১৭ নভেম্বর ২০১৯

নবীগঞ্জে শিশুকে নগ্ন করে নির্যাতনকারী স্বপন গ্রেফতার

শিশু জিসানকে নগ্ন করে ভিডিও করে তার প্রবাসী মায়ের কাছে পাঠাতেন স্বপন - ছবি : সংগৃহীত

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌর এলাকার চরগাঁও গ্রামের সুফি মিয়ার এতিম ছয় বছরের শিশু বাচ্চাকে নগ্ন করে অমানবিক নির্যাতনকারী একই গ্রামের স্বপন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুর রহমান বলেন, শিশুটিকে নগ্ন করে অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও তার প্রবাসী মায়ের কাছে পাঠাতো স্বপন। বাবাহারা ছোট দুই শিশুকে দাদা-দাদি আর চাচার কাছে রেখে জীবিকার তাগিদে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরব গিয়েছিলেন ওই শিশু জিসানের মা সুমনা বেগম। আর যাওয়ার আগে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য তাদের চাচাকে কিছু টাকাও দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

সৌদি আরব যাওয়ার দুই মাস যেতে না যেতেই তার সন্তানের ওপর শুরু হয় নির্যাতন। টাকা দেয়ার জন্য আপন ভাতিজাকে নগ্ন করে নির্যাতন করে সেই ভিডিও তার মায়ের কাছে পাঠিয়েছিলেন চাচা স্বপন। নিজের সন্তানের উপর এমন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দেশে চলে আসেন সুমনা বেগম। এ বিষয়টি জানান তার প্রতিবেশীদের।

শিশু নির্যাতনের খবর পেয়ে তাদের বাড়ি চরগাঁও গ্রামে ছুঁটে যান স্থানীয় সাংবাদিকরা। এসময় সুমনা বেগম তার শিশু বাচ্চা জিসানের উপর অমানবিক নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন ও নির্যাতনের একটি ভিডিও ফুটেজ দেখান। এরই প্রেক্ষিতে বেশকয়েকটি গণমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয় শিশু নির্যাতনের বিষয়টি।

শিশু জিসানকে নির্যাতনের বিষয়টি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরে নজরে আসে পুলিশ প্রশাসনের। মঙ্গলবার নবীগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে রাতভর অভিযান চালিয়ে নির্যাতনকারী স্বপন মিয়াকে তার শ্বশুর মাসুক মিয়ার বাড়ি বানিয়াচং উপজেলার কাগাউড়া গ্রাম থেকে ভোর রাতে গ্রেফতার করা হয়।

এব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আরো বলেন, মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বপনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রেস বিফ্রিংয়ের মাধ্যমে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার বিস্তারিত জানাবেন।

নির্যাতনের শিকার পিতৃহারা ছোট শিশু জিসান আশ্রয় নিয়েছে নানার বাড়িতে।

সূত্র জানায়, নবীগঞ্জ পৌর এলাকার চরগাঁও গ্রামের সুফি মিয়ার সাথে বিয়ে হয় সুমনা বেগমের। সুফি মিয়ার মৃত্যুর পর ছোট শিশুর কথা চিন্তা করে সুফি মিয়ার ভাই স্বপন মিয়ার নিকট বিয়েতে রাজি হন সুমনা বেগম। জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান সৌদি আরব। সেখানে গিয়ে শান্তিতে থাকতে পারেননি গৃহবধূ সুমনা। টাকার জন্য তার সন্তাকে নির্যাতন করে দেবর স্বামী স্বপন মিয়া। আর সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে প্রেরণ করে মায়ের নিকট। এই দৃশ্য দেখে হতভাগা মা সন্তানকে নির্যাতন থেকে উদ্ধার করতে ধাপে ধাপে স্বপনের কাছে টাকা পাঠান। সেই টাকা উত্তোলন করে স্বপন। এই বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে এলে স্থানীয় মুরুব্বিদের সহযোগিতায় শিশু জিসানকে তার মামার মাধ্যমে নানার বাড়ি পাঠান।


আরো সংবাদ