১৫ অক্টোবর ২০১৯

মায়ের কাছ থেকে টাকা আদায়ে চাচা-বন্ধুদের সাথে মিলে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রের অপহরণ নাটক

মায়ের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য নিখোঁজ স্কুল ছাত্র মুক্তিপণ ও অপহরণ কাহিনী সাজিয়ে চরম হয়রানিতে ফেলে নিজের পরিবার ও পুলিশ প্রশাসনকে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে স্কুল ছাত্র মাসুম(১৪) কে সিলেট থেকে শুক্রবার রাতে উদ্ধার করা হয়।

প্রতিবেশি এক চাচার পাওনা টাকা আদায় করতে না পারায় মাসুম তার ওই চাচা ও বন্ধু বান্ধব মিলে মায়ের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা আদায়ের লক্ষে অপহরণ ও মুক্তিপণের কাহিনী সাজায়। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করার পর এমন তথ্য বেড়িয়ে আসছে।

উল্লেখ্য, রাজনগরের ভুজবল গ্রামের প্রবাসী সুলেমান মিয়ার একমাত্র ছেলে মোঃ মাসুম মিয়া (১৪) মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় বাড়ি থেকে স্থানীয় চৌধুরী বাজারে আসে চুল কাটার জন্য। সন্ধ্যায় বাড়ি না ফেরায় তার খোঁজ পরে। কিন্তু আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি খবর করে কোথাও তার সন্ধান মিলেনি। সে স্থানীয় গজনফর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।

ঐদিন রাত ২টার সময় তার মায়ের ফোন নম্বরে ফোন করে জানানো হয় তাকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে ফিরে পেতে হলে ১০ লাখ টাকা নিয়ে তাদের কথা মতো নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে হবে। বলা হয় পরবর্তীতে স্থান জানিয়ে দেয়া হবে। এ সময় আরো বলা হয় পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্রয় নিলে বিপদ হবে।
অপহরণকারী আরো জানায়, গ্রামেই তাদের লোক নজর রাখছে। চালাকি না করতে। এই বিষয়টি বুধবার সকালে রাজনগর থানায় অবহিত করা হলে পুলিশ ঐ সময় থেকে তাকে উদ্ধারের অভিযান শুরু করে। কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গত বুধবার দুপুরে আবারো অপহরণকারিরা ফোন করে জানিয়েছে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার মধ্যে মুক্তিপণের টাকা না দিলে তারা তাদের সিদ্ধান্ত নিবে।

বিশেষ কৌশলে মোবাইলে ইন্টারনেট নম্বর ব্যবহার করে তার মায়ের কাছে দশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে দুর্বৃত্ত চক্র। পুলিশ মোবাইল ট্যাকিং করতে প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ হয়। নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি করে এ অপহরণের ঘটনা।

তাকে উদ্ধারের জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টা চালায় রাজনগর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পুলিশ মাসুমের মায়ের মোবাইল ফোনে আসা প্রথম নাম্বার সংগ্রহ করে ট্যাকিং করে। ওই নাম্বারের সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান চালায়।

মোবাইল টাকিং করে কুলাউড়া উপজেলার হিঙ্গাজিয়া এলাকার আরব আলীর ছেলে সাব্বির (১৬) এর সিম নম্বার দুবৃর্ত্তের ব্যবহৃত মোবাইল সেটে ইতোপূর্বে ব্যবহার হয়েছে। এর সূত্র ধরে সাব্বিরকে পুলিশ আটক করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির জানায়, সে তার মোবাইল সেটটি গত সোমবারে বিক্রি করেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনার সাথে জড়িত হিংগাজিয়া এলাকার নয়াব উল্লার ছেলে সামাদকে (২০) ও মাসুমের প্রতিবেশী চাচা রাজনগর উপজেলার ভুজবল গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে সালমান (২১) কে আটক করা হয়। তারা প্রতারণা চালানোর জন্য কুলাউড়ার বরমচাল শ্রীপুর মাদ্রাসা বাজার থেকে অন্যের নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে একটি সিম উত্তোলন করেছে।

এদের আটক হওয়ার খবর দুর্বৃত্ত চক্রের আরেক গ্রুপে জানাজানি হয়। শুক্রবার বিকেলে মাসুমের মায়ের কাছে সিলেটের হুমায়ুন চত্ত্বর এলাকার এক দোকান থেকে ফোন আসে মাসুম সেখানে আছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে রাজনগর থানার এস আই বিনয় এর কাছেও ফোন আসে।

পুলিশ দোকানদারকে অনুরোধ করেন মাসুমকে আটকিয়ে রাখার জন্য, তারা সেখান থেকে শুক্রবার রাতে তাকে উদ্ধার করেন।

রাজনগর থানার অফিসার ইনর্চাজ মোঃ আবুল হাশিম জানান, এই বিষয়ে পুলিশ মাঠে অনেক কাজ করছে। ইন্টারনেটে ফোন ব্যবহার করায় একটু সময় লেগেছে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে কাজ করে সফল হয়েছি।
মাসুম তার চাচা সালমানের পাওনা ১২শ’ টাকা দিতে না পারায় সবাই মিলে মাসুমের মায়ের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা আদায় করে এরা সবাই ভাগাভাগি করে নিবে এমন পরিকল্পনা করে অপহরণের কাহিনী সাজিয়েছে। ভিকটিম মাসুম, সামাদ, সালমান এ তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum