২৩ জুন ২০১৮

মসজিদ বন্ধ : অস্ট্রিয়াকে কঠোর হুঁশিয়ারি এরদোগানের

রজব তাইয়েব এরদোগান - ফাইল ছবি

ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ায় সাতটি মসজিদ বন্ধ ও ৬০ জন ইমামকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় দেশটিকে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। শনিবার এক ইফতার অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান কুর্জের কট্টর ডানপন্থী সরকার যে সিধান্ত নিতে যাচ্ছে তাতে বিশ্বে ধর্মযুদ্ধ লেগে যেতে পারে। তিনি বলেন, এমন উগ্রবাদ চলতে থাকলে বিশ্ব ক্রমশই ধর্মযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাবে। আপনারা এমন করলে আমরা কি বসে থাকব? না, আমরাও পাল্টা ব্যবস্থা নেব। পশ্চিমা বিশ্বের উচিত সম্মিলিতভাবে কাজ করা।

গত সপ্তাহে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে একটি শিশুতোষ নাটকের জের ধরে তুর্কি প্রবাসীদের পরিচালিত সাতটি মসজিদ বন্ধ করার ঘোষণা দেয় অস্ট্রিয়ার সরকার। একই সাথে তারা অন্তত ৬০ জন ইমামকে বহিষ্কার করারও ঘোষণা দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের যেসব দেশে ইসলাম বিদ্বেষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তার মধ্যে অস্ট্রিয়া অন্যতম। দেশটিতে মুসলিম অভিবাসীদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময় আন্দোলন হয়েছে।

‘রাজনৈতিক ইসলাম’ প্রচার করছে এমন অভিযোগে মসজিদগুলো বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুর্জের সরকার। এসব মসজিদে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো থেকে কেন তহবিল সরবরাহ করা হয় তা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে অস্ট্রিয়ার সরকারের। এসব মসজিদের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে তুর্কি প্রবাসীদের সংগঠন টার্কিশ ইসলামিক কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংস্থা।

পূর্বেকার খবর

৭টি মসজিদ বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা অস্ট্রিয়ার

সাতটি মসজিদ বন্ধ ও ৬০ জন ইমামকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছে পূর্ব ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়া। দেশটির সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার অস্ট্রিয়ার কট্টর ডানপন্থী সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক  বছরগুলোতে ইউরোপের অন্যান্য স্থানের মতো দেশটিতেও ইসলাম বিদ্বেষ বেশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

শুক্রবার অস্ট্রিয়ার কট্টর ডানপন্থী সরকার জানিয়েছে, সাতটি মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে এবং ইমামদের বহিষ্কার করা হচ্ছে। কারণ তারা ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকে বৈদেশিক অর্থায়ন করছে। এদিকে তুরস্কের ডেইলি সাবাহ পত্রিকা জানিয়েছে, তুরস্কের ওপর ক্ষোভ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দেশটি, কারণ যেসব ইমামদের বহিষ্কার করা হবে তাদের বেশিরভাগই তুর্কি বংশোদ্ভূত।

অস্ট্রীয় কর্মকর্তাদের কথায়ও পাওয়া গেছে সেই সুর। দেশটির চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ বলেন, সরকার ভিয়েনায় একটি তুর্কি জাতীয়তাবাদী মসজিদ এবং আরব ধর্মীয় সম্প্রদায় নামে একটি দলকে বিলীন করে দিচ্ছেন, যারা ৬ টি মসজিদ পরিচালনা করে থাকে। অজুহাত হিসেবে তারা বলছে, মসজিদগুলোতে ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ প্রচার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন গোষ্ঠিকে অর্থায়ন করছে।

গত এপ্রিল মাসের একটি ঘটনার সূত্র ধরে অস্ট্রীয় সরকার এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। এপ্রিলে তুর্কি বংশোদ্ভূত শিশুরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার গালিপোলি সংঘাত নিয়ে একটি নাটক মঞ্চস্থ করে যাতে দেখা গেছে সৈন্যরা তুর্কি পাতাকাকে অভিবাদন জানাচ্ছে, তুরস্কের পতাকা উড়াচ্ছে, এক পর্যায়ে তারা নিহত হয়। এরপর তাদের লাশ পতাকা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানের কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক শুরু হয় অস্ট্রিয়ায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, আমেনিয়াসহ অনেক দেশের সাথেই তুরস্কের মতপার্থক্য রয়েছে। আর এটিকেই এখন মসজিদ বন্ধের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০১৫ সালের একটি আইনের উপর ভিত্তি করে এই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আইনিটিতে বলা হয়েছে,ধর্মীয় সম্প্রদায়কে বিদেশ থেকে অর্থায়ন করা যাবে না। আর এর আলোকেই সরকার মসজিদ বন্ধ ও ইমামদের বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হার্বার্ট কিকিল বলেন, আতিয়াব (অস্ট্রিয়া তুরস্ক ইসলামী ইউনিয়ন) এর মাধ্যমে প্রায় ৬০ জন ইমামের বসবাসের অনুমতি দেয়, এই গ্রুপটি অস্ট্রিয়াতে অনেকগুলো মসজিদ দেখভালো করে করে, তাদের অর্থায়ন সম্পর্কে উদ্বেগগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এই পর্যবেক্ষণ একটি সম্প্রদায়ের মানুষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সেখানে ৬০ জন ইমামসহ মোট ১৫০ জন রয়েছেন যারা তাদের নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

যে ছবিগুলোর সূত্র ধরে অস্ট্রিয়া মসজিদ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে ছবিগুলোর ব্যাপারে আতিয়াব নিন্দা জানিয়েছে। ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছে। আতিয়াব একটি স্বাধীন সংস্থা তবে সেটি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ধর্মীয় বিষয়ক (দ্বীনিয়াত) থেকে তহবিল ও কর্মচারী পেয়ে থাকে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন শুক্রবার টুইটারে পোস্টের মাধ্যমে সিদ্ধান্তটির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, অস্ট্রিয়া সরকারের সাতটি মসজিদ বন্ধ এবং ইমামদের বহিস্কারের সিদ্ধান্ত এই দেশের ইসলামের প্রতি বর্ণবাদী এবং বৈষম্যমূলক মনোভাবের প্রতিফলন। মুখপাত্র আরো উল্লেখ করেন, এটি মুসলিম সম্প্রদায়কে সস্তা রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার একটি প্রচেষ্টা।

এই সিদ্ধান্তটি অস্ট্রিয়ার সরকার এর আদর্শিক প্রথাগত ও সর্বজনীন আইনি নীতি লঙ্ঘন করছে, সামাজিক একত্রীকরণ নীতি, সংখ্যালঘু অধিকার এবং সহ-অস্তিত্বের নীতিশাস্ত্রকে লঙ্ঘন করেছে। ইসলাম ভীতি ও বর্ণবাদকে স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা সকল পরিস্থিতিতেই প্রত্যাখ্যান করা উচিত বলে টুইটারে উল্লেখ করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র।


আরো সংবাদ