১৮ আগস্ট ২০১৯
২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি : পর্বসংখ্যা-৪৬

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা দ্বিতীয় অধ্যায় : ইবাদত

-

প্রিয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের ‘দ্বিতীয় অধ্যায় : ইবাদত’ থেকে আরো ২টি বর্ণনামূলক প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হলো।
প্রশ্ন : হজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য লিখ।
উত্তর : ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো হজ। হজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। প্রত্যেক সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান ও সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। এরপর যতবার হজ করবে, তা নফল। নফল হজেও অনেক সওয়াব। হজ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহর উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ শরিফের হজ পালন করা মানুষের ওপর অবশ্য কর্তব্য; যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে।’ (সূরা আলে ইমরান-৯৭)
যেসব লোক বায়তুল্লাহ পর্যন্ত যাতায়াতের দৈহিক ক্ষমতা রাখে এবং হজ থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারের আবশ্যকীয় ব্যয় বাদে যাতায়াতের খরচ বহন করতে সক্ষম তাদের ওপর হজ ফরজ। মহিলা হলে একজন পুরুষ সফরসঙ্গী থাকতে হবে এবং সফরসঙ্গীর ব্যয় নির্বাহে সক্ষম হতে হবে। মহিলা হাজীর সফরসঙ্গী হবেন স্বামী অথবা এমন আত্মীয় যার সাথে বিবাহ সম্পর্ক হারাম। যেমনÑ পিতা, ছেলে, ভাই, চাচা, মামা ইত্যাদি। কাবা আল্লাহর ঘর। পৃথিবীর প্রাচীনতম ইবাদতখানা। এটিই আমাদের কেবলা, বিশ্ব মুসলিমদের কেবলা এবং মিলনকেন্দ্র। সুতরাং হজ হচ্ছে বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন। বিশ্বমুসলিম যে এক, অখণ্ড উম্মত, হজ তার জ্বলন্ত প্রমাণ। গায়ের রঙ, মুখের ভাষা আর জীবনপদ্ধতিতে যত পার্থক্যই থাকুক না কেন, এই সম্মেলনে তারা একাকার হয়ে যায়, তাদের সব পার্থক্য দূর হয়ে যায়। সবার পরনে ইহরামের সাদা কাপড়। সবার ধর্ম এক, উদ্দেশ্য এক, অন্তরে এক আল্লাহর ধ্যান, সবাই আল্লাহর বান্দা। সবাই ভাই ভাই। এসবই মুসলিমদের বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের এক অপূর্ব পুলক শিহরণ জাগায়। তাদের মধ্যে ভালোবাসা গড়ে ওঠে। সবার কণ্ঠে একই আওয়াজ ‘লাব্বায়িক আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক’। ‘হাজির হে আল্লাহ আমরা তোমার দরবারে হাজির’। হজ প্রত্যেক হাজীকে মুসলিম বিশ্বের লাখো মুসলিমের সাথে পরিচয়ের বিরাট সুযোগ করে দেয়।
একটি সফরে বহু সফরের সুফল পাওয়া যায়। ইসলামের ঐক্য, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও প্রাণচাঞ্চল্য বজায় রাখার ব্যাপারে হজের তাৎপর্য অপরিসীম। হজ মানুষের অতীত জীবনের গুনাহগুলোকে ধুয়েমুছে সাফ করে দেয়, মাফ করে দেয়। রাসূল সা: বলেছেন, ‘পানি যেমন ময়লা ধুয়ে পরিষ্কার করে দেয়, হজও তেমনি গুনাহগুলোকে ধুয়ে পরিষ্কার করে দেয়।’ (বুখারি) রাসূল সা: আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ করল, তারপর কোনো অশ্লীল কাজ করল না, পাপ কাজ করল না, সে নবজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরল’। (বুখারি ও মুসলিম)।
প্রশ্ন : হজের ফরজগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা দাও।
উত্তর : হজের ফরজ তিনটি। নিচে এগুলো বর্ণনা করা হলোÑ
১. ইহরাম বাঁধা : হজের প্রথম ফরজ হলো ইহরাম বাঁধা। কয়েকটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হজ বা ওমরার নিয়ত করাকে ইহরাম বলে। অজু, গোসলের পরে সেলাইবিহীন সাদা কাপড় পরে ইহরাম বাঁধতে হয়। এ সময় রঙিন কাপড় পরা যাবে না। সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না। চুল, নখ কাটা যাবে না। কোনো স্থলপ্রাণী শিকার করা যাবে না। এমনকি মশা, মাছি, উকুন ইত্যাদিও মারা যাবে না। সব ঝগড়া, বিবাদ ও পাপকর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে। ইহরামের সাথে সাথে ‘লাব্বায়িক আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক, লা-শারিকা লাকা লাব্বায়িক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকাওয়াল মুল্ক লা শারিকা লাকা’ দোয়াটি বারবার পড়তে হবে। একে বলে তালবিয়াহ।
২. আরাফাতের ময়দানে অবস্থান : হজের দ্বিতীয় ফরজ হলো ৯ জিলহজ তারিখে আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা।
৩. তওয়াফে জিয়ারত : হজের তৃতীয় ফরজ হলো তওয়াফে জিয়ারত করা। কুরবানির দিনগুলোতে অর্থাৎ জিলহজ মাসের ১০-১২ তারিখের মধ্যে কাবাঘরের তওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করাকে তওয়াফে জিয়ারত বলে। এ তিন দিনের যেকোনো দিন এ তওয়াফ করা যায়। তবে প্রথম দিনে তওয়াফ করা উত্তম।

 


আরো সংবাদ

bedava internet