২৩ জুন ২০১৮

জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা এরদোগানের

রজব তৈয়ব এরদোগান - সংগৃহীত

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বৃস্পতিবার বলেছেন, এ মাসের নির্বাচনের পর দেশটিতে জারি করা জরুরি অবস্থা তুলে নেয়া হতে পারে। দুই বছর আগে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটি জারি করা হয়। এ তুর্কি নেতা এর আগে জোর দিয়ে বলেছিলেন যে দেশ থেকে সন্ত্রাসী হুমকি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল না করা পর্যন্ত তিনি জরুরি অবস্থা তুলে নেবেন না। আগামী ২৪ জুনের প্রেসিডেন্ট ও আইন সভা নির্বাচনে এরদোগানকে বিরোধী দলের শক্ত প্রতিদ্ব›দ্বীতা মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাতে টেলিভিশনে প্রচারিত এক সাক্ষাতকারে এরদোগান বলেন, ‘এ নির্বাচনের পর আমরা জরুরি অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো এবং এটি তুলে নেয়া হতে পারে।’ এ মাসের গোড়ার দিকে সরকারের এক মন্ত্রী বলেন, এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষে ঘটানো ২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ২ হাজারের বেশী লোককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে তুর্কি আদালত।

দুই হাজার ব্যক্তিকে কারাদণ্ড
আনাদোলু জানায়, ২০১৬ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিপ্রায়ে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির বিচার বিভাগ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিচারমন্ত্রী আব্দুল হামিদ গুল এ কথা জানান।
বিচারমন্ত্রী জানান, অভ্যুত্থানের ঘটনায় ২৮৭টি মামলার মধ্যে ১৭১টি মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এসেছে। এতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২ হাজার ১৪০ জনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বেকসুর খালাস পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭৮ জন। চলতি বছরের শেষের দিকে বাকি মামলাগুলো বিচার সমাপ্ত হবে বলে জানান তিনি।
ওই অভ্যুত্থান চেষ্টার পর থেকে এ পর্যন্ত হাজারো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে তুরস্ক সরকার। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সামরিক, বেসামরিক আমলা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বামপন্থী দলগুলোর নেতাকর্মীরা রয়েছেন।

২০১৬ সালের ১৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা করা হয়। তবে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপে তা ব্যর্থ হয়ে যায়। ওই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে কমপক্ষে ২৬০ জন নিহত এবং আরও ২ হাজার ২শ মানুষ আহত হয়। ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে তুর্কি সরকার। অভ্যুত্থানের পরপরই দেড় লাখের বেশি সরকারি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং আরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়।

ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইজমিরের একটি আদালতে বিচারের মুখোমুখি হন ২৮০ সাবেক সেনা সদস্য। ১০৪ সাবেক সেনা সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও ৫২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।

১০৪ সাবেক সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার পাশাপাশি প্রেসিডেন্টকে হত্যা চেষ্টার ষড়যন্ত্রে সহায়তার অভিযোগে ২১ জনের ২০ বছরের এবং একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হওয়ার কারণে ৩১ জনের সাত এবং ১১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তুরস্ক সরকার বরাবরই এ অভ্যুত্থানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা ফতহুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করে আসছে। তবে গুলেন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


আরো সংবাদ