেম্বরে রাশিয়ার কাছ থেকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য এস-৪০০ মিসাইল ক্রয়ে তুরস্কের স্বাক্ষরিত চুক্তিও প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জেন শাহিন।

সিনেটর শাহিন বলেন, এই চুক্তি মার্কিন আইনে নিষেধাজ্ঞার যোগ্য। রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা একটি জাতির কাছে সংবেদনশীল এফ-৩৫ বিমান ও স্পর্শকাতর প্রযুক্তি সরবরাহ করার ক্ষেত্রে প্রচণ্ড দ্বিধা রয়েছে। ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হয়েছে এই ধরণের বিমানগুলোকে ভূপাতিত করার জন্য।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি বিরোধ দেখা গেছে সিরিয়ায় মার্কিন সমর্থিত কুর্দিবিরোধী তুরস্কের সামরিক অভিযান নিয়ে। এছাড়াও রয়েছে দুই দেশের অভ্যন্তরে পরস্পরের নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনগত মামলা। পেনসিলভেনিয়ায় থাকা তুর্কি নাগরিক ফাতুল্লাহ গুলেনকে নিয়েও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে।  এরদোগান ব্রানসনের বিনিময়ে গুলেনকে ফেরত চাইলেও তা বাতিল করে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

সেন্ট পিটার্সবার্গে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনার ব্যাপারে তুরস্ককে বাধা দিচ্ছে আমেরিকা। কিন্তু এতে করে কোনও লাভ হবে না। রাশিয়া থেকে উন্নত মানের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার জন্য ন্যাটো জোটের সদস্য তুরস্ক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখানে অপরাধটা কী? আঙ্কারার বিরুদ্ধে এ ধরনের চাপ সৃষ্টি করা অন্যায়। এরদোগানকে এ ধরনের চাপ দিয়ে সুফল পাওয়া কঠিন। উল্টো এমন চাপ তাকে এস-৪০০ কেনার ব্যাপারে আরো উৎসাহিত করবে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তিনি কোনো আপোস করবেন না।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছিলেন, এস-৪০০ কেনা থেকে তুরস্ককে বিরত রাখতে ওয়াশিংটন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। এ ধরনের ব্যবস্থা ন্যাটোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তুরস্কের কাছে লোকহেড মার্টিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য মার্কিন সিনেট কমিটি দেশটির বিদ্যমান একটি আইনে সংশোধনী বিল এনেছে। শুক্রবার ওই সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। 

ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের  বিরোধীতার মধ্যেও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে তুরস্ক। জনশক্তি, যুদ্ধাস্ত্র, প্রযুক্তি-প্রশিক্ষণ ও সামরিক ব্যয়সহ বিভিন্ন দিক থেকে তুর্কি সামরিক বাহিনী বিশ্বের সেরা বাহিনীগুলোর একটি। ১৯৫২ সাল থেকেই দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য। বর্তমানে দেশটির সামরিক বাজেট ছিল ১ হাজার ৮১৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ।

তুরস্ক সামরিক শক্তিতে বিশ্বে ৯ম, ন্যাটো জোটে ৪র্থ, এশিয়ায় ৪র্থ, মধ্যপ্রাচ্যে ১ম ও মুসলিম বিশ্বে ১ম। সংবিধান অনুযায়ী এরদোগান তুর্কি সামরিক বাহিনীর বর্তমান কমান্ডার ইন চিফ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলেন সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে  আর বাহিনীর কার্যক্রম সমন্বয় ও পরিচালনা করেন চিফ অব জেনারেল স্টাফ বা সশস্ত্রবাহিনী প্রধান।  তুর্কি সামরিক বাহিনীর বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৪ লাখ ১০ হাজার। আর রিজার্ভ সদস্য রয়েছে আরো ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭০০ জন। আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার। সব মিলে দেশটির বর্তমান সামরিক জনশক্তি ৭ লাখেরও বেশি । অ্যাকটিভ ফ্রন্টলাইন পার্সনেল ৩ লক্ষ ৫০ হাজার, অ্যাকটিভ রিজার্ভ পার্সনেল ৩ লক্ষ ৬০ হাজার ৫৬৫ ও টোটাল মেলেটারি পারসোনেল ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৫৬৫।

স্থলবাহিনীতে ট্যাংক আছে ২৪৪৬টি, আর্মর্ড ফাইটিং ভেহিক্যালস ৯০৩১টি, সেল্ফ প্রপেলড গানস ১০১৮টি,  টাওয়ার্ড আর্টিলারি ৮৭২টি, মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেম ৪১৮টি। বিমানবাহিনীতে আছে- টোটাল এয়ারক্রাফট ১০৫৬টি, ফাইটার্স ২০৭টি, ফিক্সড-উইং অ্যাটাক এয়ারক্রাফট ২০৭টি, ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট ৪৪৫টি, ট্রেইনার এয়ারক্রাফট ২৮৭টি, হেলিকপ্টার্স ৪৭৫টি, অ্যাটাক হেলিকপ্টার্স ৫৪টি।

নৌবাহিনীতে রয়েছে- নেভাল স্ট্রেন্থস ১৯৪টি, ফ্রিগেইটস ১৬টি, কর্ভেটেস ১০টি, সাবমেরিনস ১২টি, কোস্টাল ডিফেন্স ক্রাফট ৩৪টি ও মাইন ওয়্যারফেয়ার ১১টি।

সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী নিয়ে তুরস্কের প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠিত। জেন্ডারমেরি ও কোস্টগার্ডরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করলেও যুদ্ধের সময় এরা সামরিক কিছু নিয়মকানুন মেনে চলে, যথাক্রমে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর কমান্ড অনুসরণ করে। দেশটির সেনাপ্রধানকে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়বদ্ধ। জাতীয় নিরাত্তার ব্যাপারে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ পার্লামেন্টের কাছে দায়বদ্ধ। কোনো যুদ্ধ ঘোষণা, বিদেশে সৈন্য প্রেরণ কিংবা দেশের ভেতরে বিদেশী সৈন্যদের ঘাঁটি স্থাপন প্রত্যেকটি বিষয়েই পার্লামেন্টের অনুমোদন লাগে।

ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তুরস্কের প্রতিরক্ষা বাহিনী হচ্ছে ৪র্থ বৃহত্তম। ন্যাটোভুক্ত যে পাঁচটি দেশ যৌথ পরমাণু কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তুরস্ক তার অন্যতম সদস্য।  বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিশনে তুর্কি বাহিনী কাজ করছে। জাতিসঙ্ঘ ও ন্যাটোর অধীনেই তারা বিভিন্ন মিশনে অংশ নিচ্ছে। জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর অধীনে তুর্কি বাহিনীর সদস্যরা বর্তমানে সোমালিয়ায় কাজ করছে। এ ছাড়া সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় শান্তি মিশনে ও প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে যৌথ বাহিনীর সাথে সহায়তা করেছে।

বর্তমানে তুর্কি স্বীকৃত সাইপ্রাসে ৩৬ হাজার তুর্কি সেনা দায়িত্ব পালন করছে এবং ন্যাটো নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে ২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তানেও দায়িত্ব পালন করছে তুর্কি সেনারা। ইসরাইল-লেবানন সঙ্ঘাত এড়াতে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় ২০০৬ সালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তুরস্ক কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ও ৭০০ সৈন্য মোতায়েন করে।

যুক্তরাষ্ট্রকে তোয়াক্কা করবে না তুরস্ক, প্রয়োজনে পাল্টা ব্যবস্থা
ডেইলি সাবাহ ও আনাদোলু এজেন্সি

যুক্তরাষ্ট্র আগামী নভেম্বর থেকে ইরানের তেল রফতানি বর্জনের যে আহ্বান জানিয়েছে তা অস্বীকার করে এ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু।

তিনি বলেন, আঙ্কারা অন্য কোনো দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে না। তুরস্কের সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের চাপের তোয়াক্কা করবে না তুরস্ক। বরং সব চাপ মোকাবেলা করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে দেশটি।

এর আগে ইরানের ওপর নতুন করে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় তেহরানকে বিশ্বের কোনো দেশের কাছে তেল বিক্রি করতে দেবে না ওয়াশিংটন।

মিত্রদেশগুলো যাতে চলতি বছরের নভেম্বর থেকেই ইরানি তেল আমদানি না করে সে দাবি জানাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে ভারত, চীন, জাপান তেল আমদানি ‘শূন্যের কোটায়’ নামিয়ে আনবে বলে আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এস-৪০০ কিনলে এফ-৩০০ যুদ্ধবিমান সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়ছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে পিছু হটবে না তুরস্ক। বৃহস্পতিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগানের মুখপাত্র ইবরাহিম কালিন তার দেশের এ অবস্থান পরিষ্কার করেন।

তার্কিশ ব্লুমবার্গকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কালিন বলেন, একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে তুরস্ক এ বিষয়ে তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। তুরস্ক যার থেকে ভালো মনে করবে তার থেকে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সংগ্রহ করবে।

কালিন বলেন, বর্তমান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সবসময় ভালো সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু এমন কোনো শর্তে যাবে না বা মেনে নেবে না যা সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হয়।

এস-৪০০ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের প্রশ্নে তিনি বলেন, অবরোধ কোনো সুফল আনে না। তাই আমরাও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পাল্টা পদক্ষেপ নেব।


আরো সংবাদ