মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮
বেটা ভার্সন

কুলাউড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি : চা শ্রমিক নিখোঁজ

বন্যায় ডুবে যাওয়া রাস্তা পার হচ্ছেন একজন - নয়া দিগন্ত

কুলাউড়ার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে মনু’র পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা কবলিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। সীমান্তবর্তী শরীফপুর,হাজীপুর,টিলাগাও,পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার পর গত রাত ও দিনের বৃষ্টিতে নতুন করে রাউৎগাও ও ব্রাম্মনবাজার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এবং পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আরও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে বানের পানিতে এক চা শ্রমিক নিখোজ রয়েছেন।
বন্যা দূর্গতরা জানান, মনু নদীর শরীফপুর ইউনিয়ন অংশে মোট ৬ টি ভাঙ্গন দিয়ে পানি ডুকছে। এই পানি আবার যাওয়ার কোন যায়গা নেই। কারণ মনুনদীর বেড়ীবাঁধ থাকার কারণে ঐ পানি শরীফপুর ইউনিয়নের প্রধান সড়ক চাতলাপুর চেক পোষ্ট সড়কের কোথাও কোথাও কোমর পানি আবার কোথাও কোথাও হাটু পানি। আমতলা বাজার, বটতলা বাজার, বাগজুর, তেলিবিল, খামভারঘাট, চানপুর, হরিপুর, পূরবভাগ, সনজবপুর, সঞ্জয়পুর, লালারচক, শরীফপুর সহ ইটারঘাট, চাডিয়ারঘাট, কালারায়েরচর, মানগাও, তিলকপুর, মনোহরপুর, দত্তগ্রাম, সোনাপুরসহ ৩৫ টি গ্রাম পানির নিচে। শরীফপুর,হাজীপুরের প্রধান সড়ক ডুবে যাওয়ার কারণে এই পানি ভারতের লক্ষীপুর, কোবজার, সফরীকান্দী সহ কৌলাশহর জেলা সদরে প্রবেশ করছে এবং ভারতের কৌলাশহরের কয়েকটি এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।
এদিকে ৪ টি ইউনিয়নের অর্ধ সহ¯্রাধিক বাড়ী ঘর প্লাবিত হয়েছে। একই অবস্থা হাজীপুর ইউনিয়নে মজমপুর, ভুইগাও, পাইকপাড়া, রনচাপ, গাজীপুর, ইসমাইলপুর, খাতাইপার, মিরগাঁও, চানঁগাও, হাজীপুর, রজনপুর, হাসিমপুর, বাড়ইগাও, সহ প্রায় ৩০ টি গ্রাম পানির নিচে। হাজীপুরের পানি পতনউষার, তারাপাশা হয়ে মৌলভীবাজার জেলা সদরে প্রবেশ করছে। এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশী ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে ফিসারী, ঘরবাড়ী, রাস্তাঘাট ও ক্ষেতের ফসলের।
বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ ইউনিয়ন সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: জুনাব আলী জানান, তাঁর ইউনিয়নের একটি গ্রামও প্লাবিত হওয়ার বাকি নেই। ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি বলেন,সরকারী বরাদ্ধ সামান্য পাওয়া গেছে। এটা দিয়ে দূর্গতদের সামলানো যাচ্ছেনা।
হাজীপুরের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্ছু জানান, তার ইউনিয়নের ৯০ ভাগ এলাকা পানির নীচে। রাস্তাঘাট পানির নীচে। বাড়িঘর পানিতে প্লাবিত হয়ে চরম ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন লোকজন। ঈদের পূর্বে এ বন্যায় মানুষের সবকিছু ধবংস করে দিয়েছে। মাত্র ১০ মে:টন চাল,কিছু শুকনো খাবার ছাড়া আরও কিছুই এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এদিকে বন্যার পানির ¯্রােতে ভেসে প্রদীপ মালাহা (৩০) নামের এক চা শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। বুধবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার টিলাগাও ইউনিয়নের নয়াবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ প্রদীপ একই ইউনিয়নের লংলা চা বাগানের শ্রমিক শ্রী ধনী মালাহা এর ছেলে। টিলাগাও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল মালিক জানান, প্রদীপ নতুন বাজার থেকে সন্ধ্যা পর বাড়ি যাওয়ার পথে বন্যার পানির শক্তিশালী স্রোত তাকে মনু নদে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা এসে খোঁজাখুঁজি করে তার কোন সন্ধান পায়নি।
কুলাউড়া ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান উত্তম কুমার সিংহ বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করে তাকে পাইনি। বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গেলে তাকে পাওয়ার সম্ভবনা কম। রাত হয়ে যাওয়ায় বন্যার পানিতে তাকে পাওয়া কঠিন হয়ে গিয়েছিল। তাই আমরা আজকের মতো উদ্ধার তৎপরতা থামিয়েছি।


আরো সংবাদ