২০ আগস্ট ২০১৯

ত্রাণের জন্য হাহাকার

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে দক্ষিণ শ্রীপুর ও তাহিরপুর ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হলেও ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। এ পর্যন্ত যে পরিমাণ ত্রাণ সরকারি ভাবে বিতরণ করা হয়েছে তা উপজেলার বাদাঘাট, শ্রীপুর উত্তর, উত্তর বড়দল ইউনিয়নেই বেশী। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ শ্রীপুর ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের তেমন কোন ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।

হাওর পাড়ের বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের বলাই কান্দি গ্রামের অজুফা বেগম ও সবুজ আলী জানান, তাদের বাড়ি পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ। কিন্তু এই পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা পাইনি। অন্যান্য ইউনিয়নে সরকারি ভাবে ত্রাণ দিতাছে শুনে আশায় থাকি যে সরকারি ভাবে ত্রাণ পাব। কিন্তু আদাদের তো কেউই ত্রাণ দিল না। সরকারি ভাবে কিছু সহযোগিতা পাইলে বড় বেশী উপকার হইতো।

পাঠাবুকা গ্রামের রুজনা বেগম ও নতুন পাড়ার মজু মিয়া জানান, ঘরের ভিতরে পানি। খুবই কষ্টের মাঝে আছি। কিন্তু কই কেউ তো আমার খবর লইলো না। সব জায়গায় সরকারি সহযোগিতা দিতাছে লোক মুখে শুনি। আমরাই পাইলাম না, কবে পাইমু। আমরার বাড়ি ঘর পানিতে ভেঙ্গে গেছে। আমরা কেরে ত্রাণ দেয় না।

জীবনপুরের সালেহা বেগম জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি কিন্তু সরকারি ভাবে তো কিছুই পাইলাম না। কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হলে ত্রাণ পাওয়া যায়। সব ত্রাণ খালি অন্যান্য ইউনিয়নে দেয়া হয়। আমরা একবারেই হাওড় পাড়ে বাস করি। আর বন্যায় পানি বেশী ক্ষতির শিকার হয়েছি। পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টের মাঝে আছি। অনেকের বসতভিটা ঢেউয়ের কবলে ভেঙ্গে পড়ায় তারা সবাই প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়দের ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু কোন সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছেন না।

এ উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে বন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিশুদ্ধ পানি, গো খাদ্য ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে পানিবন্দী পরিবারগুলোতে। বন্যাকবলিত গ্রামগুলোতে অবস্থানকারী মানুষজন ত্রাণের জন্য অপেক্ষায় আছে। ত্রাণ না পাওয়ায় হাহাকার বিরাজ করছে। এদিকে কিছু কিছু গ্রামে সরকারি ভাবে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্থ, শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় খুবই সামন্য। অন্যদিকে সরকারি ত্রাণ দিচ্ছে এমন খবর পেলেই দলে দলে ছুটে আসছে মানুষ।

একই কথা জানালেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের শুবলাগাও গ্রামের বিধবা নারী সমলা বেগম(৬৬)। তিনি জানান, স্বামী ছেলে কেউই নাই। মেয়ে ছিল তাদের বিয়ে দিয়েছি তারা এখন স্বামীর বাড়িতে। বন্যায় বাড়ি পানির নিচে। কিন্তু কোন সহযোগিতা পাচ্ছি না। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, সরকারি ত্রাণ দিতাছে শুনে আইছি কিন্তু পাইলাম না।

উপজেলার হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, হাওড়ের প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে তাদের বসত বাড়ি ভেঙ্গে নিশ্চিহ্ন হবার পথে। পরিবার পরিজন নিয়ে বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় ত্রাণ পাচ্ছেন না।

তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি তালুকদার জানান, উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে ৩টি, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে ৩টি, বালিজুড়ি ইউনিয়নে ১টি ও বাদাঘাট ইউনিয়নের সোহালা গ্রামে ১টি বন্যাশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ৫নং ওর্য়াডের শিমুল আহমদ জানান, আমি ব্যক্তিগত ভাবে কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছিলাম। সরকারি ভাবে এখনও ত্রাণ পায়নি আমার ইউনিয়নের মানুষজন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পরিমাণ বেশী। যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে তা পরিমাণে কম। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, তাহিরপুরের মানুষ বারবার ফসল হারিয়ে দিশেহারা এবং সাম্প্রতিক বন্যায় মানুষের বসতভিটা, রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সকলেই দিশেহারা। ত্রাণের পরিমাণ বাড়ানো খুবই প্রয়োজন।

তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নে দু-শতাধিক পরিবার এখনও পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। এসব পরিবারে চাহিদার তুলনায় সরকারি সহযোগিতা খুবই কম। ক্ষতিগ্রস্তরা প্রতিদিনই সহায়তা চাচ্ছে, আমি দিতে পারছি না।


আরো সংবাদ




bedava internet