২০ আগস্ট ২০১৯

পানি আনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও দিরাইয়ে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় দুই থানায় পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। তবে ধর্ষককে গ্রেফতার করতে পারেনি শাল্লা থানা পুলিশ।

ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির মামলায় দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মকসদপুর গ্রামের মুসলিম উদ্দীনের পুত্র মোক্তাদির (২২) ও নজরুল ইসলামের পুত্র জাহিদুল ইসলাম (২৩) কে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে দিরাই থানা পুলিশ।

থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় মাদরাসার নলকূপ থেকে তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী পানি আনতে গেলে শাল্লা উপজেলার কাশিপুর গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে সোহেল মিয়া (২৫) শিশুটিকে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় মেয়েটির চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে বখাটে সোহেল পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি বখাটের প্রভাবশালী পরিবার ও স্থানীয় মাতব্বররা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে শিশুটির পিতা স্থানীয় মাতব্বরদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে গত ২১ জুলাই বখাটে ছেলে সোহেল মিয়া (২৫) কে আসামি করে শাল্লা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

পরে মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। মামলা দায়েরের তিন দিন অতিবাহিত হলেও ধর্ষককে গ্রেফতার করতে পারেনি শাল্লা থানা পুলিশ।

এদিকে সোমবার বিকেলে দিরাই সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুই বখাটে রাস্তায় একা পেয়ে জোরপূর্বক ব্যাটারী চালিত অটো রিকশার তোলার চেষ্টা করে। বখাটের কবল থেকে বাঁচতে গিয়ে ছাত্রীটি রাস্তায় ছিটকে পরে মারাত্মক আহত হয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ছুটে আসেন দিরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম চৌধুরী ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর ইকবালসহ অন্যান্য শিক্ষকগণ। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব থানা পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশে দেন।

সোমবার দিবাগত রাত ৮ টায় উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মকসদপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মুসলিম উদ্দীনের পুত্র মোক্তাদির (২২) ও নজরুল ইসলামের পুত্র জাহিদুল ইসলাম (২৩) কে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে দিরাই থানা পুলিশ।

পৃথক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে রাতেই অভিযান চালিয়ে দুই বখাটেকে আটক করেছি। শ্লীলতাহানির মামলায় দুই বখাটেকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

শাল্লা থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান, ধর্ষক সোহেলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


আরো সংবাদ




bedava internet