০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

পঙ্গু হাসপাতালে বাবা-মা, শিশু ছোয়ার লাশ নিয়ে বাকরুদ্ধ স্বজনরা

-

দুই বছরের ছোঁয়া মনি পুরো আদিবা আক্তার ছোয়া। মা-বাবার কলিজার টুকরা আদরের ধন। এক মুহূর্তের জন্যও মা-বাবাকে ছেড়ে থাকতো না, ট্রেন দূর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেও ছিল মা আর বাবার কোলে। মা-বাবাকে সব সময় চোখের সামনের রাখত। মা কিংবা বাবাকে সামনে না দেখলে জুড়ে দিতো কান্না। অথচ সামান্য সময়ের ব্যবধানে এখন আর আব্বু-আম্মুর জন্য ছোঁয়া মনির কণ্ঠে কোনো আকুতি নেই!

অ্যাম্বুলেন্সে করে ছোঁয়া মনির কাছ থেকে শত মাইল দূরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন ছোয়ার আব্বু-আম্মু। আর ছোঁয়া মনির নিথর দেহ পড়ে আছে বি-বাড়িয়ার হাসপাতালের লাশ ঘরে। ছোট্ট ছোঁয়া মনির বাবা বানিয়াচংয়ের তাম্বুলীটুলা গ্রামের সোহেল মিয়া, মা নাজমা বেগম। সোমবার ভোর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দবাগে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় তারা উভয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত হয়েছিল তাদের কোলে থাকা শিশু সন্তান ছোঁয়া মনিও। অন্যদের মতো তাদের তিনজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান উদ্ধারকারীরা। এত বড় দুর্ঘটনার দকল এত ছোট শরীর বইতে পারেনি। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক জানান ছোঁয়া মনি আর বেঁচে নেই।

অন্যদিকে ছোয়ার বাবা সোহেল ও নাজমার অবস্থা বেশি গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে নিহত ছোয়ার লাশ হস্তান্তর করার জন্য বি.বাড়িয়া থেকে ফোন আসে বানিয়াচং উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খন্দকার’র কাছে। সাথে সাথে তিনি বানিয়াচংয়ের তাম্বুলীটুলা গ্রামে সোহেল এর বাড়ীতে যান। সেখানে যাওয়ার পর নিহত ছোয়ার স্বজনদের সাথে আলাপ করে বি.বাড়িয়ার অবস্থানরত ছোয়ার মামা জামাল উদ্দিন এর কাছে লাশ হস্তান্তরের জন্য বি.বাড়িয়ার ইউএনওকে অনুরোধ করেন। মঙ্গলবার বিকেলে নিহত ছোয়ার গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় ছোয়ার মৃত্যুতে স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik