২৩ মার্চ ২০১৯

সেলিমকে বাগে আনতে পারছেন না আরিফ

আরিফুল হক চৌধুরী - ছবি : সংগৃহীত

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েও শান্তিতে নেই আরিফুল হক চৌধুরী। গত নির্বাচনে জয়লাভের পেছনে যাদের বড় অবদান ছিল সেই জামায়াত এবার নেই তার পাশে। তারা তাদের শক্তিশালী প্রার্থী, নগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে নিয়ে ব্যস্ত। ২০ দলীয় জোটের সমর্থন না পেলেও জুবায়ের মাঠে থাকবেন এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন জামায়াতের এক কেন্দ্রীয় নেতা। সিলেটে জামায়াত ও বিএনপি কেউ কাউকে ছাড় দেবে না- এটা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। অনড় অবস্থানের কারণে সিলেটের উভয় দলের বেশির ভাগ নেতা সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তবে কেউ কেউ এখনো আশাবাদী। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জোরেশোরে প্রচারণা চালিয়ে গেলেও আরিফ নিজ দলের নেতাকর্মীদের মাঠে নামাতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। প্রকাশ্যে বিরোধ দেখা না গেলেও সিলেটে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মধ্যে রয়েছে বিভাজন। বিশেষ করে নতুন কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রদলের বিরোধ লক্ষণীয়।

সিসিকের গত নির্বাচনে দলীয় মেয়রপ্রার্থী আরিফের পক্ষে ছাত্রদল ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেছিল। কিন্তু এবার ছাত্রদলের বিরোধ ভাবিয়ে তুলেছে বিএনপি নেতাদের। গত নির্বাচনে জয়লাভের পর নানা কারণে দলের নেতাকর্মীদের সাথে আরিফের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এই দূরত্বের কারণে মনোনয়নপ্রত্যাশী পাঁচ নেতার সবাই ছিলেন তার বিরুদ্ধে। তাদের অন্যতম নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, দল যে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে তার জবাব দেবে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সচেতন ভোটাররা। মাঠে সক্রিয় সেলিমকে বাগে আনার জন্য আরিফ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েও এখনো সফল হতে পারেননি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চলবে বলে জানালেন নগর বিএনপির এক নেতা। এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেন বলেন, এটা আমাদের ঘরের সমস্যা।

সময় মতো সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বদরুজ্জামান সেলিম নয়া দিগন্তকে বলেন, কেন্দ্রের নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয়পর্যায়ে অনেক নেতা আমার সাথে যোগাযোগ করেছেন। তারা আরিফের পক্ষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য আমাকে অনুরোধ করেছেন। আমি সাফ জানিয়ে দিয়েছি, এটা কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, কেউ কেউ আরিফকে আমার বাসায় নিয়ে এসে সমঝোতার কথা জানালে আমি তাদের স্পষ্ট বলে দিয়েছি, এমন চেষ্টা করবেন না, তাকে নিয়ে এলে পরিস্থিতি অন্য রকম হবে। তিনি বলেন, ৮ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে আমি অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরব। এমনো হতে পারে শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীক আমি পেয়ে যাবো। আর না পেলে টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে লড়ব। আরিফুল হক চৌধুরী আশাবাদী, সেলিম শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন।

গত বৃহস্পতিবার নগর বিএনপির কর্মিসভায় বদরুজ্জামান সেলিমের প্রশংসা করে আরিফ বলেন, বর্তমানে তিনি আবেগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। আমি আশা করি, নির্বাচনে তিনি আমার পাশে এসে দাঁড়াবেন। কিন্তু আরিফের এমন প্রত্যাশা নাকচ করে দিয়ে সেলিম বলেন, প্রশ্নই ওঠে না। মনোনয়ন জমা দিয়েছি প্রত্যাহারের জন্য নয়। প্রায় চার দশক ধরে রাজনীতির মাঠে যে শ্রম দিয়েছি সে শ্রম বৃথা যাবে না। কেন্দ্র চোখে চশমা পরে থাকলেও দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকে ভালোবাসে। তার প্রমাণ নির্বাচনের দিন হবে।

আরো পড়ুন :

সিলেটে মেয়র পদে ২০ দলের সমর্থন চায় জামায়াত

কয়েকটি সংবাদপত্র এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রার্থী দেয়া সম্পর্কে যে সব তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক মো: তাসনীম আলম গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, গত ৫ ও ৬ জুলাই কয়েকটি সংবাদপত্র এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রার্থী দেয়া সম্পর্কে যে সব অসত্য তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে আমি তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির হীন উদ্দেশ্যেই তারা অসত্য তথ্য পরিবেশন করেছে। 

পত্রিকার প্রতিবেদনে ‘সিলেটে প্রার্থী দিয়ে অনমনীয় অবস্থান নেয়ার পেছনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমানের আগ্রহ বেশি কাজ করছে। এর নেপথ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতার সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কাজ করছে’ মর্মে যে সব কথা লেখা হয়েছে তা একেবারেই অসত্য। এটি জামায়াত নেতৃবৃন্দের চরিত্র হননের শামিল। সিলেটে জামায়াত প্রার্থী দিয়েছে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। আওয়ামী লীগের কোনো নেতার সাথে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের সম্পর্ক থাকা বা তার আগ্রহে জামায়াতের প্রার্থী দেয়ার প্রশ্নই আসে না। জামায়াত কাজ করে দলীয় সিদ্ধান্তে, কারো একক সিদ্ধান্তে নয়। কোনো কোনো পত্রিকার রিপোর্টে ‘জামায়াত সিলেটে প্রার্থী দিয়ে ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করেছে’ মর্মে যে কথা লেখা হয়েছে, তা সর্বৈব মিথ্যা। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীর ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কাজেই সিলেটে প্রার্থী দিয়ে জামায়াতের ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনের প্রশ্ন অবান্তর। 

তিনি আরো বলেন, আরেকটি প্রতিবেদনে ‘উদারপন্থী দলগুলোকে নিয়ে ঐক্য প্রক্রিয়ায় জামায়াত খুশি নয়’ মর্মে যে সব কথা লেখা হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই। আমরাও চাই দেশের জনগণের ভোটাধিকার, আইনের শাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সব বিরোধী দল নিয়ে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠুক। এ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো অবকাশ নেই। রিপোর্টে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচন এবং তার পূর্বের নির্বাচনে জামায়াতের প্রাপ্ত ভোট নিয়ে যে সব কথা লেখা হয়েছে তা সত্য নয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। ২০০৮ সালের পরে দেশে কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনই হয়নি। কাজেই দেশে কোন দলের কত ভোট আছে তা এখন কারো পক্ষে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। 

জামায়াতের এ নেতা বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ২০ দলীয় জোটে ভাঙন সৃষ্টি হোক তা কারো কাম্য নয়। আমরা জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে সব সিটি করপোরেশন নির্বাচনেই বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছি। আমরা আশা করছি শুধু সিলেটে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীকে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হবে। আমাদের এ আশা সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও ন্যায় সঙ্গত। এজন্য আমাদের প্রত্যাশা ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো আমাদের দলের প্রার্থীকেই ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা করে বিরাজমান সমস্যার যৌক্তিক ও ন্যায় সঙ্গত সমাধান করবেন। বিজ্ঞপ্তি।


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al