১৬ আগস্ট ২০১৮

সীমান্ত থেকে লটারির নামে ভারতে টাকা পাচার

সীমান্ত থেকে লটারির নামে ভারতে টাকা পাচার। -

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভারতের সীমান্তবর্তী উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মহেষখলা, বাঙ্গাল বিটা, গুলগাঁও ও তার আশপাশ এলাকায় তীরখেলা লটারির নামে ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ভারতে পাঁচার হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন ভারতের সীমান্তবর্তী উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মহেষখলা বাজার ও আশপাশ এলাকা, গুলগাঁও বাজার ও আশপাশ এলাকায় তীরখেলা লটারির নামে ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ভারতে পাঁচার হচ্ছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়।

এসব তীর খেলা লটারির উদোক্তারা হলেন, ভারতে পাঁচার কারি কালো বাজারি স্থানীয় সঙ্ঘবদ্ধ একটি চক্র কখনো রাতের অন্ধকারে ভারতীয় মূল্যবান কাঠ পাচার, কখনো কয়লা পাচার, কখনো চোরাই পথে ভারতীয় গরু আমদানী কাজে নিয়োজিত রয়েছে স্থানীয় শক্তিশালী একটি চক্র।

এসব কালোবাজারী ব্যবসার পাশাপাশি ভারতের একটি শক্তিশালী চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে তীরখেলা লটারির নামে ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ভারতে পাঁচার করছে বলে একাধিক সূত্র জানান।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে মহেষখলা ও গুলগাঁও বাজার ও আশপাশ এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, ভারতীয় গরু, মূল্যবান কাঠ কয়লা ও ইয়াবা ট্যাবলেট পাচারকারি চক্রের গর্ডফাদার সাউতপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদির, জব্বারসহ সঙ্ঘবদ্ধ একটি চক্র এসব কালোবাজারি ব্যবসার সাথে জড়িত। তারাই সাউতপাড়া গ্রামের ছাত্তার মেম্বারের ছেলে হযরত আলীসহ তাদের নিয়োগ প্রাপ্ত এলাকার কিছু এজেন্টার ওই ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে রাস্তার পাশে চায়ের দোকানে-পানের দোকানে বসে তীরখেলা লটারির নম্বর কাটার নামে গ্রামের সাধারন মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভারতে পাচার করছে বলে সূত্র জানান।

ভূক্তভোগীরা জানান, তারা সাধারন মানুষকে ধোকাদিয়ে তীরখেলা লটারির অজুহাতে নম্বর কাটার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ওই টাকা ভারতে পাচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তীরখেলাটি প্রতি সপ্তাহে একদিন ভারতে ড্র হয়। এতে যে ব্যক্তি বিজয়ী হবে সেই ব্যক্তির নম্বর ইন্টার নেটের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারবে। এতে এ পর্যন্ত কারো ভাগ্য পরিবর্তনের সংবাদ পাওয়া যায়নি। তীরখেলা লটারির নম্বর কাটে এলাকার লোকজন এখন সর্বশান্ত হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় চুরি ডাকাতি, মাদক ব্যবসায় জরিয়ে পড়েছে অনেকেই। এখন ইয়াবা, ফেন্সিডিল, মদ, গাঁজা আমদানীর নিরাপদ স্থান মহেষখলা-গুলগাঁও এলাকা।

এব্যাপারে উত্তর বংশীকুন্ডা ইউপি চেয়ারম্যান মো: বিল্লাল হোসেন তিনি সত্ত্বতা শিকার করে বলেন ওই তীরখেলা লটারি বন্ধ করার জন্য আমি কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েছি। এতে কয়েকদিন নিরব থাকলেও পুনরায় আবার যেই সেই। বিধায় আমি ব্যর্থ হয়েছি।

মধ্যনগর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মো: সেলিম নেওয়াজ সত্যতা শিকার করে বলেন, লোকজনের মাধ্যমে শুনেছি একটি প্রতারক চক্র ভারতের সিমান্তবর্তী মহেষখলা ও এর আশপাশ এলাকায় তীরখেলা লটারির নামে লাখ লাখ টাকা ভারতে পাচার করে আসছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা একাধিকবার চেষ্টা করেও তাদেরকে পাইনি। তবে আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে।


আরো সংবাদ