বেটা ভার্সন

২০১৮ সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রস্তুতি সংখ্যা-৮০  

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় তৃতীয় অধ্যায় : বাঙালির সংস্কৃতি ও শিল্পকলা
-

সুপ্রিয় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ‘তৃতীয় অধ্যায় : বাঙালির সংস্কৃতি ও শিল্পকলা’ থেকে একটি নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন ও তার উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
অধরা ও জান্নাতুল ফেরদৌস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই খোঁজাখুঁজি করতে লাগল। হঠাৎ অধরার চোখে একটি বইয়ে কিছু অপরিচিত বাক্য দেখতে পেল। জান্নাতুল ফেরদৌস বলল, রাখ্ রাখ্ এটাই তো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের নমুনা। এই লেখাটি ‘কা আ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল চঞ্চল চী পইঠা কাল’ স্যার আমাদের একদিন ক্লাসে দেখিয়েছিল। ক্লাসে স্যার আরো বলেছিল এ সাহিত্যকর্মের ধারাবাহিকতায় বাংলার অনেক কবি-সাহিত্যিক আধুনিক বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।
প্রশ্ন: ক. চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন ?
প্রশ্ন: খ. ‘কা আ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল চঞ্চল চী পইঠা কাল’-এর ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন:গ. উদ্দীপকে অধরার অপরিচিত বাক্যগুলো বাংলা সাহিত্যের কোন সাহিত্যকর্মের নমুনা ফুটে উঠেছে? এ সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।
প্রশ্ন: ঘ. উদ্দীপকে স্যারের সর্বশেষ বক্তব্যের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ক. পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
উত্তর: খ. চর্যাগীতির বিখ্যাত রচয়িতাদের মধ্যে লুইপা ছিলেন একজন। উক্ত চর্যার এ নমুনাটি লুই পা লিখেছেন। বাংলায় এর শাব্দিক অর্থ হলো- শ্রেষ্ঠ তরু এই শরীর, পাঁচটি তার ডাল। চঞ্চল চিত্তে কাল(ধ্বংসের প্রতীক) প্রবেশ করে। এর ভাবার্থ হলো - শরীরের পাঁচটি ইন্দ্রিয় পাঁচটি ডাল স্বরূপ। এই পঞ্চেন্দ্রিয় দিয়ে বাইরের জগতের সঙ্গে জানাশোনা চলে। এতে বেশি আকৃষ্ট হলে বস্তুজগৎকেই মানুষ চরম ও পরমজ্ঞান করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
উত্তর: গ. অধরার অপরিচিত বাক্যগুলোয় বাংলা সাহিত্যের চর্যাপদ সাহিত্যকর্মের নমুনা ফুটে উঠেছে। এগুলো পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে প্রথম নেপালের রাজদরবার থেকে আবিষ্কার করেন। পরে ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের কাল নির্ণয় করেন। তিনি গবেষণা করে জানান, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে থেকে বৌদ্ধ সাধকরা এগুলো লিখেছেন। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। আমাদের পক্ষে এগুলোর অর্থ বোঝা অনেক কঠিন। শাব্দিক অর্থ ছাড়াও এগুলোর ভাবার্থ রয়েছে। তাই এগুলো বুঝতে হলে শাব্দিক অর্থের পাশাপাশি ভাবার্থও বুঝতে হবে। অধরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে যে অজানা বাক্যগুলো দেখতে পেল তা বাঙালির প্রথম সাহিত্যকর্ম চর্যাপদের কোনো বই। তাই তার কাছে এটা অজানা মনে হয়েছে। জান্নাতুল ফেরদৌস ঠিকই বলেছে এটা প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের নমুনা।
উত্তর: ঘ . উদ্দীপকে স্যারের সর্বশেষ বক্তব্য, চর্যাপদের সাহিত্যকর্মের ধারাবাহিকতায় বাংলার অনেক কবি-সাহিত্যিক আধুনিক বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। চর্যাপদের সাহিত্যকর্মের ধারাবাহিকতায় বাংলার অনেক কবি-সাহিত্যিক আধুনিক বাংলা সাহিত্যকে বর্তমান উন্নতি ও সমৃদ্ধ স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দিয়েছেন। আদিম বাংলা সাহিত্যের সেই সময় থেকে যেসব ব্যক্তির অবদানে শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পে আমাদের কৃতিত্ব আজ বিশ্বপরিসরে সমাদৃত; এ ক্ষেত্রে যাদের নাম সবার আগে স্মরণ করতে হয় তারা হলেন- বাংলা ভাষার গবেষকদের মধ্যে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও ড. মুহম্মদ এনামুল হকের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস রচনা করেছেন, চর্যাপদের কাল নির্ণয় করেছেন ও আঞ্চলিক ভাষার অভিধান সঙ্কলন করেছেন। এনামুল হক আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্যচর্চার ইতিহাস লিখেছেন। বাংলার সমৃদ্ধ লোকসাহিত্য ও পুঁথিসাহিত্য সংগ্রহ করে আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন আমাদের গ্রাম্যসমাজের সংস্কৃতিচর্চার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করেন। যুক্তিবাদী মননশীল প্রবন্ধসাহিত্যের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন আবুল ফজল, মোতাহার হোসেন চৌধুরী, আব্দুল হক প্রমুখ। উপন্যাস ও কথাসাহিত্যে শওকত ওসমান, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহসহ আরো অনেকেই প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। জসীমউদ্দীন, আহ্সান হাবিব, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদসহ বহু কবির অবদানে আমাদের কাব্যসাহিত্য উজ্জ্বল। মুনীর চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ আমাদের নাট্যব্যক্তিত্ব।


আরো সংবাদ