২২ জুলাই ২০১৮

হাওরে ভেঙে পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা

-

সুনামগঞ্জের তাহিপুর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা বেহাল অবস্থা। শিক্ষকরা স্কুল ফাঁকি দিয়ে করছে রাজনীতি। শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে না যাওয়াসহ আরো একাধিক কারণে হাওরাঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নাজেহাল অবস্থায় পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে অভিভাবক মহলে।

এছাড়াও সম্প্রতি চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক পদে পদন্নোতিতে তাহিরপুর উপজেলাসহ ১১টি উপজেলায় ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট একাধিক লিখিত অভিযোগ করায় জেলা প্রশাসক তর্দন্তের নির্দেশ দেন। ১লা জুলাই ৩ সদস্য বিশিষ্ট ৭দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা যায়,তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১৩২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। স্কুলগুলো বেশীর ভাগ হাওরপাড়ে অবস্থিত। এই সব স্কুলগুলোতে প্রথমে চাকরী পাওয়ায় যোগদান করেন। পরে শুরু হয় উপজেলা সদরের কাছে অথবা নিজ বাড়ির কাছের স্কুলের বদলীর তদবির। এসব স্কুলের দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে সহকারী শিক্ষকগন নিজের সুবিধা মত স্কুলে যোগদান করতে না পারায় প্রায়শই স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অন্যদিকে শিক্ষকরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আতাত করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের রাজনীতি করছে।

এছাড়াও অভিভাকরা অভিযোগ করছেন যে, শিক্ষকগন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বড় বড় পদে থাকায় বিভিন্ন মিটিং-মিছিল,আন্দোলন-সমাবেশ অংশগ্রহণ করেন। যার ফলে ঐসব স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

আর অনেক শিক্ষকগন কাগজ-কলমে ইচ্ছা মত ছুটি কাটান। আর মাসের পর মাস বেতন-ভাতা উত্তোলন করছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশে। শিক্ষক নেতারাও নিজেদের ক্ষমতা ঠিকিয়ে রাখতে অন্যায়কে প্রশয় দিয়ে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি মোহাম্মদ আমির হোসেন নামে তাহিরপুর উপজেলার এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নিজের আইডিতে লিখেন, তাহিরপুর উপজেলার শিক্ষকার মান নিন্মমুখী হচ্ছে। শিক্ষক নেতারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে বিদ্যালয় চলাকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে যোগদান করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষকগন বলেন,আমাদের কোন রাজনৈতিক দলের বড় পদ নাই তাই ক্ষমতা দেখাতেও পারি না। যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত তারাই বড় বড় পদ দখল করে আছেন।

তারাই ক্ষমতার অপব্যবহার করে পদোন্নতি,বদলী বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। আর তাদেরকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
সম্প্রতি বিভিন্ন স্কুলের চলতি দায়িত্বে থাকা সিনিয়র শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের পদন্নোতি হয়েছে গোপনে। অবৈধ ভাবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এসব পদোন্নতি হয়েছে।

এই বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ফেরদৌস আরমের কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি সাড়া দেননি। ফোন বা এসএমএস দিলেও তার কাছ থেকে কোন জবাব পাওয়া যায়নি।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী জানান, চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক পদায়নের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আর যে শিক্ষকগন নিয়মিত স্কুলে না গিয়ে ও রাজনীতির সাথে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পদোন্নতিতে দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ নূরজ্জামান বলেন, জেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেয়া হবে।

 


আরো সংবাদ