২৪ জুন ২০১৯

২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি : পর্বসংখ্যা-৭৪

বাংলা গল্প : কাঞ্চনমালা আর কাঁকনমালা
-

সুপ্রিয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের বাংলা বিষয়ের ‘গল্প : কাঞ্চনমালা আর কাঁকনমালা’ থেকে ৬টি প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।
প্রশ্ন : রাজপুত্র কোথায় বসে রাখাল বন্ধুর বাঁশি শুনত?
উত্তর : এক দেশে এক রাজার ছিল এক রাজপুত্র। রাজপুত্রের সাথে সেই রাজ্যের রাখাল ছেলের ছিল খুব ভাব। দুই বন্ধু পরস্পরকে খুব ভালোবাসত। নিঝুম দুপুরে রাখাল বাঁশি বাজাত আর রাজপুত্র গাছতলায় বন্ধুর গলা জড়িয়ে বসে সেই বাঁশির সুর শুনত।
প্রশ্ন : তোমার মা বাড়িতে কী ধরনের পিঠা বানায় লিখ।
উত্তর : আমার মা বাড়িতে অনেক ধরনের পিঠা বানায়। যেমনÑ কুলি পিঠা, চিতই পিঠা, তেল পিঠা, নকশি পিঠা, ক্ষীর, খেজুরের পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা, ভাপা পিঠা ইত্যাদি।
প্রশ্ন : অচেনা লোকটি রাজার প্রাণ রক্ষার জন্য এগিয়ে না এলে কী হতো?
উত্তর : অচেনা লোকটি রাজার প্রাণ রক্ষার জন্য এগিয়ে না এলে হয়তো রাজার শরীর থেকে সুচ বেরিয়ে আসত না। রাজা মারা যেতে পারত। কাঞ্চনমালার দুঃখের দিন শেষ হতো না।
প্রশ্ন : তুমি কি মনে করো অচেনা লোকটির কারণেই রাজার প্রাণ রক্ষা পেল?
উত্তর : আমি মনে করি অচেনা লোকটির কারণেই রাজার প্রাণ রক্ষা পেল। কারণ অচেনা লোকটিই রাজার শরীরের সব সুচ খুলে তাকে মুক্ত করেন।
প্রশ্ন : কিভাবে লোকেরা নকল রানীকে বুঝে ফেলল?
উত্তর : কাঞ্চনমালা হাতের কাঁকন দিয়ে কাঁকনমালাকে দাসী হিসেবে কিনেছিল। কিন্তু কাঁকনমালা নকল রানী সেজে কাঞ্চনমালাসহ মন্ত্রী, সেনাপতি সবার সাথে খারাপ আচরণ করত।
পিটকুড়লির ব্রত উপলক্ষে নকল রানী ও কাঞ্চনমালা পিঠা বানাতে যায়। নকল রানী বানায় আস্কে পিঠা, চাস্কে পিঠা, যাস্কে পিঠা। নকল রানীর বানানো পিঠা এমন বিস্বাদ হয় যে, কেউ তা মুখে দিতে পারে না। অন্য দিকে কাঞ্চনমালা বানায় চন্দ্রপুলী, মোহনবাঁশি, ক্ষীর মুরলী পিঠা। এসব পিঠা এতই সুস্বাদু হয় যে, মুখে দেয়া মাত্র সবার মন ভরে যায়। এরপর আল্পনা আঁকতে গিয়ে নকল রানী উঠানের এখানে ওখানে এক খাবলা করে রঙ লেপে রাখে। ফলে নকল রানীর আল্পনা মেকি ও অসুন্দর দেখায়। অন্য দিকে কাঞ্চনমালা আঁকে পদ্মলতা, সোনার সাত কলস, ধানের ছড়া ও ময়ূর-পুতুল। এভাবে নকল রানী ও কাঞ্চনমালার কাজের পার্থক্য দেখে লোকেরা নকল রানীকে বুঝতে পারে।
প্রশ্ন : রাজা কিভাবে তার প্রতিজ্ঞা পালন করলেন?
উত্তর : রাজা ছোটবেলায় তার রাখাল বন্ধুর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন রাজা হয়ে তিনি রাখালকে তার মন্ত্রী বানাবেন। কিন্তু রাজা হওয়ার পর রাখাল বন্ধুর কথা তিনি ভুলে গেলেও এক সময় ঠিকই তার প্রতিজ্ঞা পালন করেছিলেন। সুচমুক্ত হয়ে রাখাল বন্ধুকে পাওয়ার পর রাজা তার কাছে ক্ষমা চান। রাজা তার প্রতিজ্ঞা মতো রাখাল বন্ধুকে মন্ত্রী বানান। তিনি তার বন্ধুকে সোনার বাঁশি গড়িয়ে দেন। ছোটবেলার মতোই আবার রাখাল বন্ধু বাঁশি বাজায় আর রাজা তার বন্ধুর গলা জড়িয়ে ধরে সেই সুর শোনেন।

 


আরো সংবাদ