১৩ নভেম্বর ২০১৯

ফাইভ-জি স্মার্টফোনের চমক

-

থ্রি-জি, ফোর-জির পর এবার বাজারে এসেছে ফাইভ-জি স্মার্টফোন। বিশ্বের অন্যতম ইলেকট্রনিকস সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং গ্যালাক্সি এস১০ ৫জি নামে বিশ্বের প্রথম ফাইভ-জি প্রযুক্তি সমর্থিত মোবাইল উন্মোচন করেছে। স্যামসাং ছাড়াও প্রতিযোগিতায় রয়েছে এলজি, হুয়াওয়ে, শাওমি ও নকিয়ার ফাইভ-জি স্মার্টফোন। ফাইভ-জি দৌড়ে তুলনামূলক পিছিয়ে অ্যাপল। ২০২০ সালে ফাইভ-জি ফোন আনার কথা থাকলেও ২০২১ সালের আগে ফাইভ-জি ফোন উন্মুক্ত করবে না অ্যাপল। লিখেছেন আহমেদ ইফতেখার

মোবাইল ফোনের পঞ্চম জেনারেশন ইন্টারনেটকে সংক্ষেপে ডাকা হয় ফাইভ-জি; যেখানে অনেক দ্রুতগতিতে ইন্টারনেট তথ্য ডাউনলোড এবং আপলোড করা যাবে। যার সেবার আওতা হবে ব্যাপক। এটা আসলে রেডিও তরঙ্গের আরো বেশি ব্যবহার নিশ্চিত করবে। এর ফলে একই সময়ে একই স্থানে বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে পারবে।
স্যামসাং
ইতোমধ্যে বিশ্বের অন্যতম ইলেকট্রনিকস সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং দক্ষিণ কোরিয়ায় বিশ্বের প্রথম ফাইভ-জি প্রযুক্তি সমর্থিত মোবাইল উন্মোচন করেছে। এই ফোনের নাম হলো গ্যালাক্সি এস১০ ৫জি। এটিই বিশ্বের প্রথম মোবাইল, যাতে বিল্ট ইন ফাইভ-জি প্রযুক্তি রয়েছে।
ফাইভ-জি প্রযুক্তি সমর্থন করা এই ফোনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখা, শোনা, ছোঁয়া ও ঘ্রাণ নেয়ার মতো সংবেদনশীল অভিজ্ঞতা) ডিসপ্লে ও ইন্টারনেটের দ্রুতগতি। বিশেষ করে সরাসরি সম্প্রচারিত খেলা দেখা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে নতুন এই ফোনের কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ব্যবহারকারীরা।
এলজি
এলজি ইলেকট্রনিক্সের ফাইভ-জি স্মার্টফোন ভি৫০ থিনকিউতে আরো দ্রুতগতির এবং উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করা হয়েছে। এলজি বলেছে, ফাইভ-জিতে যেহেতু লোকে খুবই দ্রুতগতিতে অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে ডাটা ডাউনলোড করতে পারবে সেহেতু আমরা ফাইভ-জির ভি৫০ থিনকিউ এবং ফোর-জির জি৮ থিনকিউ স্মার্টফোন দুটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরো উন্নত করেছি। ফলে ইউজাররা আরো দ্রুত এবং সঠিকভাবে তথ্য সার্চ করতে পারবেন। আর ক্যামেরায়ও আরো ভালো মানের ছবি তুলতে পারবেন। কোনো বিশেষ ছবি সার্চ করতে গেলেও অনেক সহজেই তা পাওয়া যাবে। এর ফলে স্মার্টফোনটির নিরাপত্তাও অনেক জোরদার হয়েছে। ফোনে থাকা কোনো তথ্য হ্যাক করা অনেক বেশি কঠিন হবে। কথিত আছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বেশি চার্জ খেয়ে ফেলে। কিন্তু এলজি জানিয়েছে, তাদের এই উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যাটারিও খরচ হবে অনেক কম।
আইওটি বা ইন্টারনেট অফ থিংসেও প্রবেশ করা যাবে কানেক্ট বাটনটি ক্লিক করার সাথে সাথেই। এই উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা স্মার্টফোনটির ইউজারদের ছবি তোলার অভিজ্ঞতাকে আরো আনন্দদায়ক করবে। এলজি ২০১৮ সালে এর ভিশন এআই ক্যামেরা প্রযুক্তি প্রথম বাজারে ছাড়ে। ভিশন এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো বস্তুকে শনাক্ত করতে পারে এবং ভালো ছবি তোলার জন্য কয়েক ডজন ভিন্ন অ্যাঙ্গেল রেকমেন্ড করে।
এলজি বলেছে, চলতি বছরের এই আরো উন্নত এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত ক্যামেরা আগের বছরের সংস্করণের চেয়ে আট গুণ বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন। ফলে এবারের ক্যামেরাটি ০.০২ সেকেন্ডেই কোনো বস্তুকে বিশ্লেষণ করে শনাক্ত করতে সক্ষম এবং এতে রয়েছে ১৯টি শুটিং মোড, যেগুলোতে ফোনটি প্রয়োজন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সুইচ করতে পারবে।
এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত ক্যামেরায় আরো আছে গুগল লেন্স যা মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে ইউজারকে তাদের চার পাশের জিনিস শনাক্ত করা এবং চিত্রগ্রহণে সহায়তা করবে।
হুয়াওয়ে
প্রথমবারের মতো ফাইভ-জি সমর্থিত ভাঁজ করা যায় (ফোল্ডেবল) এমন স্মার্টফোন এনেছে চীনের প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। ৭ ন্যানোমিটার চিপসেটের বেলং ৫০০০, ৪৫০০ এমএএইচের শক্তিশালী ব্যাটারি, ৫৫ ওয়াটের সুপার চার্জ সুবিধাসহ হুয়াওয়ে মেট এক্স ভাঁজ করা হলে স্মার্টফোনটির ডিসপ্লের আকার হয় ৬.৬ ইঞ্চি। ভাঁজ খোলা হলে স্মার্টফোনটি ৮ ইঞ্চি ডিসপ্লের ট্যাবলেটের মতো দেখায়। ভাঁজ করা অবস্থায় স্মার্টফোনটি ফুল ডিসপ্লে ৬.৬ ইঞ্চির সমান হয়। এ ছাড়া ভাঁজ করা না থাকলে এর ডিসপ্লে ৮ ইঞ্চি ট্যাবলেটের মতো দেখা যায়। মেট এক্স-এ ব্যবহার করা হয়েছে লেইকার ক্যামেরা। এর সাথে থাকবে ক্যামেরার অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি ও ফিচার।
শাওমি
চীনা টেক জায়ান্ট ও স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শাওমি ফাইভ-জি সাপোর্ট করে এমন একটি স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে। শাওমির আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্ট স্যামসাং তাদের ফাইভ-জিবান্ধব স্মার্টফোনের মোড়ক উন্মোচন করে। শাওমি দাবি করেছে, স্যামসাংয়ের স্মার্টফোনটির চেয়ে তাদের ফোনটি কম মূল্যে পাওয়া যাবে।
ফাইভ-জি প্রযুক্তির মি-ম্যাক্স-থ্রি স্মার্টফোনটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে যা প্রতি সেকেন্ডে ২ গিগা গতিতে ডাউনলোড করতে সক্ষম। শাওমি এই প্রযুক্তির স্মার্টফোন নিয়ে কাজ করছে ২০১৬ সাল থেকে। ‘চায়না মোবাইল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে এটা নিয়ে কাজ করছে তারা। শাওমির ফাইভ-জি ফোনটির মূল্য ধরা হয়েছে ৫৯৯ ইউরো বা ৬৭৯ মার্কিন ডলার।
নকিয়া
ফাইভ-জি হচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্কের পরবর্তী প্রজন্ম। এই নেটওয়ার্ক সমর্থিত মোবাইল ফোনের দাম অনেক বেশি। ব্যয়বহুল এই স্মার্টফোন বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে নকিয়ার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এইচএমডি গ্লোবাল।
প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালের মধ্যে সাশ্রয়ী দামে নকিয়ার ফাইভ-জি স্মার্টফোন বাজারে ছাড়বে। এইচএমডি গ্লোবালের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার জুহো সারভিকাস বলেন, আমরা ফাইভ-জি যুগে প্রবেশের সাথে সাথে সাশ্রয়ী দামে ফাইভ-জি স্মার্টফোন বাজারে ছাড়ব। আমরা বাজারে প্রচলিত ফাইভ-জি স্মার্টফোনের দামের অর্ধেক দামে বিক্রির লক্ষ্য ঠিক করেছি।
চলতি বছরে দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনের কিছু শহরে ফাইভ-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু হয়েছে। প্রযুক্তির এই অপার সম্ভাবনার পরও মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে ফাইভ-জি নিয়ে। ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইভ-জি নেটওয়ার্কে বাড়বে ক্যান্সারের ঝুঁকি।


আরো সংবাদ

ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর আমীর নির্বাচিত (২৬৯৯৯)বাবরি রায় নিয়ে যা বললেন দিল্লির শাহী ইমাম (২৫২৯২)বিয়ের ২৮ দিন পর স্বামী হারানো সেই আফরোজার কোলে নতুন অতিথি (১২০৩৩)মন্দিরের আগে রামের বিশাল মূর্তি অযোধ্যায় (১১৯১২)হাসপাতালের মর্গে ছোঁয়ামনির নিথর দেহ, ইয়াছিনের খোঁজে স্বজনদের আহাজারি (১০৮৮৭)ট্রেন দুর্ঘটনা : বি.বাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি ৪৪, রক্তের প্রয়োজন (৯৭৮৬)ব্রিটেনের নির্বাচনে পাকিস্তান-ভারত লড়াই! (৮৪৯৬)বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে হিন্দু সংগঠনগুলোতে প্রকাশ্য মতপার্থক্য ও বাকযুদ্ধ (৮১১২)গোসলের পর কাফন পরানো হলেও জানাজা হল না কিবরিয়ার (৭৮২৫)মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করায় গাম্বিয়াকে ঢাকার অভিনন্দন (৭৭৫৬)