২১ আগস্ট ২০১৯

সুনামগঞ্জে দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দী

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা পালের ত্রাণ বিতরণ - ছবি : নয়া দিগন্ত

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলা শহর ও আশপাশের এলাকায় কিছুটা পানি কমলেও জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লাসহ কয়েকটি নীচু উপজেলায় বন্যার পানি এখনো কমেনি। জেলা প্রশাসনের অফিস সূত্রে জানান যায়, সরকারি হিসাব মতে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ বন্যা দুর্গত হয়েছে। বন্যা দুর্গতদের জন্য বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৬টি, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৩টি, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩ টি, জামালগঞ্জে ৫ টিসহ বিভিন্ন উপজেলায় আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১২ হাজার টিউবওয়েল পানির নীচে থাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা পাল বন্যা শুরুর পর থেকেই হাওরের বিভিন্ন গ্রামের বন্যার্তদের পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ অব্যহত রেখেছেন।

বুধভার উপজেলার পাকনা হাওরের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ইউএনও প্রিয়াংকা পাল, ইউপি চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু তালুকদার, দৈনিক নয়া দিগন্তের সুনামগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সিনিয়র সাংবাদিক অঞ্জন পুরকায়স্থ, ইউপি সচিব অজিত কুমার রায়, উপজেলা স্যানিটারি কর্মকর্তা আহসান আলী, ইউএনও’র সিএ ফারুখ আহম্মেদসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে চাল ও শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেন। ইউএনও প্রিয়াংকা পাল জানান, এ পর্যন্ত ৩০ টন চাল, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত ৯’শ শুকনো খাবার প্যাকেট, স্থানীয় ভাবে ২ হাজার প্যাকেট খাবার বিতরণ করেছেন।

এদিকে তাহিরপুর টাঙ্গুয়া হাওরের বানবাসী মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেছেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ ইমতিয়াজ। তিনি জানান, তাহিরপুর উপজেলা প্রায় সব ক’টি ইউনিয়নেই কম বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রাস্তা-ঘাটসহ প্রায় ২৪ শ’ ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ রূপে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার বিতরণ চলমান রয়েছে। ৭০ টন চাল বিতরণসহ বিতরণ কাজ অব্যহত রয়েছে।

জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিআর নগদ ৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে, মজুদ আছে ৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে ২ শত ৭৫ টন, মজুদ রয়েছে ৩ শত ১৫ টন। এছাড়াও ৭ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। জেলায় ১২২টি মেডিকেল টিম বন্যা দুর্গত এলাকায় কাজ করছে। ৫ শত তাবু মজুদ আছে। বন্যায় প্রাথমিক ৩৫৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১১৯ টি উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম অব্যহত অছে, কোন অনিয়মের খবর পেলে দ্রুত অইনী ব্যাবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet