০৬ ডিসেম্বর ২০১৯

চালের দাম যেন আর না বাড়ে, খাদ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

চালের দাম যেন আর না বাড়ে, খাদ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি - ছবি : সংগৃহীত

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, চালের দাম যাতে আর না বাড়ে- সে বিষয়ে চালকল মালিকদের (মিলার) নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সবাই সরু চালের ভাত খাওয়ায় সরু চালের উপর চাপ বেড়ে গেছে। এই কারণেই ধানের দাম বেড়েছে। আমরা তো চাচ্ছিলাম ধানের দামটা বাড়ুক। দাম বাড়ায় সুফলটা কৃষক পাচ্ছে।

বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় রোববার খাদ্য অধিদফতরে চালকল মালিকদের সাথে বৈঠক করেন খাদ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব ওমর ফারুক, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, বাংলাদেশ অটো-রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলমসহ মিলমালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

চালের দাম নিয়ে পেঁয়াজের মতো কেলেঙ্কারির আশঙ্কা করছেন কিনা- জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘না, এ রকম আশঙ্কা করছিনা। কারণ আমাদের কাছে সর্বকালের সর্বোচ্চ মজুদ আছে। বাজার কন্ট্রোল করার জন্য ওএমএস ডিলার রাখা আছে, তাদের ৩০ টাকা দলে চাল নেয়াতে পারছি না। তারা ৩০ টাকায়ও বিক্রি করতে পারবে না বলে সাহস পাচ্ছে না। তিনি বলেন, আমার কাছে ৫ বছরের সরু চালের রেট আছে। ২০১৪ সালে সরু চাল ছিল ৪৪ টাকা ৫২ পয়সা। ২০১৫ সালে ৪২ টাকা ৮৩ পয়সা, ২০১৬ সালে ৪৬ টাকা ৬৯ পয়সা, ২০১৭ সালে অস্বাভাবিভাবে বেড়ে হয়েছে ৫৭/৫৮ টাকা। ২০১৮ সালে ৫১ টাকা ১০ পয়সা, আর আজকে রেট হল ৫১ টাকা ১১ পয়সা। যখন কৃষকরা দাম পাচ্ছে না, তখন ৫০০/৬০০ টাকা দরে ধান কিনে যে চালের রেট, সেই রেটের সঙ্গে সব সময়ের রেট ধরলে হবে না। ওই রেট সবসময় থাকলে তো কৃষক জীবনেও দাম পাবে না।

গত এক মাসে কেজিতে ৬/৭ টাকা বাড়ল, এটাকে আপনারা স্বাভাবিক মনে করছেন কিনা- এ বিষয়ে মন্ত্রী সাধন চন্দ্র বলেন, যখন ৫০০-৭০০ টাকা ধানের দাম ছিল, সেই ধান ভাঙিয়ে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা ছিল। সেই ধানটা এখন কৃষক ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি করছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কষ্ট হলো, কৃষক দাম না পেলেও যেমন আমাদের কষ্ট হয়, তেমনটি কৃষক দাম বেশি পেলে ভোক্তাদের চালের দাম বেড়ে যায়, তখনও কষ্ট হয়।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এখন আমন কাটা শুরু হয়েছে। ধান উঠে যাবে, তাই ম্যাসিভ রকম দাম বাড়ার অবস্থা আর নেই। আমনে যে চাল কেনা হবে এবং ধান ভাঙানো হবে সেটার কোয়ালিটি যাতে কোনোক্রমেই খারাপ না হয়, কোয়ালিটি নিয়ে আমরা কোন আপস করব না। সেই নির্দেশনাই ওনাদের দেয়া হয়েছে। ওনাদের এইটুকু মেসেজ দিয়েছি- চালের দাম যেন আর কোনোক্রমেই না বাড়ে, সেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সারাদেশে ২০০টি ধানের সাইলো নির্মাণের প্রকল্পটি এখন পরিকল্পনা কমিশনের রয়েছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সামনের সপ্তাহে পরিকল্পনা কমিশনে মিটিং হবে, এরপর একনেকে যাবে। ২০২১ সালের মধ্যে প্যাডি সাইলোর নির্মাণ কাজ শেষ হবে, আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি। তখন এর উপকার পাওয়া যাবে।

খোরশেদ আলম বলেন, চালের দাম যাতে আর না বাড়ে সেই বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী আমাদের সতর্ক করেছেন। সহনীয় পর্যায়ে যাতে থাকে, মানুষ যাতে কষ্ট না পায়- এই কথাগুলোই আমাদের ডেকে বলেছেন। বাজারটা যাতে আর উপরে না যায়, আমরা সেদিকে লক্ষ্য রাখব। তিনি বলেন, আমাদের চালের কোনো অভাব নেই, সংকট নেই। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব আমাদের উপর আসেনি। আমরা এইটুকু আশ্বস্ত করতে পারি, আমাদের সবার কাছে চাল আছে, কৃষকদের কাছে ধানও মজুদ আছে। খোরশেদ আলম বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইনের জন্য ভবিষ্যতে (ফিটনেসবিহীন) গাড়ি রাস্তায় নাও নামতে পারে।

তখন কিছুদিনের জন্য চালের দাম বেড়ে যেতে পারে, এটা আমরা আশঙ্কা করছি। আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে দাবি জানিয়েছি, এখন যাতে গাড়িগুলো বন্ধ না করে যে ঠিকঠাক করতে সময় দেয়া হয়। গাড়ি বন্ধ হলে শুধু চালই না অন্যান্য নিত্যপণ্যের উপরই প্রভাব পড়বে। মন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন বিষয়টি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনা করবেন।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik