২৪ অক্টোবর ২০১৮

কমলগঞ্জে ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

-

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হলেও পতনউষার ইউনিয়নের নিম্নঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। উজানের পানি নামার কারনে নিম্নাঞ্চলে বন্যার অবনতি হচ্ছে। গ্রামীন সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি প্রধান সড়ক শমশেরনগর-কুলাউড়া, পতনঊষার-মৌলভীবাজার সড়কগুলো যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
শমশেরনগর, পতনঊষার, মুন্সীবাজার ও রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কমলগঞ্জের পৌরসভার ও মুন্সিবাজার ইউনিযনের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চাল দিয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি। পতনঊষারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিতের তোড়ে অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষি ও মৎস্য খামারে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বন্যার কারনে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনালের ১২টি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ঈদের একদিন পূর্বে হাটবাজারে কেনাকাটায় পুরোদমে ধ্বস নেমেছে। এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়র হতে কমলগঞ্জের জন্য ৪৫টন চাল ও ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মনু নদীর ৪টি ও ধলাই নদীর ৭টি নতুন ও পুরনো ভাঙন দিয়ে পানি বেরিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল শমশেরনগর, পতনঊষার, মুন্সীবাজার, রাজনগর উপজেলার কামারচাক ও কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ও হাজীপুর ইউনিয়নের বন্যার অবনতি দেখা দিয়েছে। তবে নদীর পানি কিছুটা কমায় ইসলামপুর, আদমপুর ও পৌরসভায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। এসব এলাকার ঘর বাড়ি হতে পানি নেমে যাওয়ায় কিছুটা ভাল আছেন বানবাসী মানুষ। ২দিন বন্ধ থাকার পর পানি নেমে যাওয়া কমলগঞ্জ-মৌলববিাজার সড়কে যান চলাচল বৃহস্পতিবার হতে শুরু হয়েছে।
অপর দিকে বন্যা পানি দ্রুত নিন্মাঞ্জলে দিকে যাওয়া শমশেরনগর, পতনঊষার, মুন্সীবাজার ও রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের প্রায় ৬০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পতন উষারে শহীদ নগর বাজারে ১ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাট পানিতের নিচে থাকায় লোকজন চলাচল করতে পারচ্ছেন না। পতনঊষার ইউনিয়নের শ্রীমতপুর, মনসুরপুুরসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। শমশেরনগর-কুলাউড়া, পতনঊষার-মৌলভীবাজার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে এসব সড়কে যাতায়াতকারী লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এসব এলাকার ফসলি জমি, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট নিমজ্জিত হচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে।
খাবার ও নিরাপদে রাখতে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্নাঞ্চল এলাকার কৃষকরা। বাড়িঘর থেকে মালামাল ও গবাদি পশু নিয়ে দোকানপাট সহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন মানুষ। পানির স্রোতে রাস্তাঘাটের অসংখ্য স্থান ভেঙ্গে পড়েছে। উপজেলার রোপিত দুই হাজার হেক্টরের আউশ ক্ষেত ও তিনশ’ হেক্টরের সবজি ক্ষেত বিনষ্ট হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলার প্রায় ২শ’টি মৎস্য খামার তলিয়ে ভেসে গেছে মাছ ও মাছের পোনা। বন্যার কারনে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনালের অধীনস্থ শরীফপুর ইউনিয়নের ১২টি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় ঈদের একদিন পূর্বে শমশেরনগর ও ভানুগাছ বাজারে কেনাকাটায় পুরোদমে ধ্বস নেমেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি বন্যা দুর্গত এলকা পরিদর্শন করে ত্রান বিতরন করেছেন। তিনি পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের ৩ শত পরিবারকে চাল প্রদান করেন। তবে বানবাসী মানুষজন শুকনো খাবার ও ত্রান বিতরনের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।
পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান তওফিক আহমদ বাবু বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, পতনউষার ইউনিয়নের ২২টি গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদসহ অধিকাংশ রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। নিম্নাঞ্চলে এখনও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুকিপূর্ণ বাড়িঘর থেকে মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দীন আহমদ বলেন, বন্যায় এ পর্যন্ত ৫শ’ হেক্টর আউশ ক্ষেত নিমজ্জিত হওয়ার তালিকা করা হয়েছে। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোবারক হোসেন বলেন, বন্যার কারণে বুধবার বিকাল থেকে শরীফপুর ইউনিয়নের ১২টি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, নি¤œাঞ্চলে বন্যার অবনতি স্বীকার করে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে এসব এলাকার সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বন্যাদুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


আরো সংবাদ