২২ মার্চ ২০১৯

সিলেটে জামায়াত প্রার্থী বাদ পড়ায় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ

-

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ মুহুর্তে সিলেটের দুটি আসনে ২০ দলের ধানের শীষের দুই প্রার্থী পরিবর্তনের ঘটনা এখন সিলেট বিভাগের সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাদ পড়া দুই প্রার্থী হচ্ছেন- সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী এবং সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে সিলেট জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান।

সিলেট বিভাগে এখন জামায়াতের কোন প্রার্থী না থাকায় ওই দলের কর্মী-সমর্থকরা ক্ষুব্ধ। তাদের ভাষ্য, শক্তিশালী এই দুই প্রার্থীকে বাদ দেয়ার কোন যৌক্তিক কারণ নেই। এই ঘটনা তারা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেননা।

এবারের নির্বাচনে সারাদেশে মোট ২৫টি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ২০ দলের অন্যতম শরীক জামায়াত প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হয়। এর দু’টি হচ্ছে- সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) ও সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসন। কিন্তু শেষ মুহুর্তে সিলেট-৫ আসনে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে বাদ দিয়ে জমিয়তের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে মাওলানা হাবিবুর রহমানকে বাদ দিয়ে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সল আহমদ চৌধুরীকে চুড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়। এই দু’জন এর আগে কখনো কোন নির্বাচনে অংশ নেননি।

অপরদিকে, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী শুধু তার নিজ নির্বাচনী এলাকা নয়, সিলেটের সর্ব মহলে রয়েছে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা । তিনি ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জামায়াতের প্রার্থী হয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। ৯৬ সালের নির্বাচনে মাত্র কয়েক শত ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি কম সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থির নিকট পরাজিত হন। এরপর বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও গত ১০ বছর এলাকাবাসীর সাথে ছিলেন তিনি। এই নির্বাচনী এলাকায় বিগত দিনে জামায়াতের হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের উপর সরকারের দমন-পীড়নের পরও আসন্ন নির্বাচনে মাঠে নামতে তারা প্রস্ততি নিচ্ছিলেন। এই আসনে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী পুনরায় জোটের মনোনয়ন পাবেন এবং বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন-নানা মহলে এমনটি আলোচনা হলেও শেষ মুহুর্তে কী কারণে তাকে বাদ দিয়ে একটি দ্বিধাবিভক্ত দলের দূর্বল প্রার্থিকে মনোনয়ন দেয়া হলো তার কারণ খুঁজে পাচ্ছেননা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদের কাছে পরাজিত হলেও জামায়াত নেতা মাওলানা হাবিবুর রহমান মাঠ ছাড়েননি গত ১০ বছর। নানাভাবে ভোটারদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। চিকিৎসা সেবাসহ নানা জনহিতকর কার্যক্রম চালিয়েছেন দীর্ঘদিন। ওই এলাকায় সর্বত্র তিনি একজন জনদরদী নেতা হিসেবে পরিচিত। সিলেট জেলার ৬টি আসনের মধ্যে এই আসনে সাংগঠনিকভাবে জামায়াত সবচে শক্তিশালী। গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ও বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের গত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জামায়াত মনোনীত প্রার্থিরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। জনসমর্থন ও সাংগঠনিকভাবে বিএনপির চেয়ে এগিয়ে থাকার পরও শেষ মুহুর্তে জোটের মনোনয়ন নিশ্চিত না হওয়ায় এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al