১৬ অক্টোবর ২০১৯

শাবি ভিসির বিরুদ্ধে বেনামে শ্বেতপত্র প্রকাশ, ৫৩ অভিযোগ

শাবি ভিসির বিরুদ্ধে ৫৩টি অভিযোগ এনে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়েছে - ছবি : নয়া দিগন্ত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সম্বলিত একটি শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছে। বেনামে প্রকাশিত ওই শ্বেতপত্রে ভিসির বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্ব্যবহারসহ মোট ৫৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

শনিবার পুস্তিকা আকারে শ্বেতপত্রটি নয়া দিগন্তসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের হাতে কুরিয়ার মারফত পৌঁছায়। অভিযোগকারীরা নিজেদের ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার শাবিপ্রবির শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ’ উল্লেখ করলেও তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

আজ রোববার বেলা ২টায় প্রশাসনিক ভবনে সাংবাদিকদের সাথে সার্বিক বিষয়ে কথা বলেন ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এসময় বেনামে প্রকাশিত শ্বেতপত্রে বর্ণিত বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।

ভিসি বলেন, যারা বেনামে শ্বেতপত্র দেয় তাদের নৈতিক ভিত্তি কতটুকু তা এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে। আমি যদি কোনো অনিয়মই করতাম তাহলে তারা নিজ পরিচয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারতেন।

শ্বেতপত্রের শুরুতেই ভিসির বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শাবির গ্র্যাজুয়েটদের ব্যাপারে বিরূপ মনোভাবের অভিযোগ আনা হয়। এমনকি ভাইভা বোর্ডে তাদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়। যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের নিয়োগ, আত্মীয়-স্বজন ও ভিসির এলাকা কুমিল্লার প্রার্থীদের প্রাধান্য দেয়া এবং সর্বনি¤œ সিজিপিএ থাকার পরও ট্রেজারারের মেয়েকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করার অভিযোগও তোলা হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে বাধা তৈরির অভিযোগও উঠে ওই শ্বেতপত্রে।

শাবি গ্র্যাজুয়েটদের তুচ্ছতাচ্ছিল্যের বিষয়টি অস্বীকার করে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নিয়োগ বোর্ডে আমি একা থাকি না। একক ব্যক্তির ইচ্ছায় কোনো নিয়োগ হওয়া সম্ভবও নয়। আর আমি কোনো আত্মীয়-স্বজনকে চাকরি দেইনি। চাইলে যে কেউ খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। আপগ্রেডেশনের বিষয়টিও নিয়ম মাফিক ও এক্সপার্টদের মতামত নিয়ে হয়।

শিক্ষকদের জন্য চলতি বছরে চালু হওয়া স্বাস্থ্যবীমার বিষয়টিও এতে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, বীমা কর্তৃপক্ষের সাথে ভিসির বিশেষ সম্পর্ক থাকায় সকল শিক্ষকের জন্য বীমাটি বাধ্যতামূলক করা হয়। এমনকি বীমা চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক মাস আগ থেকেই শিক্ষকদের বেতন থেকে টাকা কেটে নেয়া হয়।

এ বিষয়ে ভিসি বলেন, এ অভিযোগটি পুরো মিথ্যা। বীমা চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। আর টেন্ডারের মাধ্যমেই প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে কাজ দেয়া হয়েছে।

ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে আনীত প্রধান অভিযোগগুলোর একটি হচ্ছে সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় একপেশে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া। অন্যদেরকে মতামত দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে ভর্তি কমিটিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তবে এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই দাবি করে ভিসি বলেন, সভাগুলোতে এরকম কখনোই হয় না। সবাই যার যার মত প্রকাশ করে থাকেন। এ ব্যাপারে কথা বললে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে নতুন, কিন্তু এখন পর্যন্ত একপেশে সিদ্ধান্ত চাপানোর মতো কিছু দেখিনি। সবাই সেখানে নিজস্ব মতামত দিয়ে থাকেন।’

শৃঙ্খলা অধ্যাদেশে নিজের ইচ্ছামাফিক ধারা-উপধারা সংযোজন, আন্তর্জাতিক ভিসি সম্মেলনের নামে চল্লিশ লাখ টাকার অপচয়, নারীপ্রীতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্ট ভায়োলেশন, ছাত্রলীগের একটি অংশকে বিতারণের জন্যও ভিসিকে অভিযুক্ত করা হয়। উল্লেখিত অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে দুদক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

তবে সার্বিক বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে ফায়দা হাসিল করতে চায়। তারা চাইছে আমি এ বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাই, যাতে ইচ্ছামতো লুটপাট ও দুর্নীতি করতে চায়। আমাকে চাপে ফেলতে তারা এই মিথ্যা অভিযোগগুলো এনেছে, এমন কি আমার পরিবারকেও হয়রানি করছে। কিন্তু আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। সততার সাথেই নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবো।

এ দিকে ‘আমাদের দাবী, অভ্যন্তরীণ ভিসি’ ও ‘ব্যবসায়ী নয়; অ্যাকাডেমিক ভিসি চাই’ স্লোগানে শ্বেতপত্র শেষ করলেও এতে ভিসির আরো ‘দুর্নীতি’র বিষয়ে দ্বিতীয় কিস্তি প্রকাশের ইঙ্গিত দেয়া হয়।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum