২৩ জুন ২০১৮

বিদ্রোহীদের ফেরত দিতে তুরস্কের চাপ

বিদ্রোহীদের ফেরত দিতে তুরস্কের চাপ - ছবি : সংগৃহীত

২০১৬ সালে তুরস্কের সরকার ও প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর বিপথগামী একাংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের আহ্বানে দেশটির সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয় এবং দেশটির আটজন সেনাকর্মকর্তা প্রতিবেশী দেশ গ্রিসে পালিয়ে যায়। সে সময় গ্রিস এই সেনাকর্মকর্তাদের গ্রেফতার করলেও সম্প্রতি তাদের মুক্তি দেয়ায় দেশ দু’টির মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, এই আট সেনাকর্মকর্তাকে দেশদ্রোহী ঘোষণা করে তাদের তুরস্কের হাতে ফিরিয়ে দিতে বরাবরই দাবি জানিয়ে আসছে আঙ্কারা।

এমন উত্তেজনার মধ্যেই গ্রিসের আকাশসীমায় যুদ্ধ বিমান পাঠিয়েছে তুরস্ক। গত মঙ্গলবার এজিয়ান সাগরের একটি দ্বীপের ওপর দিয়ে অল্প উচ্চতায় ২০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে তুরস্কের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান উড়ে বেড়ায়। উল্লেখ্য, গ্রিস সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে বলে বেশ অনেক দিন ধরে তুরস্ক প্রকাশ্যেই অভিযোগ করে আসছে। পাশাপাশি ২০১৬ সালের জুলাই মাসের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত ও বিচারের অঙ্গীকার করেছে দেশটি। তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রী বাকির বোজদাগ গত সোমবার বলেন, ওই দেশদ্রোহী সেনারা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে বের করা ও তুরস্কে ফিরিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব। অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর সেনারা গ্রিসে পালিয়ে গেলেও তাদের তুরস্কের হাতে ফিরিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পরপরই গ্রিসের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিকে আমরা ইতিবাচকভাবেই নিয়েছিলাম। আমরা ভেবিছিলাম গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী সিপ্রাস তার দেয়া কথা অনুযায়ী পলাতক সেনাদের তুরস্কের কাছে ফিরিয়ে দেবেন। কিন্তু তিনি তার কথা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রায় দুই বছর পার হলেও এখনো তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। তুরস্কের পলাতক এই আট সেনাকর্মকর্তার ভাগ্য এখন গ্রিসের হাতে। ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের একদিন পর তারা হেলিকপ্টার নিয়ে গ্রিসে পালিয়ে যায়। যদিও এই অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত আট সেনা।


আরো পড়ুন :
সিরিয়ার মানবিজে তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ন্যাটোর সমর্থন
আনাদোলু ও আলজাজিরা
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর মানবিজ থেকে কুর্দি বিদ্রোহীদের সরে যাওয়ার ব্যাপারে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতায় সমর্থন জানিয়েছে ন্যাটো। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব জিন্স স্টলটেনবার্গ।

এর আগে সোমবার ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে মিলিত হন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মওলুদ কাভুসোগলু এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ওই বৈঠকের পরই মানবিজ থেকে কুর্দি বিদ্রোহীদের সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার ঘোষণা দেয়া হয়।

ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ওই বৈঠককে সফল আখ্যা দিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে আমাদের যৌথ পরিকল্পনার কাজ শুরু হবে। ছয় মাসের মধ্যে এটি শেষ করা হবে। রাক্কা, কোবানিসহ সিরিয়ার ওয়াইপিজি নিয়ন্ত্রিত অন্য শহরগুলোতেও একই মডেল অনুসরণ করা হবে।

এদিকে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতার পর সিরিয়ার কুর্দিস পিপলস প্রটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি) জানিয়েছে, তাদের সামরিক উপদেষ্টাদের মানবিজ ছেড়ে চলে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তারা চলে গেলেও স্থানীয়রা যখনই ডাকবেন, তখনই সাড়া দেবে ওয়াইপিজি। ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের মার্কিন সহায়তায় ুব্ধ তুরস্ক মানবিজেও অভিযান পরিচালনার হুমকি দিয়েছে। এতে করে তাদের সাথে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের মুখোমুখি সঙ্ঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ওয়াইপিজি। এ বিদ্রোহীদের মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ বহু পুরনো। ২০১৭ সালের মে মাসে কুর্দিদের সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন পেন্টাগনের মুখপাত্র মেজর আদ্রিয়ান রেনকাইন। পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো অস্ত্রের প্রথম চালানের মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কিছু ছোট অস্ত্র ও সামরিক যানবাহন রয়েছে। তবে কুর্দিদের মার্কিন সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে তীব্র আপত্তি রয়েছে তুরস্কের।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ন্যাটোর যুদ্ধ প্রস্তুতির চাপ যুক্তরাষ্ট্রের
রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবেলায় উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজন পড়লে ৩০ দিনের মধ্যে জোটের ৩০ ব্যাটেলিয়ন স্থলসেনা, ৩০টি যুদ্ধজাহাজ ও ৩০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের পরিকল্পনার জন্য ব্রাসেলসে এই বিষয়ে চুক্তির জন্য চাপ দেবেন মার্কিন প্রতিরামন্ত্রী জিম ম্যাটিস।

আজ বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানীতে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরামন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি এই চাপ দেবেন বলে জানা গেছে। আগামী জুলাইতে ন্যাটোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এই বিষয়ে চুক্তি স্বারিত হবে। এই পরিকল্পনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা হুমকির জন্য ন্যাটোকেই দায়ী করেছে রাশিয়া। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল এবং ২০১৫ সালে সিরিয়া যুদ্ধে রাশিয়ার অংশগ্রহণকে ভালোভাবে নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। তখন থেকেই রাশিয়ার প্রকাশ্য বার্তাকে আর বিশ্বাস করছে না ওয়াশিংটন। চলতি বছরের পেন্টাগনের প্রতিরা নীতিতে মস্কোকে সবচেয়ে বড় হুমকি বলে বর্ণনা করা হয়। ওই নীতিতে বলা হয় ন্যাটো জোটকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে রাশিয়া।
রাশিয়ার হুমকি মোকাবেলায় ন্যাটো জোটের যুদ্ধ প্রস্তুতির বিষয়ে চাপ বাড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে নতুন পরিকল্পনায় কতজন সেনা মোতায়েন করা হবে তা পরিষ্কার নয়। তবে ন্যাটো জোটের প্রতি ব্যাটেলিয়ন সৈন্য সংখ্যা বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।

 


আরো সংবাদ