১৬ আগস্ট ২০১৮

হোটেলে রাত্রিযাপন, অতঃপর প্রেমিকসহ ৪ জনের গণধর্ষণ

হোটেলে রাত্রিযাপন, অতঃপর প্রেমিকসহ ৪ জনের গণধর্ষণ - ছবি : সংগৃহীত

কুলাউড়া শহরের স্টেশন রোডে একটি আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপনের কথা বলে গত শুক্রবার রাতে কথিত প্রেমিক ও তার সহযোগীরা এক তরুণীকে গণধর্ষণ করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। গতকাল রোববার তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ ও নির্যাতনের শিকার তরুণী জানান, কুলাউড়া পৌরশহরের মধ্য চাতলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সামী আহমদ (২২) সাভারের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। সেখানে সহকর্মী তরুণীর (২০) সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত শুক্রবার সামী ওই তরুণীকে বেড়ানোর কথা বলে সিলেটে নিয়ে আসে। সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বেড়িয়ে ওই দিন রাতের ট্রেনে কুলাউড়ায় পৌঁছে স্টেশন রোডের আজাদ বোডিং নামক আবাসিক হোটেলে ওঠে। রাতে সামীসহ তার সহযোগী আল আমিন, শাহান ও সিলেটের মোগলাবাজারের কাশেম (২২) তরুণীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৩টায় পুলিশ ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করে। তবে কাশেম পালিয়ে যায়।

আটক ব্যক্তিরা হলো- কুলাউড়া পৌরশহরের মধ্য চাতলগাঁও এলাকার বাসিন্দা সামী আহমদ, একই উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের শ্রীপুরের মো: আল আমিন, সিলেটের মোগলাবাজারের শাহান আহমদ ও হোটেলের কর্মচারী (বয়) খোকন মিয়া। ওই তরুণী জানান, অভাবের তাড়নায় বছর খানেক আগে তিনি সাভারের পোশাক কারখানায় চাকরিতে যোগ দেন। প্রেমের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন। ছয়জনকে আসামি করে এ ব্যাপারে থানায় মামলা করা হয়েছে।

কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিনয় ভূষণ রায় জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আটক সামী, আল আমিন ও শাহান ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তরুণীকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কালিহাতীতে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণের শিকার

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মালতী গ্রামে তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে গত শনিবার রাতে কালিহাতী থানায় মামলা করেছেন। ওই ছাত্রীকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে গত সোমবার প্রতিবেশী মাহবুব হোসেন নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরে মাহবুব। পরে এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য মেয়েটিকে হুমকি দেয় সে। ওই দিন বিকেলে ছাত্রীর মা বিষয়টি জানতে পেরে নারান্দিয়ায় নিয়ে মেয়েটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অবশেষে মেয়েটির বাবা বাদি হয়ে গতকাল রোববার রাতে কালিহাতী থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে মাহবুব পলাতক রয়েছে।

আরো পড়ুন :
চাঁদাবাজি করতে গিয়ে নারীসহ চার সাংবাদিক আটক
মোহাম্মদ আলী ঝিলন ( গাজীপুর)

গাজীপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে খাবার হোটেলে টাকা দাবী করায় এক নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কিশোরগঞ্জ জেলার তারাইল থানার ধলা গ্রামের প্রলাপ কুমার পালের স্ত্রী শুভ্রা বিশ্বাস (৪২) (কালের দহন), পিরোজপুর জেলার পশ্চিম রাজপাড়া এলাকার এমএ হাফিজের ছেলে মো. সুমন হোসেন(২৬) (অপরাধ সন্ধানে), লালমনিরহাটের থানাপাড়া এলাকার ডা. আনছার আলীর ছেলে মো. মাহবুব আনছারী (৪৫) (প্রথম বার্তা) এবং দিনাজপুরের কোতোয়ালী থানার সুন্দরবন এলাকার রইসুল আলমের ছেলে মো. মিজানুর রহমান (৪০) (বর্তমান বাংলাদেশ ২৪ ডটকম)।

জয়দেবপুর থানার এসআই আব্দুল মোত্তালিব জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বাদে কলমেশ্বর গণি রোডের ভূষির মিল এলাকার মনির হোটেল নামের একটি খাবারের রেস্টুরেন্টে একটি চক্রের নারীসহ ৪/৫জন সদস্য যায়। এসময় তারা নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেয় এবং প্রশাসন ও অফিস এ্যাসাইনম্যান্টের মিথ্যা কথা বলে হোটেলের নানা দোষ-ত্রুটি বের করে। এরপর তারা বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে হেনস্তা করতে থাকে।

এক পর্যায়ে তারা হোটেলের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা দাবী করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় এক সাংবাদিক পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক নারীসহ ওই চারজনকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে ক্যামেরা, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের পরিচয়পত্র, কয়েকটি পত্রিকা, ব্যাগ ও মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হোটেল মালিক মনির হোসেন বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ গ্রেফতারকৃতদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। 


আরো সংবাদ