২১ নভেম্বর ২০১৮

ঈদে ঘুরে আসুন সুনামগঞ্জের এই পর্যটন স্পটগুলোতে

এই পর্যটন স্পটগুলোতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলন মেলায় পরিনত হয় - নয়া দিগন্ত

ঈদের ছুটিতে বেড়াতে যেতে পারেন হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জের ভারতের খাসিয়া, মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত হাওর আর পাহাড়ের মিলনে সমৃদ্ধ তাহিরপুর ও দোয়ারাবাজারে। প্রতি বছরই এ দুই উপজেলায় পর্যটক ও স্থানীয় জনসাধারণের পদচারণায় মুখরীত হয়। তবে সারা বছরেই এই পর্যটন স্পটগুলো দেশ-বিদেশের সৌন্দর্য পিপাসুদের সাথে সাথে স্থানীয় জনসাধরনের পদচারনায় মুখরিত থাকলেও বছরের দুটি প্রধান উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলন মেলায় পরিনত হয়। এখানে ঈদ উৎসব ছাড়াও ছুটির দিনে আসেন সহস্রাধিক পর্যটক। কেউ মটর সাইকেলে, কেউ সিএনজি, কেউ স্পীড বোর্ডে আবার কেউ ইঞ্জিন চালিত নৌকায় দলবেধে ছুটছে।

তাহিরপুর উপজেলায় রয়েছে, মাদার ফিসারিজখ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের বুকে এক উজ্জল নক্ষত্রের নাম, সীমান্ত ঘেষা তিন শ' ফুট উচ্চতার বারেক টিলা, উপজাতিদের মন্দির, মেঘালয় পাহাড়ের জলপ্রপাত, শাহ আরফিন (রা) আস্তানা, সনাতন হিন্দু-ধর্মাবলাম্বীদের পনর্তীথ স্থান, উঁচু-নিচু পাহাড়ের সারি, ঘন-সবুজের সমারোহ, টেকেরঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্প, সীমান্ত লেক, তিনটি শুল্ক ষ্টেশন (চারাগাঁও, বড়ছড়া, বাগলী), মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্ন, ছোট বড় ২০টি ভারতের মেঘালয়ের বুক চিড়ে নেমে আসা পাহাড়ী ছড়া, রাজা উইক্লিবসের বাড়ি, আওলী জমিদার বাড়ি, পাহাড়ী যাদুকাটা নদী, ঝর্না, মেঘ, বৃষ্টি, উপজাতি ও বাংলাদেশীদের একত্রে বসবাসের এক মিলন মেলা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মনোরম পরিবেশ বিরাজ করছে সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলায়।

দোয়ারাবাজার উপজেলায় রয়েছে বাঁশতলা, হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধ, জুমগাঁও আদিবাসীসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান যা পর্যটকদের নয়ানাভিরাম, নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ করে। অনেকেই ওই সব স্থানে গিয়ে তুলছেন সেলফি আর কেউ কেউ একান্তে বসে আছেন আবার কেউ দিচ্ছেন জম্পেশ আড্ডা।

সবার আকর্ষণ টাংগুয়ার হাওর। এ হাওরে একটি প্রবাদ আছে, 'নয়কুড়ি বিল, ছয় কুড়ি কান্দার' সমন্বয়ে গঠিত শত বর্গ কিলোমিটার এলাকার এই হাওরে নানান প্রজাতির বনজ ও জলজ প্রাণী এর সৌন্দর্যকে আরো দর্শনীয় করেছে। বর্ষায় টাংগুয়ার হাওর এক বিশাল সমুদ্রের রুপ ধারণ করে আর শীতের সময় টাংগুয়ার হাওরকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলে। তাই বছরের দুটি ঈদ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আগমন বেশি লক্ষ্যণীয়। এবারও তার ব্যাতিক্রম হবে না ধারণা স্থানীয় এলাকাবাসীর। শিশু থেকে শুরু করে মধ্য বয়সী হাজার হাজার মানুষের আগমনে এক মিলন মেলায় পরিনত হবে টাংগুয়ার হাওরসহ জেলার ওই সব দর্শনীয় স্থানগুলো।

sunamgong-2

এবার হাওর পাড়ে একমাত্র বোরো ধান গোলায় তুলতে পারায় সবার মনে ঈদের আনন্দ রিবাজ করছে। হাওর পাড়ের সংগ্রামী,পরিশ্রমী মানুষগুলো একটু আনন্দ খোঁজার চেষ্টায় অনেকেই বেড়িয়ে পড়েন ওই সব দর্শনীয় স্থানগুলো দেখে একটু প্রশান্তি আর আনন্দের খোঁজে।

জেলাবাসী ক্ষোভের সাথে জানান, নিবার্চন আসলে নেতা-নেত্রীদের মুখে শুধু আশার বাণী শুনতে পাই কাজের বেলায় কিছুই নাই। আমরা শুধু কি আশার বাণী শুনতেই বেঁচে আছি। এখানে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন হবে বলে শুনছি অথচ এখনো কোনো কাজ দেখছি না। অথচ ঈদ ছাড়াই এ দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে হাজার হাজার মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও থাকা খাওয়ায় ভাল সুযোগ না থাকার পরও আসছে শত কষ্ট সহ্য করে।

এ উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে বেড়াতে আসা শিক্ষার্থী সৌরভ দাস, নাজির হোসেন, নাইম, মেহেদী হাসান ভুঁইয়া সহ অনেকেই জানান, তাহিরপুর উপজেলার পর্যটন সমৃদ্ধ ও দৃষ্টি নন্দন স্থানগুলোতে ঈদকে সামনে রেখে হাজার হাজার পর্যটকের সমারোহ ঘটবে। এখানে এসে অনেকেই কষ্টের মাঝে একটু মনের আনন্দের খোঁজ পায়। দেখতে ভাল লাগে তাই আমরা এসেছি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ঈদের দিনেও আসব হাজার হাজার মানুষের আগমনে মিলন মেলায় পরিনত হবে এবারও টাংগুয়ার হাওর, বারেকটিলায় সহ অন্যান্য দর্শনীয় স্পটগুলো। এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকদের এখানে বেড়াতে আসতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

sunamgong-3

তাহিরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখঞ্জি জানান, ঈদ ও ছুটির দিনে এ উপজেলায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে হাজার হাজার পর্যটক আসেন। টাংগুয়ার হাওর, যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান ও বারেকটিলা তাহিরপুর উপজেলার আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন হলে তাহিরপুরের স্থানীয় জনসাধারনের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের সুযোগ ও স্থানীয় বেকার যুবকদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

কীভাবে যাবেন : রাজধানী ঢাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের বাস সার্ভিস আছে সুনামগঞ্জ জেলা পর্যন্ত। তারপর সিএনজি, লেগুনা ও ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেলে তাহিরপুর উপজেলায়। তার পর বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা যাওয়ার সুবিধা রয়েছে।


আরো সংবাদ