২৩ এপ্রিল ২০১৯

কুলাউড়ায় রেললাইনের উদ্বোধন 

-

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বহুল কাঙ্খিত কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন সেকশন পুনর্বাসন প্রকল্প কাজের উদ্বোধন হলো। সোমবার বিকাল ৫টার দিকে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কাজের উদ্বোধন করেন।
এসময় আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেল সংযোগ (বাংলাদেশ অংশ) নির্মাণ প্রকল্প এবং বাহারামপুর-ভেড়ামারা বিদ্যুৎ সংযোগ এইচভিডিসি ইন্টার কানেকশন প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়।
ভিডিও কনফারেন্সে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা ব্যানার্জি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী।
এর আগে ওই মুহূর্তটি বরণ করতে প্রস্তুত ছিলো কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন সংলগ্ন বিশাল মঞ্চ। তৈরি ছিলো বিশাল মঞ্চ ও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নামে ‘ফলক নির্মাণ’। শহরজুড়ে শোভা পায় বাংলাদেশ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ছবি সংবলিত বড়-বড় ফেস্টুন।
রেললাইন পুনর্বাসনের কাজ ও কুলাউড়া জংশন স্টেশন প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস সহিদ এমপি, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের এমপি মো. আব্দুল মতিন, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, কেন্দ্রিয় আওয়ামীলীগের সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদ, পুলিশ সুপার মো:শাহজালাল,কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম, বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর, জুড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান গুলশান আরা মিলি, রেলওয়ে বিভিন্ন উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তাগণ। মঞ্চের সার্বিক তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাদী উর রহিম জাদীদ।
কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথটি ২০০২ সালের ৭ জুলাই বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ১৯১০ সালে চালু হওয়া ঐতিহাসিক রেলপথটি আবার চালু করতে প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। ৫৩ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেলপথটি নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ শত ৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এটি বাস্তবায়িত করছে ভারতীয় নমনীয় ঋণে (এলওসি)। ২০১৫ সালের ২৬ মে প্রথম সংশোধিত প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় একনেক। মিটার গেজ সংস্কারের জন্য ২০১১ সালে কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনটি প্রকল্প ছক অনুমোদিত হয়। পরে ২০১৫ সালের ২৬ মে মিটারগেজের পরিবর্তে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের জন্য প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয় একনেক। এ রেলপথ রেলের নিজস্ব জমিতে নির্মিত হবে। তাই ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে ভারতের কালিন্দি রেল। প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে ৫৯টি ছোট-বড় সেতু ও ছয়টি স্টেশন (জুড়ী, দক্ষিণভাগ, কাঁঠালতলী, বড়লেখা, মুড়াউল ও শাহবাজপুর)। ২০১৫ সালে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ অংশের পুনর্বাসনে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান বালাজি রেলরোড সিস্টেমস লিমিটেডকে পরামর্শক নিয়োগ দেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ভারতের ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশের সিলেট,কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একই কৃষ্টি ও সংস্কৃতির জনসাধারণের মধ্যে আন্তঃদেশীয় সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার দরকার অনুভূত হয়। ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরকালে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগে যৌথ ইশতেহার ঘোষিত হয়। এর পরই ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আখাউড়া ও আগরতলার মধ্যে ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। ২০১৫ সালে কুলাউড়া-শাহবাজপুর ও ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় একনেক।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদেরকে জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ সহজ হবে। রেলপথের মাধ্যমে সেভেন সিস্টার্সের যাতায়াত সহজ করতে সরকারের এ উদ্যোগের সুফল ভোগ করবে দেশের জনগণ। রফতানি পণ্যের আমদানি-রফতানি বেড়ে যাবে অনেক বেশি।


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat