২৩ জুন ২০১৮

জার্মানির বিরুদ্ধে ভণ্ডামির অভিযোগ তুরস্কের, ইয়েমেনকে ১০ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা

জার্মানির বিরুদ্ধে ভণ্ডামির অভিযোগ তুরস্কের, ইয়েমেনকে ১০ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা - সংগৃহীত

বার্লিন ও আঙ্কারার মধ্যে বাকযুদ্ধ চলছে। আঙ্কারার অভিযোগ, বার্লিন সন্ত্রাসবাদের পক্ষে এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সেই পিকেকেকে সহায়তা দিচ্ছে যা তুরস্কের বিরুদ্ধে এক যুগেরও বেশি সময় যুদ্ধ করেছে। আর বার্লিনের দাবি, আঙ্কারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে থাকছে না।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগলু বলেছেন, কুর্দিদের মিছিল করার অনুমতি দিয়েছে জার্মানি। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জার্মানির দ্বিমুখীনীতির বিষয়টি ফুটে ওঠে। জার্মানির সিদ্ধান্ত ভন্ডামি।

জার্মানির সিদ্ধান্তের নিন্দা করে সম্প্রতি প্রকাশিত বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি ওই ভণ্ডামির বিরুদ্ধে যা না গণতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, না সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধে সহায়তা করেরা আর না তো তুর্কি-জার্মান সম্পর্ক স্বাভাবিক করে আনার প্রত্যাশার সাথে যায়।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই মিছিলে নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) সংশ্লিষ্ট ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং তা হতে দেওয়াটা সাম্প্রতিককালে জার্মানির দ্বিমুখীনীতির উদাহরণ।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তুর্কি থাকে জার্মানিতে। তুরস্কের সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, জুনের ২৪ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য তুরস্কের সাধারণ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দেশটিতে বিদেশিরা সভা সমাবেশ করতে পারবে না। কিন্তু কুর্দিদের দল পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এইচডিপি) জার্মানির কোলন শহরে মিছিল করার অনুমতি দিয়েছিল।

২০১৭ সালের এপ্রিলে তুরস্কের গণভোটের আগে নেদারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও ডেনমার্ক তাদের দেশের মধ্যে তুরস্কের মন্ত্রীদের মিছিল করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। মিছিল আয়োজন করতে চাওয়া একজন মন্ত্রীকে বহিষ্কার করার পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যেব এরদোগান ওই সিদ্ধান্তকে নাৎসিদের আচরণের সাথে তুলনা দিয়ে নেদারল্যান্ড কর্তৃপক্ষকে নাৎসিদের অবশিষ্টাংশ আখ্যা দিয়েছিলেন।

এদিকে সৌদি জোটের সামরিক অভিযানের মুখে থাকা ইয়েমেনকে ১০ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা দেবে তুরস্ক ও কাতার। রবিবার ইস্তাম্বুলের রেড ক্রিসেন্ট কার্যালয়ে তার্কিশ রেড ক্রিসেন্ট এবং কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় তার্কিশ রেড ক্রিসেন্টের প্রধান কেরেম কিনিক এবং কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের সিইও ফয়সাল রশিদ আল ফেহাইদা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

দুই প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা অনুযায়ী, দুইটি ভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে। প্রথমত, খাদ্য সাহায্য পৌঁছে দিতে ১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে সেখানকার একটি হাসপাতালে গ্যাস্ট্রোএনটারোলজিক্যাল এন্ডোসকপিক ট্রিটমেন্ট সেন্টার গড়ে তোলা হবে।

ইয়েমেনে প্রায় ১ কোটি মানুষকে যাতে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে না হয় সেজন্য খাদ্য পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুততর করার তাগিদ দিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। সংস্থাটির জরুরি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের সমন্বয়কারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বন্দর দিয়ে আমদানি করা জ্বালানি ও খাদ্য দ্রুত ইয়েমেনে ঢুকতে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গত শুক্রবার জেনেভাতে এক লিখিত বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

গত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের বন্দর দিয়ে আমদানি পণ্য ঢুকতে দিচ্ছে না। তাদের বক্তব্য, হুথিদের অস্ত্র আমদানি ঠেকাতে তারা ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপে বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও এখনো পণ্য খালাস স্বাভাবিক গতি পায়নি। এদিকে আমদানি করা খাদ্য পণ্য ইয়েমেনে ঢুকতে দেরি হওয়ায় দেশটির খাদ্য পরিস্থিতি ক্রমেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে।

ইয়েমেন ৯০ শতাংশ খাবার বাইরে থেকে আমদানি করে থাকে। ইয়েমেনে সহায়তা পাঠানোতে গতি আনার লক্ষ্যে গত মাসে জাতিসঙ্ঘ নিজেই জাহাজ পরিদর্শনের কাজ শুরু করে। তারপরও সৌদি জোট নিজস্ব কর্তৃত্বে জাহাজ পরিদর্শন করতে থাকায় পণ্য খালাস প্রক্রিয়া ধীর গতির হয়ে পড়েছে। এতে বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনাকারীরাও অসন্তুষ্ট।

নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও সীমিত করে দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। সে কারণে পশ্চিম উপকূলীয় এলাকা ও তায়েজ শহরে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত তিন বছরের ইয়েমেন যুদ্ধে নিহত হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে আরো প্রায় ৩০ লাখ। বড় ধরনের কলেরা মহামারির আশঙ্কাতেও রয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্ক-কাতারের মানবিক সহায়তার ঘোষণা এলো।

 


আরো সংবাদ