২৩ জুন ২০১৮

এফ-৩৫ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-তুর্কি যুদ্ধ!

এফ-৩৫ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-তুর্কি যুদ্ধ! - ফাইল ছবি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি না করে তাহলে দেশটি অন্য কোনো দেশের দ্বারস্থ হবে বলে জানিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু। প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের সরবরাহ করবে না বলে ঘোষণা দেয়ার পর গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন।

গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সিনেট কমিটি ৭১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিরক্ষা নীতি বিল পাস করার পাশাপাশি তুরস্ক যাতে আরো যুদ্ধবিমান ক্রয় করতে না পারে সেজন্য একটি নতুন আইন পাস করে। এর ফলে ন্যাটো জোটের অন্যতম প্রধান দুটি মিত্রের সম্পর্কের মধ্যে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভুসোগলু বলেন, ‘যুদ্ধবিমান ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল বা কাটছাঁট করতে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই। আবার এটা এমন কোনো চুক্তি নয় যে ওয়াশিংটন নিজে থেকেই যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।’

জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর, সিরিয়ায় মার্কিননীতিসহ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় আঙ্কারা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক বেশ শীতল রূপ নিয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত বিতর্কিত ভূমিকা পালন করে এসেছে। গত জানুয়ারি মাস থেকে সিরিয়ার উত্তরে আফরিন অঞ্চলে ‘সিরিয়ান কুর্দিশ ওয়াইপিজি’ নামক সংগঠনের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করে তুরস্ক। মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনপুষ্ট এই সংগঠনের বিরুদ্ধে তুরস্কের কঠোর অভিযান শুরু হলে ওয়াশিংটন ক্ষুব্ধ হয়। সিরিয়ার আফরিন অঞ্চলভিত্তিক এই সংগঠনকে আঙ্কারা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে এবং তুরস্কের অবৈধ কুর্দি মিলিশিয়া বাহিনীর সাথে কুর্দিশ ওয়াইপিজির সংযোগ আছে বলে ধারণা করা হয়।

গত সপ্তাহে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আঙ্কারায় বৈঠক করেন। মানবিজে নিরাপত্তা ও ন্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বৈঠকে একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। শেষপর্যন্ত এই খসড়া চূড়ান্তভাবে পাস হলে তা উত্তর সিরিয়ার অন্য অঞ্চলগুলোয়ও আরোপ করা হবে বলে জানান কাভুসোগলু।

আরো পড়ুন :

ইতিহাসের পাঠ্য বদলে দিতে মিয়ানমার ইসরাইল শিক্ষাচুক্তি
হারেৎজ
পরস্পরের ইতিহাসভিত্তিক পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন অংশ পরিবর্তন করার ব্যাপারে সমঝোতা করেছে ইসরাইল ও মিয়ানমার। গত সোমবার শিা সহযোগিতাবিষয়ক এক চুক্তিতে বিষয়টিতে একমত হয় দুই দেশ।

চুক্তি অনুযায়ী মিয়ানমার ইসরাইলের পাঠ্যসূচিতে বর্ণিত মিয়ানমারের ইতিহাস ইচ্ছে মতো বদলে দিতে পারবে। একইভাবে মিয়ানমারের পাঠ্যসূচিতে থাকা নিজেদের ইতিহাস বদলে দিতে পারবে ইসরাইল। দেশটির সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিজিপি হোতোভেলি এক টুইট বার্তায় বলেন, বিশ্বজুড়ে আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্যই মিয়ানমারের সঙ্গে এই শিা চুক্তি।
রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মাত্রায় জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানো মিয়ানমার ও ফিলিস্তিনে দখলদারি চালানো ইসরাইলের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধুত্বের ওপর জোর দিয়েই চুক্তিটি করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসরাইলি অস্ত্র উৎপাদনকারীরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে।

সোমবারের চুক্তিতে মিয়ানমারে একটি শিা কর্মসূচি চালু করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচিতে হলোকাস্ট এবং অসহিষ্ণুতা, বর্ণবাদ, ইহুদিবিদ্বেষ ও বিদেশাতঙ্কের নেতিবাচক পরিণতি সম্পর্কে শিা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। চুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে শিক ও শিার্থী বিনিময়ের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তিটিতে ইসরাইল ও মিয়ানমার কিভাবে একে-অপরের পাঠ্যবই সংশোধনে কাজ করবে। সরকারগুলো স্কুলের বইগুলো পর্যালোচনা করবে। বিশেষ করে নিজেদের ইতিহাস অন্য দেশের বইতে কিভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তাই দেখবে তারা। পরে যেখানে প্রয়োজন তা সংশোধন করবে দেশ দুটি।
গত বছর রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ডকে ‘জাতিগত নিধনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ’ হিসেবে অ্যাখ্যা দেয় জাতিসঙ্ঘ। আর গত মার্চ মাস থেকে শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল।


আরো সংবাদ