২১ অক্টোবর ২০১৮

বয়োবৃদ্ধ এক রিকশাচালকের সততা

বয়োবৃদ্ধ এক রিকশাচালকের সততা - ছবি : সংগৃহীত

সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে ৮৫ হাজার টাকা কুড়িয়ে পেয়ে তা ফিরিয়ে দিয়েছেন আক্তারুজ্জামান নামের এক বয়োবৃদ্ধ রিকশাচালক। সোমবার বেলা ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। আক্তারুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণা জেলায়। তিনি বেশ কিছু দিন ধরে সিলেটে বসবাস করছেন।

কুড়িয়ে পাওয়া টাকা জিন্দাবাজারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম. সাজ্জাদুল হাসান ও উম্মে সালিক রুমাইয়ার নেতৃত্বে চলমান ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে জমা দিয়েছেন আক্তারুজ্জামান। পরে যাচাই বাছাই করে প্রকৃত মালিককে টাকা বুঝিয়ে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জানা যায়, জিন্দাবাজারস্থ ইত্যাদি ফেব্রিক্সের মালিক তার দোকানের কর্মচারী রুবেলকে প্রাইম ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পাঠান। টাকা তুলে সোমবার পৌনে ২টার দিকে দোকানে ফেরার পথে তা হারিয়ে ফেলেন রুবেল।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদুল হাসান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সোমবার বেলা ২টার দিকে জিন্দাবাজারে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সামনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছিল। এ সময় রিকশাচালক আক্তারুজ্জামান টাকা নিয়ে আমাদের কাছে আসেন। তিনি টাকা কুড়িয়ে পেয়েছেন উল্লেখ করে জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখে তিনি টাকা এখানে নিয়ে এসেছেন।

সাজ্জাদুল হাসান বলেন, আমরা টাকা পেয়ে গুণে দেখি ৮৫ হাজার টাকা। তখন প্রকৃত মালিক যাতে টাকা পায়, সেজন্য টাকার অঙ্ক আমরা গোপন রাখি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রুবেল নামের এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে বলেন, তার টাকা হারিয়েছে, এখানে রিকশাচালক টাকা পেয়েছে শুনে তিনি এসেছেন। তিনি জানান, প্রাইম ব্যাংক থেকে কিছুক্ষণ আগে টাকা তুলেছেন তিনি। তখন আমরা রুবেলকে নিয়ে প্রাইম ব্যাংকে যাই, সিসিটিভির ফুটেজ দেখি এবং টাকার রশিদ মিলিয়ে সত্যতা পাওয়ায় টাকা তাকে বুঝিয়ে দেই।

রিকশাচালক আক্তারুজ্জামানের সততা প্রশংসনীয় ও বর্তমান সময়ে বিরল বলেও মন্তব্য করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদুল হাসান।

সিলেটে মাদক পাচারের মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

সিলেটে হেরোইন পাচারের মামলায় সোমবার দুপুরে দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন মহানগর দায়রা জজ আদালত। একই সাথে উভয়কে আরও ১ লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত ২ ব্যক্তি হলেন, বিয়ানীবাজার উপজেলার টিকরপাড়া-উত্তরভাগ গ্রামের তমছির আলীর পুত্র পারভেজ আলম সুজন (২৬) ও রাজ্জাকপুর গ্রামের মুহিব আলীর পুত্র হোসেন আহমদ মানিক (৫১)। এর মধ্যে হোসেন আহমদ মানিক জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। পারভেজ সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক আছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দন্ডিত আসামীরা দেশী-বিদেশী মাদক পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে তাদের নামে পাকিস্তান থেকে ৮ কেজিরও বেশি হেরোইন আসে ডাকযোগে। দক্ষিণ সুরমা পোস্ট অফিসে হেরোইন ধরা পড়ার পর পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের গ্রেফতার করে ২০ মে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের মামলাদায়ের করা হয়।

দীর্ঘ শুনানী শেষে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মফিজুর রহমান ভূঁইয়া উভয় আসামিকে মৃত্যুদন্ডাদেশের পাশাপাশি আরও ১ লাখ টাকা করে জরিমানার দন্ডাদেশ ঘোষণা করেন।

আদালতের পিপি মফুর আলী জানান, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ পাকিস্তানের লাহোর থেকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বৈদেশিক ডাক বিভাগের ঠিকানায় চার জনের নামে একটি পার্সেল আসে। পরে তা ডাক বিভাগের সুপারভাইজার খুললে তাতে ৮ কেজি ৪৫ গ্রাম হেরোইন দেখতে পান। পার্সেলে উল্লেখিত নাম ঠিকানা যাচাই বাছাই করে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি জানান, ঠিকানার সঙ্গে লেখা মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ হোসেন আহমদ মানিক ও পারভেজ আলম সুমনকে সনাক্ত করে। পরে জানা যায় তারা পাকিস্তান থেকে হেরোইন এনে যুক্তরাজ্যে পাচার করতেন। এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৩ মার্চ বৈদেশিক ডাক বিভাগের শুল্ক ইউনিটের সহযোগী রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য আইনের ১৯ (১) ধারায় দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি নিয়মিত মামলা রজু করেন। পরে পুলিশ পরিদর্শক জমশেদ আলম ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর এই দুই জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

সিলেটে মৃদু ভূমিকম্প

সিলেটে অঞ্চলে সোমবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে, সিলেট নগরীর বেশিরভাগ মানুষই ভূমিকম্প অনুধাবন করতে পারেননি। এ ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিলেট আবহাওয়া অধিদফতরের সুত্রে জানা গেছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯।


আরো সংবাদ