১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফেসবুকের গোপনীয়তা সংস্কৃতি

-

ব্যবহারকারীদের তথ্যের অব্যবস্থাপনা বিষয়ে চলমান তদন্ত নিষ্পত্তির জন্য ফেসবুককে ৫০০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)। রাজনৈতিক পরামর্শক ও তথ্য বিশ্লেষক ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার কাছে অবৈধভাবে ব্যবহারকারীর তথ্য হস্তান্তরের অভিযোগে এ জরিমানা করা হয়েছে। এফটিসির সাথে সমঝোতায় পৌঁছতে জরিমানা পরিশোধ করার পাশাপাশি একটি প্রাইভেসি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক। এত বড় অঙ্কের জরিমানার কারণে কি ফেসবুকের গোপনীয়তা সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসবে?
গোপনীয়তা ইস্যুতে ফেসবুকের বিরুদ্ধে যে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে, তা এ-যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। গোপনীয়তা ইস্যুতে এর আগে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ জরিমানার অঙ্ক যত ছিল, তার চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি। বড় অঙ্কের জরিমানা কিংবা প্রাইভেসি বোর্ড গঠন করলে ফেসবুকের গোপনীয় সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসবে মনে করাটা বোকামি। কারণ খুব অল্প সময়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে যাওয়া ফেসবুকের কার্যক্রম যেভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে, সেভাবে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ইস্যুতে জোর দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।
গোপনীয় ইস্যুতে চলমান তদন্তের সমঝোতার অংশ হিসেবে ফেসবুক প্রাইভেসি-বিষয়ক একটি বোর্ড কমিটি গঠনে একমত হয়েছে। এছাড়া নতুন ব্যবহারকারীর প্রাইভেসি রক্ষায় এক্সিকিউটিভ সনদ নিতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গকে প্রতি তিন মাস অন্তর একটি সনদ নিতে হবে। এতে ফেসবুক যে ব্যবহারকারীদের তথ্যের যথাযথ নিরাপত্তা দিচ্ছে তা নিশ্চিত করা হবে। গত বছর ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা তথ্য কেলেঙ্কারি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পরই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ফেসবুক। অভিযোগ ওঠে ফেসবুকের আট কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা। ওই ঘটনার পর ফেসবুকের ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্ত শুরু করে এফটিসি। একই সাথে ফেসবুক ২০১১ সালে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি ভঙ্গ করেছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় গ্রাহকদের দেয়া প্রতিশ্রুতি বারবার ভঙ্গ করছে, এমন অভিযোগ ওঠার পর সরকারের সাথ সমঝোতা চুক্তি হয়।
এফটিসির দাবি, গোপনীয়তা ইস্যুতে প্রায় আট বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাথে করা সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ফেসবুক। অনেকটা জেনেশুনে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার মতো তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ডেভেলপারদের নিজেদের সাইটে অনুমোদন দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার সাবেক কর্মী ক্রিস্টোফার উইলি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবং যুক্তরাজ্যের বেক্সিট প্রশ্নে গণভোটে ভূমিকা ছিল ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার। তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানটিকে সহযোগিতা করেছিলেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক আলেকসান্দ্র কোগান।


আরো সংবাদ