১৭ নভেম্বর ২০১৮

হাওর পাড়ের শিক্ষার্থীরা মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়

-

এদিক,ওদিক হলেই পা পিছলে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ব্রীজ কিংবা বিকল্প রাস্তা না থাকায় এক মোড়া বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সাঁকো পাড় হতে হয় স্কুলগামী কোমলমতি শিশুসহ পথচারীদের। রাস্তায় মাটি কিংবা কালভার্ট নির্মাণে কোনো পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। প্রতি বছরই এই রাস্তাটির জন্য কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে মাটি ভরাটের কাজ আসে স্থানী বাঁধ নির্মাণের জন্য। কিন্তু প্রকল্প বাস্তাবায়ন অফিসের অসাধু কর্মকর্তা ও কাবিটা প্রকল্পের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি সামান্য কাজ দেখিয়ে বরাদ্দকৃত টাকাগুলো আত্মসাৎ করে ফেলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে প্রতিবছরই এই রাস্তায় স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয় বাঁশের সাকো। এবছর হাওর রক্ষা বাঁধের নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ আসলেও নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তন হলো না।
হাওর পাড়ের শিশু শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকিনিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে। ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের জন্যই শিক্ষার্থীরা অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। কমলমতি শিশুশিক্ষার্থীদের নিয়ে হাওর পাড়ের অভিভাবকরা আতঙ্কের মধ্যেই কাটান বর্ষার ৬ মাস। জানা যায়, জেলার জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, তাহিরপুর, দিরাই, শাল্লা, জগন্নাথপুর, বিশ্বম্ভরপুর, মধ্যনগর থানা, দোয়ারা বাজার, ছাতক উপজেলাসহ হাওরের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বছরের পর বছর সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের। এক মাত্র ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাকো ও কাঠের তৈরী ছোট নৌকা। নৌকা কেনার সামর্থ আবার ৯০ভাগ হাওরবাসীর নেই। হাওরের ঢেউয়ের গর্জন ও নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো এবং সড়ক পথের ব্যবস্থা না থাকার কারনেই বর্ষকালে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে বেশীর ভাগ শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে রাস্তা না থাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের জন্যই শিক্ষার্থীরা অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। শিশুদের এই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারে অভিভাবকরা থাকেন সারাক্ষন আতঙ্কের মধ্যে। বর্ষা হলেই প্রতি বছর এমন ঝুঁকিতে বিদ্যালয়ে বাধ্য হয়ে আসতে হয় না হয় বাড়িতেই অবস্থান করতে হয় কোমলমতি শিশুদের।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে বর্ষা মওসুমে ভাঙাচোড়া সাকোর ওপর দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। অন্য কোনো চলাচলের রাস্তা না থাকায় জেলা শহরের সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী অনিরাপদ বাঁশের সাকো দিয়েই চলাচল করেন। পথচারীদের সতর্কতার সঙ্গে পার হতে হয় সাঁকো। একটু অসাবধান হলেই পা ছিটকে গিয়ে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত সাঁকোর জায়গায় মাটি ভরাট কিংবা কালভার্ট নির্মাণের দাবি ভুক্তভোগীদের। পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র জুয়েল বলে , 'ওই সাঁকো দিয়া যাবার বেলা অনেক সময় হাত থেকে বই, খাতা, কলম পড়ি যায়। সাঁকো দিয়া যেতে ধরলে নিজেদেরও হাত-পা কাঁপে। মৌলিনগর গ্রামের বাচ্চু মিয়া বলেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সরকার এবছর মৌলিনগর রাস্তায় বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু দেখা গেছে সামান্য জায়গায় মাঠি ফেলে রাস্তার কাজ বন্ধ রেখেছে। যার ফলে বাঁশের সাকোর পরিবর্তন হলনা। ভীমখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. দুলাল মিয়া জানান, এই রাস্তাটির জন্য সামান্য টাকা বরাদ্দ এসেছে। যার জন্য অর্ধেক স্থানে মাটি ফেলার পর টাকা শেষ হয়ে গেছে। তাই আগামী হেমন্ত মাসে সরকারের পৃষ্টপোষকতায় রাস্তা নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া জানান, এই রাস্তাটি কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে মাটি ভরাটের কাজ করা হয়েছে। আর যে জায়গায় সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে সেই জায়গা প্রকল্পের আওতায় ছিল না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান জানান, এই বিষয়টি এখন শুনেছি। খোঁজ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এখানে একটা ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ