২০ অক্টোবর ২০১৮
কমলগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষের ঈদ আনন্দ মাটি

পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষের ঈদ আনন্দ মাটি - সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে আরো ৭টি ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনের ফলে উপজেলার মাধবপুর, আলীনগর, আদমপুর, পতনউষার ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নতুন ও পুরাতন ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করায় শতাধিক গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন।

পানির স্রোতে অর্ধ শতাধিক কাচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। কমলগঞ্জ ভায়া মৌলভীবাজার ও কমলগঞ্জ টু আদমপুর এবং শ্রীমঙ্গল ভায়া শমসেরনগর সড়কে ১ ফুট পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। সব মিলিয়ে কমলগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে।

ভানুগাছ বাজার সংলগ্ন, রামপাশা, আলেপুর এলাকায় আরো ৩টি স্থান ঝুঁকির মুখে। বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কমলগঞ্জ পৌরসভা ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ১২৫টি পানিবন্দি পরিবারের মাঝে জরুরি ভিত্তিতে ১০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে। এখন নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

টানা বর্ষনে মঙ্গলবার আকস্মিকভাবে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কমলগঞ্জ পৌরসভার করিমপুর ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সুরান্দন পুর এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে ১২টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। তলিয়ে যায় রাস্তাাঘাট। পানিবন্দি হয়ে পড়েন ৩ শত পরিবার।

এদিকে মঙ্গলবার রাত ১০টায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাধে নতুন করেমাধবপুর কাটাবিল, ইসলামপুরের শ্রীপুর, কোনাগাও, বনগাও ও কেওলিঘাট আদমপুরের ঘোরামারা নামক এলাকায় নতুন করে ভাঙ্গন দিয়ে জালাল পুর, কোনাগাও, শ্রীপুর, বনগাও, ঘোরামারা, তিলকপুর, আলীনগর ইউনিয়ের শ্রীনাথপুর, কামুদপুর, কালিপুরসহ পতনউষার, শমসেরনগর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হবে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। ঘোরামারায় ভাঙ্গন দেয়ায় রাতে কমলগঞ্জ আদমপুর সড়ক ১ ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রাত হতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পৌরসভার ১ নং ওয়াডে এখনো পানি রয়েছে। রাস্তায় পানি রয়েছে। আলীনগর এলাকায় পানি বাড়ায় কমলগঞ্জ ভায়া শমসেরনগর সড়কের আলীনগর গ্যাস পাম্পের সামনে সড়ক বন্যার পানিতে নিমজ্জিত।

উপজেলার প্রায় ৭টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। বৃষ্টি হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ায় আশঙ্কা রয়েছে। ঈদের আগ মুহুর্তে এমন আকস্মিক বন্যায় মানুষ জনের ঈদের আনন্দটা মাটি হয়েছে বলে বন্যায় আক্রান্তরা জানান।

এদিকে পানিতে উঠতি ফসল তলিয়ে গেছে। প্রায় ৮ শত হেক্টর আউস ফসল তলিয়ে গেছে। কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ বলেন, করিমপুর এলাকায় নদীর ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করায় পৌর এলাকার গোপাল নগর, করিমপুর, যুদ্ধাপুর ও নাগড়া গ্রামের তিনশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব এলাকায় প্রাথমিকভাবে কিছু ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ চলছে।

মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালিব তরফদার জানান, ধলাই নদীর বাদে করিমপুর ও সুরানন্দপুর এলাকায় সৃষ্ট ভাঙনে প্রায় ৮০টি পরিবার বিধ্বস্ত হয়েছে। ৫ শতাধিক হেক্টর আউশ ফসল পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলাতির কারণে যথাসময়ে ধলাই নদীর ভাঙন মেরামত না করায় এবার বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। ধলাই নদীর ভাঙ্গা বাঁধ মেরামতের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।

আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন জানান, নদীর একাধিক স্থানে ভাঙনের ফলে ঘোড়ামারা, খেওয়ানিঘাট, কান্দিগাঁও, বন্দরগাঁও, মধ্যভাগ, হেরেঙ্গাবাজার গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নদীর পানি এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, করিমপুর এলাকার প্রায় দেড়শ ফুট ভাঙন পরিদর্শন করেছি। ১২৫টি পরিবারকে চাল দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এ দিকে সতর্কতার সাথে নজরদারী করছে। আপাতত কয়েকটি এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।


আরো সংবাদ