২১ নভেম্বর ২০১৮

গোয়াইনঘাটে যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা

-

প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি পর্যটন নগরী সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা। উপজেলা জুড়ে রয়েছে দেশের খ্যাতিমান দৃষ্টিনন্দিত পাঁচটি পর্যটনকেন্দ্র। চোখ জুড়ানো এসব সৌন্দর্য দেখে প্রতিনিয়তই মুগ্ধ হোন প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক। শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে দিন দিন হারিয়ে বসছে এসব সৌন্দর্য। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পে ঘটছে ব্যাঘাত। সেই সাথে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সম্প্রতি সময়ে কয়েক লক্ষাধিক পর্যটকের পদচারণায় মূখর থাকতো পর্যটন কেন্দ্রগুলো। ভ্রমন পিপাসুদের ভীড় দেখে গড়ে উঠে শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট। তাই এই পর্যটন শিল্পের যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় যেন দিন দিন পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে পর্যটক। সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে সিলেট-তামাবিল মহা-সড়ক, সিলেট-সারীঘাট-গোয়াইনঘাট-বিছনাকান্দি সড়ক, সিলেট-সালুটিক-বিছনাকান্দি সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে ভরা। এসকল রাস্তার বেহাল অবস্থার কারনে র্নিধারিত স্পটে গাড়ী যেতে পারেনি, এতে ভোগান্তির শিকার হ নপর্যটক ও যাত্রী সাধারন। দীর্ঘ প্রায় ৬ বছরেরও অধিক সময় থেকে বেহাল দশায় পড়ে থাকা এ সকল রাস্তাগুলো সংস্কার কাজে দায়বদ্ধতা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ফলে রীতিমত বিড়ম্ভনায় পড়তে হচ্ছে ঘুরতে আসা এ সব ভ্রমণ পিপাসুদের। এছাড়াও বিপাকে পড়তে হচ্ছে পর্যটনকেন্দ্রে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যবসায়ীদেরও। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষন প্রকৃতিকন্যা জাফলং। কিন্তু সিলেট তামাবিল মহা-সড়কের নলজুড়ি থেকে পর্যটক স্পট জাফলং পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটারেরও অধিক পথ যেতে হয় কাঁদা জল মাড়িয়ে। এই সড়ক দিয়ে যানবাহন ও মানুষের চলাফেরা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। একই অবস্থা আরেক দৃষ্টিনন্দিত পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দিতেও। সিলেট-সালুটিকর-হাদারপার সড়কের বঙ্গবীর হতে বিছনাকান্দি পর্যটন স্পট পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার রাস্তা জুড়েই খানা-খন্দে ভরপুর। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তীতে পড়ছেন জনসাধারণ ও আগত পর্যটক। অপর দিকে যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা থাকায় রাতারগুল, মায়া বন ও পান্তুমাই মায়াবতী ঝর্নানায় যেতে বিড়ম্বনার শিকার হন ভ্রমনপিপাসুরা। গতকাল সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরতে সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, নলজুড়ি থেকে বল্লাঘাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটারের ও অধিক পথ খানা-খন্দে ভরপুর। রাস্তার স্থরে স্থরে জমে থাকা কাঁদা জল মাড়িয়েই পথচারী ও যানবাহন চলাচল করছেন। কিছু কিছু যায়গায় জমে থাকা কাঁদা আর বালির জন্য প্রতিনিয়তই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তাদের ভোগান্তী যেন লেগেই আছে। ২০১৬ সাল ছিলো সরকার ঘোষিত পর্যটন বর্ষ। প্রায় আড়াই বছর গড়িয়ে গেলেও রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি যোগাযোগ ব্যবস্থায়। ফলে উল্টো হুমকিতে পড়েছে সম্ভাবনাময় এ পর্যটন শিল্প। ঢাকা থেকে স্বপরিবারে জাফলং ঘুরতে আসা শাহজাহান ভুইঁয়া জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে জাফলং বেড়াতে এসে জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদেরকে বিমোহিত করেছে। তবে সিলেট থেকে আসার পর রাস্তাঘাট দেখে খুব খারাপ লাগছিলো। রাস্তাঘাটের আরেকটু উন্নতি হলেই এই জাফলং ফিরে পেতো তার আসল সৌন্দর্য। জাফলংস্থ বল্লাঘাট ক্ষুধা রেস্টুরেন্টর প্রোপাইটার সফিকুল ইসলাম বিক্রমপুরী জানান রাস্তাঘাট খারাপ থাকায় গাড়ী চলাচলে বিঘœ ঘটছে এতে ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিছনাকান্দি জলপরি রেস্টেুরেন্টের প্রোপাইটার আনোয়ার হোসেন জানান আগের তুলনায় এখন ব্যবসা খারাপ হচ্ছে। সমস্যা একটাই যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ। কথা হয় একাধিক জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবীদের সাথে। তারা জানান পর্যটন নগরী গোয়াইনঘাটের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন না হলে একদিন পর্যটন স্পটগুলো বিলিন হয়ে যাবে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সেতু ও যোগযোগ মন্ত্রীর বরাবলে দ্রুত রাস্তা ঘাটের উন্নয়নের জোর দাবি জানান।


আরো সংবাদ