২২ জুন ২০১৮

ইরাকে সেনা মোতায়েন করেছে তুরস্ক, অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধেও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি

ইরাকে সেনা মোতায়েন করেছে তুরস্ক, অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধেও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি - সংগৃহীত

ইরাকের অভ্যন্তরে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম।তুর্কি সীমান্তবর্তী ইরাকের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দি পিকেকে গেরিলাদের নির্মূল করার লক্ষ্যে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি’তে সরাসরি প্রচারিত এক বক্তব্যে ইলদিরিম বলেন, এই অভিযান মার্চ মাসে শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা সীমান্তবর্তী ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় সেনা মোতায়েন করেছি। এসব সেনা ইরাকের ৩০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত মোতায়েন রয়েছে।

তুর্কি সেনারা প্রয়োজনে আরো গভীরে প্রবেশ করে ইরাকের কান্দিল, মাখমুর বা সিনজার পর্যন্ত পৌঁছে যাবে বলেও তুর্কি প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন।

এর একদিন আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান বলেছিলেন, তার দেশের সেনারা যেকোনো সময় ইরাকের কান্দিল শহরে সামরিক অভিযান চালাবে।

তুর্কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সোইলু এ সম্পর্কে বলেছেন, তার দেশের সেনারা ইরাকের কান্দিল এলাকায় পিকেকে গেরিলাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার ‘উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা’ করছে।

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় এরবিল প্রদেশের ‘কান্দিল’ পাহাড়ি এলাকা তুরস্কের সীমান্ত থেকে সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

আঙ্কারা অভিযোগ করছে, কুর্দি গেরিলারা ওই এলাকায় সদরদপ্তর স্থাপন করেছে। কুর্দি অধ্যুষিত এলাকার বৃহত্তর স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে পিকেকে ১৯৮৪ সাল থেকে তুর্কি সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ায় সাতটি মসজিদ বন্ধ ও ৬০ জন ইমামকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় দেশটিকে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান। শনিবার এক ইফতার অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান কুর্জের কট্টর ডানপন্থী সরকার যে সিধান্ত নিতে যাচ্ছে তাতে বিশ্বে ধর্মযুদ্ধ লেগে যেতে পারে। এমন উগ্রবাদ চলতে থাকলে বিশ্ব ক্রমশই ধর্মযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাবে। আপনারা এমন করলে আমরা কি বসে থাকব? না, আমরাও পাল্টা ব্যবস্থা নেব। পশ্চিমা বিশ্বের উচিত সম্মিলিতভাবে কাজ করা।

গত সপ্তাহে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে একটি শিশুতোষ নাটকের জের ধরে তুর্কি প্রবাসীদের পরিচালিত সাতটি মসজিদ বন্ধ করার ঘোষণা দেয় অস্ট্রিয়ার সরকার। একই সাথে তারা অন্তত ৬০ জন ইমামকে বহিষ্কার করারও ঘোষণা দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের যেসব দেশে ইসলাম বিদ্বেষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তার মধ্যে অস্ট্রিয়া অন্যতম। দেশটিতে মুসলিম অভিবাসীদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময় আন্দোলন হয়েছে।

‘রাজনৈতিক ইসলাম’ প্রচার করছে এমন অভিযোগে মসজিদগুলো বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুর্জের সরকার। এসব মসজিদে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো থেকে কেন তহবিল সরবরাহ করা হয় তা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে অস্ট্রিয়ার সরকারের। এসব মসজিদের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে তুর্কি প্রবাসীদের সংগঠন টার্কিশ ইসলামিক কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংস্থা।


আরো সংবাদ