০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

শ্রীমঙ্গলে ১৩ দিনের ব্যবধানে ২ স্কুলছাত্র অপহৃত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১৩ দিনের ব্যবধানে দুই স্কুলছাত্র অপহৃত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে অভিভাবকদের মাঝে। গত ১৯ জুলাই শ্রীমঙ্গলের পূর্বাশা এলাকা থেকে নাদিম নামে এক স্কুলছাত্র খেলার মাঠ থেকে অপহৃত হয়। এর ১৩ দিনের মাথায় শনিবার সাব্বির মিয়া (১৩) নামের অপর এক স্কুলছাত্র নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর সাব্বির বন্দীদশা থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে এলেও পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।

অপহৃত সাব্বির উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের মাইজদিহি পাহাড়ের সায়েদ মিয়ার পুত্র এবং ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর সাব্বিরের পিতা শনিবার রাতে থানায় একটি সারধারণ ডায়েরী দায়ের করেন।

সাব্বিরের পিতা জানান, শনিবার (৩ আগষ্ট) বেলা ৩টার দিকে স্কুল ছুটির পর বাড়ি যাবার পথে কয়েকজন ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে এবং চেতনা নাশক স্প্রে করে একটি সিএনজি অটোরিক্সায় করে তুলে নিয়ে যায়। রাত ১টার দিকে অপহৃত সাব্বিরের জ্ঞান ফিরলে নিজেকে সে শহরের কালিঘাট সড়কের একটি পুরোনো লোহা লক্করের দোকানে আবিষ্কার করে। সেখানে কোন লোক না থাকায় সাব্বির কৌশলে দোকানের বেড়া ভেঙ্গে পালিয়ে আসে।

এসময় সাব্বির শহরের একটি রেষ্টুরেন্টে গিয়ে ঘটনা জানালে রেষ্টুরেন্টের ম্যানেজার তাকে ৩০ টাকা দিয়ে সিএনজিতে তুলে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এরপর রোববার ভোর ৫টার দিকে সাব্বির ভৈরববাজার এলাকায় একটি রাবার বাগানের পাশে এসে আবার অচেতন হয়ে পড়ে। এসময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সাব্বিরের বাবা সায়েদ মিয়া আরো বলেন, ছেলে ফিরে পাওয়ায় খুশি আমরা কিন্তু এনিয়ে ভয়ে আছি।

এদিকে সাব্বিরের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাব্বিরের স্কুল ও তার এলাকায় ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এনিয়ে সরব হয়ে উঠে।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) সোহেল রানা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা চক্রটিকে ধরার চেষ্টা করছি।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই শ্রীমঙ্গলের পূর্বাশা এলাকা থেকে নাদিম নামে এক স্কুলছাত্রকে একই কায়দায় খেলার মাঠ থেকে অপহরণ করা হয়। এর ২৪ ঘণ্টা পর কুমিল্লার একটি রেল স্টেশন এলাকা থেকে পালিয়ে আসে নাদিম। এদিকে গত ১৩ দিনের ব্যবধানে ২ স্কুলছাত্র অপহৃত হওয়ার ঘটনায় শ্রীমঙ্গলে অভিভাবকদের মাঝে ছেলে ধরা আতঙ্ক বিরাজ করছে।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik