১৯ আগস্ট ২০১৯
শ্রীমমঙ্গলে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের খাঁচায়

অজগরের ডিম থেকে ফুটেছে বাচ্চা

অজগরের ডিম থেকে ফুটেছে বাচ্চা - নয়া দিগন্ত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে আশ্রিত খাঁচায় অজগরের ডিম থেকে ফুটেছে বাচ্চা। বুধবার ভোর রাত থেকে সকাল ১০টার মধ্যে এসব ডিম থেকে একে একে ছোট ছোট অজগরের বাচ্চাগুলো বের হয়ে পৃথিবীর আলো দেখা শুরু করে। এর আগে গত ৯জুন রাতে অজগর দম্পতিটি ৩২টি ডিম দেয়। ডিম পাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মা অজগরটি নিজেকে বৃত্তাকারে গুটিয়ে নিয়ে ডিম ঢেকে রেখে ‘তা’ দিতে শুরু করে। তখন পুরুষ অজগরটি থাকে সতর্ক অবস্থায়। খবরটি গত ৯জুন দৈনিক নয়া দিগন্তের অনলাইন ভার্সনসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ার পর দর্শনার্থীদের ভির বাড়তে থাকে এই সেবা ফাউন্ডেশনের মিনি চিড়িয়াখানায়। এটি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সীমান্তের দিনারপুর পাহাড়ের একটি লেবু বাগান থেকে ১৯৯৯ সালে উদ্ধার হওয়ার পর ৪র্থ দফায় ডিম দিয়ে বাচ্ছা ফুঁটালো।

বন্যপ্রাণী ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, এর আগে ওই অজগরটি প্রথম ২০০২ সালের মে মাসে ৩২টি ডিম দিয়েছিল। ডিম পাড়ার ৫৯ দিন পর ২৮টি বাচ্চা ফুঁটেছিল। ২০০৪ সালের ১৩ মে ৩৮টি ডিম দেয়। সে সময় ৬০ দিন পর বাচ্চা ফুঁটেছিল ৩২টি। সর্বশেষ ২০১১ সালের মে মাসে ৩০টি ডিম দেয়।

বুধবার দুপুরে বন্যপ্রাণী সেবা আশ্রমে গিয়ে দেখা যায়, সদ্য ফুঁটানো বাচ্চাগুলোর নিরাপত্তায় সাপটি উদ্বিগ্ন হয়ে আছে। মানুষের উপস্থিতিতে তেড়ে আসছে। তবে এ পর্যন্ত কতটা ডিম ফুঁটেছে তা জানা যায়নি। সেবা আশ্রমের পরিচালক সজল দেব বলেন আরো সময় লাগবে বিষয়টি জানতে।

সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, ‘১৯৯৯ সালে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সীমান্তের দিনারপুর পাহাড়ের একটি লেবু বাগান থেকে এই সাপটিকে আমরা উদ্ধার করি। তখন থেকেই আমাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে সাপটি। এর আগে যতগুলা বাচ্চা ফুটেছে তা বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি এটি প্রতি বছরই ডিম দিয়ে বাচ্ছা ফুঁটাবে। আর যেসব বাচ্চাগুলোকে লাউয়াছড়ায় অবমুক্ত করা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরো জানান, গত ৯জুন অজগরটি বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের অতিথিয়তায় ৩২টি ডিম দিয়েছিল। ডিমগুলো দেখতে অনেকটা রাজহাঁসের ডিমের মতো। ডিম পাড়ার পর সেই ডিমগুলো রক্ষায় সতর্ক পাহারায় থাকে সাপটি। পরম যতেœ কু-লী পাকিয়ে ডিমগুলো ঢেকে রাখে। এখন সেই ডিম ফুঁটে বাচ্চাগুলো বের হচ্ছে। তবে সবগুলো বাচ্চা বের হতে অন্তত ২/৩ দিন সময় লাগবে। এবার ২০/২২টি বাচ্ছা ফুঁটবে বলে তিনি আশাবাদী।

নাওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফারা ও বন্যপ্রাণী গবেষক আদনান আজাদ আসিফ এর মতে, এটি বার্মিজ পাইথন যার এই অজগরের আকার ও বয়সের ওপর নির্ভর করে তার ডিমের সংখ্যা। বয়স ও আকার যত বাড়বে ডিমের সংখ্যাও বাড়বে। খাঁচায় বন্দি অবস্থায় অজগরের বাচ্চা ফুটলে একটু বেশি সতর্ক থাকতে হয়। এই সাপের ১০৭টি পর্যন্ত ডিম দেয়ার রেকর্ড আছে। মার্চ থেকে জুন মাসে এরা ডিম দেয়। ডিম ফুটতে প্রায় ৬০ দিন সময় লাগে। আমাদের দেশে এই প্রজাতির সাপ চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগ ও সুন্দরবনে দেখা যায়। পাখি থেকে বড় হরিণ, ছাগল সবই তার খাদ্য তালিকায় আছে বলে তিনি জানান।


আরো সংবাদ

bedava internet