২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

তিন সহযোগীসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগনেতা আটক, আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার

তিন সহযোগীসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগনেতা আটক, আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার - নয়া দিগন্ত

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা অভিযোগের ১৬ মামলার আসামি, সিলেটের বহুল আলোচিত জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি পীযুষ কান্তি দে-কে তার তিন সহযোগীসহ বুধবার সন্ধ্যায় আটক করেছে র‌্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি রিভলবার, রামদা এবং ৫ হাজার ৫৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তাদেরকে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

র‌্যাব-০৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার মো. মনিরুজ্জামান জানান, পিযুষ কান্তির বিরুদ্ধে ১৬ টি মামলা রয়েছে। তাকেসহ অন্যদের বিরুদ্ধে আরও মামলা দিয়ে সকালে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়। পিযুষের সহযোগী আটক অন্যরা হচ্ছেন- নগরীর মনিপুরী রাজবাড়ীর মৃত আশ্বিনী কুমার পালের ছেলে বাপ্পা পাল (৪২), রামের দিঘীর পারের মৃত পরেশ রায়ের ছেলে মন্টি রায় (৪২) ও জেলার গোলাপগঞ্জের রনিখাইলের রুমি খানের ছেলে রায়হান খান (২৫)।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট মহানগর হাকিম (এমএম-১) আদালতের বিচারক জিহাদুর রহমান পিযুষসহ ৪ জনকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এসময় পিযুষের আইনজীবীরা তার চিকিৎসার আবেদন জানালে আদালত জেল সুপারের মাধ্যমে কারাগারে চিকিৎসার ব্যবস্থার নির্দেশ দেন।

পিযুষ কান্তি দে'র আইনজীবী প্রবাল চৌধুরী পূজন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় পিযুষসহ ৪ জনকে আটক করে নেয়া হয়। হেফাজতে থাকাকালীন অবস্থায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাই আমরা চিকিৎসার আবেদন জানালে আদালত জেল সুপারের মাধ্যমে চিকিৎসার নির্দেশ দেন।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মিয়া বলেন, পীযুষসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলভার ও তিনটি রামদা জব্দ দেখানো হয়েছে। এছাড়া তার কাছ থেকে ৫ হাজার ৫৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদক আইনেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ৬ আগস্ট সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে পাঁচভাই রেস্টুরেন্টে তিন প্রবাসীকে মেরে রক্তাক্ত করে পিযুষের অনুসারীরা। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। তাতে কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন পিযুষ। এছাড়া পিযুষ মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় একটি বাড়ি দখল করে সেখানে আস্তানা গড়ে তোলেন। বেশ কয়েক বছর আগে ১১ মামলার হুলিয়া মাথায় নিয়ে রাজপথে প্রকাশ্যে বন্দুক উঁচিয়ে গাড়ি ভাংচুর ও ব্যাংকে হামলা করে আতঙ্ক ছড়ান পিযুষ। কিন্তু সে সময় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেন।


আরো সংবাদ