২১ মে ২০১৯

বিয়ের এক মাসের মাথায় নববধূর লাশ উদ্ধার : স্বামী পলাতক

প্রতীকী ছবি - সংগৃহীত

সিলেট নগরীর শেখঘাট কলাপাড়া এলাকা থেকে এক নববধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নববধূর নাম রাজনা চৌধুরী (২০)। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের গাড়ি চালক লক্ষণ দাশের স্ত্রী। এ ঘটনার পর স্বামী লক্ষণ দাশ পলাতক রয়েছেন।

নিহত গৃহবধূ রাজনার পরিবারের অভিযোগ, কথাকাকাটির জের ধরে রাজনাকে হত্যা করেছে তার স্বামী। রোববার রাতেই তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। এ ঘটনার পর রাজনার স্বামী লক্ষণ দাশ পলাতক রয়েছেন।

জানা যায়, রাজনা চৌধুরীর বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মদন থানার কদমশ্রী গ্রামে। তার স্বামী লক্ষণের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায়। তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের গাড়ি চালক।

কলাপাড়ার হাজী ফজলুল হকের বাসায় ভাড়া থাকতেন এই দম্পত্তি। চলতি মাসের ৪ তারিখে এই বাসায় উঠেন তারা। মাসখানেক আগে প্রেম করে বিয়ে করেন লক্ষণ ও রাজনা।

রাজনার বাবা সুভাষ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, মোবাইল ফোন নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে মেয়ের স্বামী লক্ষণ। তিনি বলেন, রোববার রাতে রাজনা ও লক্ষণের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর স্বামী-স্ত্রী নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় আমি বাসায় থাকলেও রাজনার মা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সকালে আমি দেখি ঘরের দরজা খোলা এবং লক্ষণ বাসায় নেই। পরে মেয়ের কক্ষে গিয়ে মেয়েকে ডাকাডাকি করলেও মেয়ে কোনো সাড়া দেয়নি। এরপর দুপুরের দিকে আমার স্ত্রী হাসপাতাল থেকে এসে মেয়েকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধারকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, প্রাথমিভাবে ধারণা করা হচ্ছে রাজনাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত শেষে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ওসমানী হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : নিখোঁজের ১০ দিন পর ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা, (১০ এপ্রিল ২০১৯)

নিখোঁজ থাকার ১০ দিন পর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান চৌধুরী ওরফে সেলিম চৌধুরীর (৫২) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে ফতুল্লার ভোলাইল মিষ্টির দোকান এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নয়াদিগন্ত অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা থানার এসআই মামুন আল আবেদ।

তিনি জানান, ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রীর দায়ের করা জিডি অনুযায়ী তদন্ত চলছিল। বুধবার স্থানীয় লোকজন ভোলাইল মিষ্টির দোকান এলাকায় একটি লাশের সন্ধান দেয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর পরিবারের সদস্যরা ব্যবসায়ী সেলিম চৌধুরীর লাশ সনাক্ত করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ মার্চ নিখোঁজ হন ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান চৌধুরী ওরফে সেলিম চৌধুরী। এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ী সেলিম চৌধুরীর স্ত্রী রেহেনা আক্তার রেখা ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী দায়ের করেন।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার বক্তাবলীর কানাইনগর এলাকার গার্মেন্টস ঝুট ব্যবসায়ী সেলিম চৌধুরী শিবু মার্কেট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থেকে শহরে ব্যবসা করতেন। নারায়ণগঞ্জের অনেক ব্যবসায়ীর সাথে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। গত ৩১ মার্চ সকালে ব্যবসার কাজের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন তিনি। ঐদিন বেলা ১১টার দিকে সেলিম চৌধুরীর স্ত্রী রেখা মোবাইল ফোনে তার স্বামীর অবস্থান জানতে চাইলে সেলিম চৌধুরী জানিয়েছিলেন যে, তিনি ফতুল্লার পঞ্চবটি মোড়ে ইস্টার্ন ব্যাংকে রয়েছেন।

এরপর দুপুর ২টায় খাবার খাওয়ার জন্য ফোন করলে সেলিম চৌধুরীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সেলিম চৌধুরীকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পরে ফতুল্লা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) দায়ের করেন তিনি। জিডি নং-১৩৯।

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যবসায়ী সেলিম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছে। ব্যবসা করতে গিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে কয়েক লাখ টাকা দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েন তিনি। আর ব্যবসায়িকভাবে ধ্বস নামার ফলে সেলিম চৌধুরী নিজেও মানসিক ভাবে চাপে পড়ে যায়।

অনেক ব্যবসায়ী সেলিম চৌধুরীর কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা পাওনাদার ছিল। এছাড়া সেলিম চৌধুরীও অনেকের কাছে টাকা পাওনা ছিলো। আর যার কারণে গত ৩১ মার্চ ব্যবসায়ী সেলিম চৌধুরী নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের সাথে দেনাপাওনা নিয়ে কোনো বিরোধ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বলেছে পরিবার।


আরো সংবাদ




agario agario - agario