১৮ নভেম্বর ২০১৮

তাহিরপুরে ভুয়া ডাক্তারকে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা

-

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় মিলাদুর রহমান নামে এক ভুয়া ডাক্তারকে ১০ হাজার টাকা জরিমান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। মিলাদুর বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাটটিয়া গ্রামের বোরহান উদ্দিনের ছেলে এবং বাদাঘাট বাজারের মা মেডিকেল হলের মালিক।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূনেন্দ্র দেব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট বাজারের অভিযোন পরিচালনার সময় বাজারে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ডাক্তাররা তাদের ভয়ে গাঢাকা দেন। বন্ধ হয়ে যায় ওষুধের দোকানগুলো। এসময় কলেজ রোডে অবস্থিত মা মেডিকেল হল মালিক মিলাদুর রহমান ওরফে রহমান ডাক্তারের ফার্মেসিতে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্র্রেট দেখেন এলাকায় সংঘর্ষে আহত কয়েকজন মাথা ফাটা রোগীকে (পুলিশ কেস) তিনি নিজেই সেলাই করছেন। পরে তার ডাক্তারের সাটির্ফিকেট আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি তা দেখাতে অপারগ হন। পরে ভ্রাম্যমান আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে সর্তক করে ছেড়ে দিয়েছেন। এবং তার ডাক্তার লেখা (বিভিন্ন রোগে অভিজ্ঞ ডাক্তার উল্লেখিত) সাইনবোর্ডটি বাদাঘাট ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

এছাড়াও বাদাঘাট বাজারের সব ফার্মেসির মালিক ও পল্লী চিকিৎসকসহ সবাইকে সর্তক করেন ম্যাজিস্ট্রেট।

ওই ভুয়া ডাক্তারের বিষয়ে বাজারের বিভিন্ন দোকানীরা জানান, এক সময় বাদাঘাট বাজারের ডাক্তার আব্দুস ছালামের (অবসরপ্রাপ্ত) কর্মচারী ছিলেন প্রায় ১২ বছর। এর পর তিনি নিজেই ফার্মেসি দিয়ে ডাক্তারের সাইনবোর্ড দোকানের সামনে ঝুঁলিয়ে ডাক্তারি করছিলেন দীর্ঘদিন ধরে।

এ ঘটনার সত্যাতা নিশ্চিত করেন ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূনেন্দ্র দেব। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ভুয়া ডাক্তারের অপচিকিৎসায় এক শিশু মারা গেছে ও মায়ের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। নিয়ম অনুযায়ী ফার্মেসী ও পল্লী চিকিৎসকের যে দায়িত্ব তাই পালন করতে হবে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সবাইকে নিয়ে ঈদের পর বসব কার কি দায়িত্ব আছে তা আলোচনা করে সচেতন করার চেষ্টা করব।’


আরো সংবাদ