২২ জুন ২০১৮

মৌলভীবাজারে বন্যায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি

নদীর বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকছে। ছবি - নয়া দিগন্ত।

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু নদী ৪টি ও ধলাই নদী ২টি স্থানে ভয়াবহ ভাংগন দেখা দিয়েছে। এতে করে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার ৪০টি গ্রামের অর্ধলাখ মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন। সেই সাথে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এদিকে অনেকের বাড়ি ঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়াতে গবাদি পশুসহ পরিবার পরিজন নিয়ে মনু ও ধলাই নদীর বাঁধের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যা কবলিত লোকজনের অভিযোগ এখন পর্যন্ত তাদের কেউ খোঁজ নেয়নি। স্থানীয় লোকজন বলছেন, মনু ও ধলাইর পানি ক্রমশ বাড়ছে। এতে নদী তীরবর্তী মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের ভোলানগর গ্রামের শাহজাহান মিয়া জানিয়েছেন, বুধবার মধ্যরাতে আকস্মিকভাবে তার ঘরের পাশের মনু প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় তিনশত ফুট ভেঙ্গে যায়। মুহুর্তেই শাহজাহানের তিনটি বসতভিটা পানির তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এ ভাংগনে কামারচাক ইউনিয়নের প্রায় ৭টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকেই মনুর বাঁধে গবাদিপশুসহ আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যা কবলিত লোকজনদের অভিযোগ এখনো তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। এদিকে কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর,বালিয়া ও তেলীবিল এলাকায় মনুনদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাংগন দেখা দিয়েছে। এ ভাংগনে এই উপজেলার ২০টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদী করিমপুর ও মুন্সিবাজারের সুরানন্দনপুর এলাকায় ভাংগনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে কমলগঞ্জ পৌর এলাকাসহ ১৩টি গ্রাম বন্যা কবলিত।

মনুনদী মনু রেলওয়ে ব্রীজের কাছে বিপদ সীমার এক দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার এবং শহরের চাঁদনীঘাট এলাকায় ১০ দশমিক ৭১ সেন্টিমিটার বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানে বৃষ্টিপাতের কারনে খরস্রােতা এ নদী দুটিতে অস্বাভাবিক পানি বাড়ছে।


আরো সংবাদ